আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদৌ কি আদায় হবে?

0

ভুয়া মর্টগেজ (বন্ধক) ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। এই ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ব্যাংকটির খিলক্ষেত শাখা। এসব ঋণ ভুয়া কাগজপত্রে হওয়ায় ঋণের টাকা আদায় করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। নিজেদের গচ্ছিত টাকা এভাবে পানিতে চলে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। তাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন-এসব ঋণের টাকা আদৌ কি আদায় করতে পারবে ব্যাংক। নাকি সারা জীবনের সম্বল এভাবে এক নিমিষে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে হবে।

এদিকে ভুয়া কাগজে ঋণদাতা চক্রটি বিষয়টিকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নজর থেকে আড়ালে রাখতে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। আর এই চক্রের মধ্যে শাখাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাই রাখে না-এমন একাধিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকটির খিলক্ষেত শাখা ২০০০ কোটি, ১৭০০ কোটি, ১৪০০ কোটিসহ আরো কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মর্টগেজ বা বন্ধকি কাগজপত্র সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তৈরি করা। বেশির ভাগ বন্ধকি সম্পত্তির বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। স্থানীয় ভূমি অফিস ও তফসিল অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব মর্টগেজ সম্পত্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিছু কিছু মর্টগেজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় দলিলপত্র সম্পূর্ণ ভুয়া।

সূত্র জানায়, অবৈধ দলিলপত্রে ঋণ নেয়া একটি কোম্পানি নানা কৌশলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে তাদের নিজস্ব লোক বসিয়ে রেখেছে। যাদের কাজ হচ্ছে ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পাচার এবং ভুয়া ঋণ গ্রহীতাদের ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান। ব্যাংকটির একটিমাত্র শাখা থেকে এত বড় বড় অংকের ঋণ প্রদান নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এভাবে একটি ব্যাংককে পথে বসিয়ে দিয়ে কতিপয় সিন্ডিকেটের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আড়ালে রাখা হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে নানা কৌশলে ব্যাংকটির হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে সরিয়ে নেয়ার খবরে গ্রাহকদের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা গিয়েছে। তারা তাদের আমানতসহ বিভিন্নভাবে রাখা টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ভিড় করছেন। এই ব্যাংকটিকে তারা আর নিরাপদ মনে করছেন না। বিভিন্ন শাখার ম্যানেজার ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। হাত-পা ধরে অনুরোধ করছেন আমানত তুলে না নিতে। কিন্তু গ্রাহকরা তাদের এই কথায় আস্থা রাখতে পারছেন না।

ব্যাংকটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আল-আরাফাহ ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখা থেকে কিভাবে ‘আনলিমিটেড’ ঋণ পাস হলো- তা নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্ব মহলেই ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তারা ইতোমধ্যেই মাঝারি স্তরের কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি জানতে চাইছেন। কিন্তু দুর্ধর্ষ ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ ভয়ে সেই কর্মকর্তাদের কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

এদের মধ্যেই কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘চক্রটি খুবই ভয়ঙ্কর। আমাদেরও তো জীবন আছে। স্ত্রী-সন্তান আছে। ওই চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খুললে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই আমরা মনে করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বড় বড় সব ঋণের মর্টগেজ ডকুমেন্ট যাচাই-বাচাই করা। ভূমি অফিস-তফসিল অফিসে দেয় ঋণের কাগজপত্রগুলো যাচাই করা। তবে এরচেয়ে ভালো হবে, দেশের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যদি কোনো বিশেষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। তাহলেই নিশ্চিত, থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে।’

সোর্স: মানব কন্ঠ।
– মূল সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

Leave a Reply