অ্যান্ড্রয়েড

যে ৫ কারণে হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো কিনবেন?

টিআইবিঃ বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজারে সব দিক থেকেই হুয়াওয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো ডিভাইসকে পারফেক্ট মনে করা হচ্ছে। আসুন আজ জেনে নেই যে পাঁচটি কারণে প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো ডিভাইসটি কিনবেন?

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।
প্রথম: ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো কেনার প্রথম কারণ হিসেবে এর ক্যামেরাকে উল্লেখ করব। প্রকৃত ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা ডিভাইসটিকে বাজারে অন্য যেকোনো স্মার্টফোন থেকে আলাদা করেছে। এতে ৪০ মেগাপিক্সেল কনভেনশনাল ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, ৮ মেগাপিক্সেল টেলিফটো এবং ২০ মেগাপিক্সেলের সুপার ওয়াইড অ্যাঙ্গেলের লাইকা ট্রিপল লেন্স রিয়ার ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। ডিভাইসটির তিন ক্যামেরা এবং অ্যাডাপ্টিভ ডুয়াল টোন ফ্ল্যাশ বসানো হয়েছে বর্গাকারে, যা ব্যাক প্যানেলের নকশায় বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। ডিভাইসটির মাধ্যমে পরিচয় করানো হয়েছে হুয়াওয়ের লং এক্সপোজার শট মোড এবং অ্যাপারচার শিফটিং অপশন।

দ্বিতীয়: ৭ ন্যানোমিটার কিরিন ৯৮০ প্রসেসর

মেট ২০ প্রোতে হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৯৮০ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, যা তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক ৭ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

কিরিন ৯৮০ প্রসেসর কার্যক্ষমতা বিবেচনায় কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসরকে পেছনে ফেলেছে। বাজারের বেশির ভাগ ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসে স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ ব্যবহার হচ্ছে। মেট ২০ প্রোতে গতির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, গ্রাফিকসের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ এবং সামগ্রিক কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ উন্নত অভিজ্ঞতা মিলবে। ৬ গিগাবাইট র্যামের এ হ্যান্ডসেটে ১২৮ গিগাবাইট অভ্যন্তরীণ তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা মিলবে, যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

তৃতীয়: আকর্ষণীয় ডিজাইন

সর্বাধুনিক প্রযুক্তির হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো এর নকশায় মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে হুয়াওয়ে, যা এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন প্রেমীদের নজর কেড়েছে। গ্লাস ডিজাইনের এ হ্যান্ডসেটে ৬ দশমিক ৩৯ ইঞ্চির কোয়াড এইচডি প্লাস ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। আইপি ৬৮ রেটিংসের এ ফোন ধুলা ও পানিরোধী। নচ ডিসপ্লে ব্যবহার করায় ডিভাইসটিতে সামান্য বেজেল রাখা হয়েছে। যে কারণে তুলনামূলক বড় ডিসপ্লের হলেও ডিভাইসটির আকার অনেকটাই ছোট করা সম্ভব হয়েছে। কাজেই খুুব সহজে হাতের মুঠোয় ধরে ডিভাইসটি ব্যবহার করা যাবে।

চতুর্থ: ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও থ্রিডি ফেস আনলক

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো তে থ্রিডি ফেস আনলক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর আগে আইফোন টেনে দেখা গিয়েছিল। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ফেস আনলক প্রযুক্তি ব্যবহারকারীকে কখনো বিভ্রান্ত করবে না। তবে আইফোনের দশকপূর্তি সংস্করণের ফেস আনলক প্রযুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

ফেস আনলকের জন্য হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রোতে ডট প্রজেক্ট, টিওএফ প্রোক্সিমিটি সেন্সর, ফ্লাড ইলুমিনেটর এবং আইআর ক্যামেরার সমন্বয়ে তৈরি ২৪ মেগাপিক্সেলের সেন্সর রয়েছে।

পঞ্চম: দ্রুত ও রিভার্স চার্জিং

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো ফোনে রয়েছে ৪২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি, যা দীর্ঘ সময় পাওয়ার ব্যাকআপ দেবে। ডিভাইসটি ওয়্যারলেস দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি সমর্থন করবে, যা আইফোন এক্সএস ম্যাক্সের চেয়ে ২ গুণ দ্রুত চার্জ করবে। পাশাপাশি রিভার্স রিচার্জিং সিস্টেমের মাধ্যমে চার্জ ফুরিয়ে গেলে আরেকটি মেট সিরিজের স্মার্টফোনের পাশে ধরেই রিচার্জ করা যাবে। এ স্মার্টফোনে অ্যাপ লক প্রযুক্তি দেয়া হয়েছে, যা ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেসের সাহায্যে আনলক করা যাবে।

মেট ২০ প্রো আনটুটুর বেঞ্চমার্ক রেটিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ফোনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। এতে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই ব্যবহার করা হয়েছে।

ডিভাইসটির ক্যামেরা দিয়ে মাত্র আড়াই সেন্টিমিটার দূরত্বেও স্বচ্ছ ছবি তোলা যাবে। এর ক্যামেরা শুধু ছবি তোলার জন্য নয়, বিভিন্ন তথ্য দিয়েও সহযোগিতা করবে। যেমন কোন খাবারে কী পরিমাণ ক্যালরি আছে, তা জানিয়ে দেবে ডিভাইসটি। ছবি তুলে সেটি ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে। তাই নিঃসন্দেহে হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো কিনতে পারেন।

Leave a Reply

Back to top button