হোমএক্সক্লুসিভব্যাংকিং প্রতারণা বা হয়রানিঃ কোথায় কীভাবে অভিযোগ করবেন

ব্যাংকিং প্রতারণা বা হয়রানিঃ কোথায় কীভাবে অভিযোগ করবেন

ব্যাংকিং সেবা পাওয়া আপনার অধিকার। কোনো কারণে ব্যাংকে গিয়ে প্রতারণা বা হয়রানির শিকার হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। হয়রানির বিষয়টি নিয়ে আপনি ব্যাংকের শাখার সব পর্যায়ে কথা বলেও কোনো প্রতিকার পেলেন না। এরপর চাইলে আপনি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। অবশ্য সংশ্নিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় বা আঞ্চলিক কার্যালয়েও অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ কীভাবে করতে হয় না জানার কারণে হয়তো প্রতিকার না পেয়ে ব্যাংক ছেড়ে দিলেন কিংবা ব্যাংক বদল করে আরেক ব্যাংকে গেলেন। এ রকম ক্ষেত্রে টেলিফোন, ই-মেইল, মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন।

আরও দেখুন:
কর্মীবান্ধব বেসরকারি খাতই কাম্য
ব্যাংকারদের বেতন ও ছাঁটাই ইস্যুতে অনড় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

জেনে নিন অভিযোগ করার পদ্ধতি। অভিযোগের ধরন ভেদে আপনি কোন মাধ্যমে অভিযোগ করবেন সেটি আগে ঠিক করবেন। হয়তো আপনার সমস্যাটি তাৎক্ষণিক সমাধান করার মতো। তাহলে দেরি না করে টেলিফোনে অভিযোগ করুন। টেলিফোনে অভিযোগের ক্ষেত্রে অফিস চলা অবস্থায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ‘১৬২৩৬’ এই নম্বরে টেলিফোন করতে হবে। এটি একটি অটো হান্টিং তথা একাধিক ফোনে যুক্ত নম্বর। যখন যেটি খালি থাকবে সেখানে যাবে। ফলে একই সময়ে একাধিক অভিযোগকারী টেলিফোনে কথা বলতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নম্বরটি পাঁচটি টেলিফোনে যুক্ত। অবশ্য লোকবল কম থাকাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক সময় এই নম্বরটি অকেজো রাখা হয়।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

সাধারণভাবে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল বা সঞ্চয়পত্র কিনতে গিয়ে না পাওয়া কিংবা সাধারণ ব্যাংকিং সেবার তথ্য না পেলে টেলিফোনে অভিযোগ করতে পারেন। অনেকেই জানেন না যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি শাখায় ছেঁড়া, ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোট বদল করে দেওয়ার কথা। একটি নোটের নূ্যনতম ৫০ শতাংশের বেশি ঠিক থাকলেই আপনি হার অনুযায়ী টাকা পাবেন। নোটের ৯০ শতাংশের বেশি থাকলে পুরো টাকা পাবেন। ছেঁড়ার পরিমাণ কম হলে তাৎক্ষণিভাবে নোট বদলে দেওয়ার কথা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির পরও ব্যাংকের অনেক শাখা এ ধরনের নোট বদল করে দিতে চায় না। আপনি হয়তো এমনই একটি শাখার গ্রাহক। সেখানকার কোনো হিসাবে টাকা জমা দিচ্ছেন। তাতে কোনো একটি নোটের সামান্য অংশ ছেঁড়া থাকলেও ব্যাংক না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়। আবার ব্যাংকের সব শাখায় সঞ্চয়পত্র বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও অনেক শাখা দিতে চায় না। কিংবা ওই ব্যাংকের সুদহার বা সেবা মাশুল কেমন আপনি তথ্য চেয়েও হয়তো পেলেন না। এ রকম সাধারণ ব্যাংকিং সেবা সংক্রান্ত হয়রানির অভিযোগ আপনি টেলিফোনে জানিয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান পেতে পারেন।

সাধারণ সেবার বাইরে যে কোনো অভিযোগের জন্য আনাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরো অভিযোগটি লিখিতভাবে bb.cipc@bb.org.bd এই ঠিকানায় ই-মেইল করতে পারেন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগে ক্ষেত্রে গুগল অ্যাপ-স্টোর থেকে ‘বিবি কমপ্লেইন্ট’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ফরমেটে অভিযোগ করতে হবে। ডাকযোগে পাঠিয়ে বা সশরীরে গিয়ে অভিযোগ করার ক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে প্রধান কার্যালয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বরাবর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে প্রথমে ওয়েবপেজে ঢুকে সেখানকার ইংরেজিতে ‘সার্ভিস’-এর ঘরে কাস্টমার কমপ্লেইনের ওপর ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি তথ্য ফরম আসবে। সেটি পূরণ করে সাববিট করতে হবে। তথ্য ফরমে প্রথমেই লিখতে হবে আপনার অভিযোগের ধরন। এরপর যে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তার নাম ও শাখার নাম লিখতে হবে। আপনি যে বিষয়ে অভিযোগ করছেন তা উল্লেখ করতে হবে। এর ঠিক নিচের ঘরে অভিযোগের বিস্তারিত লিখতে হবে। এরপর আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা দিতে হবে। সেখানে অভিযোগের পক্ষে কোনো ডকুমেন্ট দিতে চাইলে দেওয়া যাবে। সবশেষে আপনি যদি অন্য কোনো বিষয় উল্লেখ করতে চান তা লিখতে হবে। এসব ঘরের কোনো একটি পূরণ না করলেও তাতে সমস্যা নেই। তবে আপনার সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনে নিজের নাম, পরিচয়, টেলিফোন নম্বর দেওয়া ভালো। আপনি চাইলে নাম-ঠিকানা প্রকাশ না করেও কোনো বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। সেটি আমলযোগ্য হলে তা নিয়ে অনুসন্ধান করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও সংশ্নিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যে শাখায় আপনি সমস্যায় পড়েছেন সেখানেই অভিযোগ সেল সম্পর্কে তথ্য নিতে পারবেন। ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকেও তথ্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেখানে ব্যাংকের অভিযোগ সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাবেন। প্রধান কার্যালয় বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অভিযোগ সেলে যোগাযোগের ঠিকানা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল, ফ্যাক্স ও ই-মেইল নম্বর পাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট