অ্যাপল যে কারণে আইফোনের দাম বাড়ায়?

0
32

টিআইবিঃ আইফোনের ক্ষেত্রে একটি কথা হরহামেশা শোনা যায় যে, বেশি মুনাফার আশায় আইফোনের দাম বাড়িয়ে চলেছে অ্যাপল। দামের অংক বিবেচনায় এ দাবি অকাট্য হলেও বাস্তবে তা স্রেফ অনুমান।

আইফোনের মূল্যবৃদ্ধিতে অ্যাপলের অর্থলিপ্সা যতটা না দায়ী, তার চেয়ে বড় ভূমিকা আছে উৎপাদন খরচের। উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি নতুন নতুন ফিচার যোগ করতে গিয়ে আইফোন তৈরির খরচ বাড়ছে। এতে গ্রাহকপর্যায়ে আইফোনের দাম বাড়ানোর পরও মুনাফা কমছে অ্যাপলের।

সাধারণত ফ্ল্যাগশিপ আইফোন বাজারে ছাড়ার পর নতুন সংস্করণ এনে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়ায় অ্যাপল। এই যেমন ২০১৭ সালে প্রথম বাজারে ছাড়ার সময় আইফোন এক্সের দাম ছিল ৯৯৯ ডলার। পরে এ ফোনের আরেকটি সংস্করণ বাজারে ছাড়া হয়, যার দাম নেয়া হয় ১ হাজার ১৪৯ ডলার। একইভাবে প্রথম বাজারে ছাড়ার সময় আইফোন সেভেনের দাম ৬৪৯ ডলার হলেও পরে তা বেড়ে ৮৪৯ ডলারে পৌঁছে যায়।

আরোও পড়ুনঃ
>> আইফোনে ফ্ল্যাশলাইট এর ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্ট করবেন যেভাবে?
>> ই-সিম কি? ই-সিম কিভাবে কাজ করে এবং এর সুবিধা সমূহ!

সমালোচকদের দাবি, বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে মন্দার মধ্যেও আয় ধরে রাখতেই এ কৌশল বেছে নিয়েছে অ্যাপল। এতে মনে হতে পারে দাম বেশি নেয়ার জন্য একই ফোনের নতুন সংস্করণ বাজারে ছাড়ে অ্যাপল। তবে বাস্তবতা হলো, আইফোনের নতুন সংস্করণে আরো উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করে অ্যাপল। এসব পরিবর্তন উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। যেমন প্রথম বাজারে ছাড়ার সময় আইফোন এক্সের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ছিল ৬৪ জিবি। আর ১ হাজার ১৪৯ ডলারের আইফোন এক্সের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ছিল ২৫৬ জিবি।

মুনাফা হিসাব করার একটি উপায় হলো গ্রস মার্জিন বের করা। সাধারণত পণ্য বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা আয় থেকে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে তাকে আয় দিয়ে ভাগ করলে যা পাওয়া যায়, তাই গ্রস মার্জিন। ২০১৭ অর্থবছরে অ্যাপলের গ্রস মার্জিন ছিল ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে কোম্পানিটির গ্রস মার্জিন ২ বেসিস পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ ২০১৭ সালে আইফোন থেকে অ্যাপলের আয় ছিল ১৪ হাজার ১৩২ কোটি ডলার। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ১৬ হাজার ৬৭০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। মূলত আয় বাড়ার কারণ এ সময়ে আইফোনের গড় মূল্য বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে খরচ বেড়ে যাওয়ায় গ্রস মার্জিন বা লাভ বাড়েনি।
সূত্র: ইয়াহু ফিন্যান্স

Leave a Reply