হোমব্যাংকারকর্মীদের প্রেষণায় যা কিছু করা প্রয়োজন

কর্মীদের প্রেষণায় যা কিছু করা প্রয়োজন

লেখকঃ সৈয়দ মছনুন আলী, ভাইস প্রেসিডেন্ট, হিউম্যান রিসোর্স ডিভিশন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড।

কর্মী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণশক্তি। প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে। সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতির সমাবেশ ঘটাতে পারে। বিশ্বমানের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে কিন্তু তারপরেও প্রতিষ্ঠান খারাপ অবস্থায় চলে যেতে পারে যদি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ্যকর্মী না থাকে। যদি ওই প্রতিষ্ঠানে মেধাসম্পন্ন কর্মী না থাকে। কারণ দিনশেষে সফটওয়্যার বলি আর আধুনিক যন্ত্রপাতি বলি যেটাই হোক না কেন এর নেপথ্যে কোনো না কোনো মানুষকে কাজ করতে হচ্ছে। সম্পূর্ণ অটোমেশন হলেও সেখানে পরিকল্পনা করার জন্য লোক লাগবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য লোক লাগবে। পৃথিবীতে কর্মীবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। তাই কর্মী নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।

একটি ভালো প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন ভালো কর্মী, যোগ্য কর্মী। ভালো কর্মী পাওয়া এবং তাঁদের ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন মোটিভেশন বা প্রেষণা। এটি ছাড়া কোনো ভালো কর্মী পাওয়া বা ধরে রাখা কোনোটিই সম্ভব নয়। আমি ব্যাংকিং সেক্টরের একজন এইচ.আর প্রফেশনাল হিসেবে এই সেক্টরের কর্মীদের প্রেষণার কিছু দিক নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। ব্যাংকিং সেক্টরে ভালো কর্মী আকর্ষণ করতে হলে অবশ্যই ভালো একটি প্যাকেজ থাকতে হবে।

আরও দেখুন:
ম্যানেজমেন্টের যে ভুলে হারিয়ে যান যোগ্য কর্মীরা
কর্মীদের উদ্দীপনা বেসরকারি ব্যাংক উন্নয়নে চালিকাশক্তি

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

বর্তমানে দেশে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে অনেকগুলো ব্যাংক রয়েছে। রয়েছে বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এই সেক্টরের চাকরির বাজারটি খুব ছোট সেটা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু এই সেক্টরে মেধাবী কর্মীর সংকট রয়েছে। ফলে নতুনদের আকৃষ্ট করতে হলে প্রথমত ভালো প্যাকেজ অফার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্র্যান্ড ইমেজ থাকতে হবে। কারণ কোনো মেধাবী ব্যক্তি খারাপ প্রতিষ্ঠানে তাঁর কর্মজীবন শুরু করতে চায় না। নতুনদের পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কোনো কর্মীকে আকৃষ্ট করার চিন্তা করলে সেখানেও প্রতিষ্ঠানের তথা ব্যাংকের ব্র্যান্ড ইমেজ একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হয়। কর্মরত কর্মীদের প্রেষণায় একটি ব্যাংকের এইচ.আর ডিভিশনকে কিছু বিষয় সব সময় বিবেচনায় রাখতে হয়।

কর্মীকে অবশ্যই ওই ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন যে কাজের সাথে তাঁর কোয়ালিটি ম্যাচ করে। এটি করা হলে কর্মী যেমন কাজ করে আনন্দ পাবে, ঠিক তেমনি প্রতিষ্ঠানও তাঁর নিকট থেকে সর্বোচ্চ আউটপুট পাবে।

কর্মীর পোস্টিং কোথায় হবে এটাও একজন কর্মীকে প্রেষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখে। কর্মীকে যদি ঢাকার বাইরে পোস্টিং দিতেই হয় তাহলে তাঁর জেলা বা বিভাগকে বিবেচনা করা যেতে পারে। ভিন্নধর্মী কোনো জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হলে অনেক সময় কর্মী সেটাকে তাঁর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে বলে বিবেচনা করে। এ কারণে অনেক সময় একজন ভালো কর্মীও প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করতে পারে।

কর্মীদের প্রেষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে অফিসের পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একইসাথে অফিসের বস কেমন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে অফিসের পরিবেশ এবং বস যেন কর্মীদের জন্য আতংকজনক বা ভীতিকর না হয় সেটাও ম্যানেজমেন্টকে সব সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রফিট বোনাস, বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি, কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা, উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ, ফ্যামিলি ডে ইত্যাদি বিষয়গুলোও একজন কর্মীকে দারুণভাবে প্রেষণা দিতে পারে।

আজকাল অনেক ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন প্রতিভাকে মূল্যায়ন করছে। কর্মীদের তোলা ছবি দিয়ে ক্যালেন্ডার তৈরি করছে। ভালো গান গাইতে পারলে তাঁদের গান দিয়ে অ্যালবাম তৈরি করছে। রান্নার মতো বিষয় নিয়েও প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।

কর্মীদের সন্তানদের বিভিন্ন সাফল্যে ব্যাংক থেকে অভিনন্দন জানানোর ব্যবস্থা করছে। ফ্যামিলি ডে পালন করে ব্যাংকের সকল কর্মীদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন তৈরি করছে। এগুলো সবই কর্মীদের সাথে প্রতিষ্ঠানের এক ধরনের বন্ধন তৈরি করতে সহায়তা করছে।

প্রতিষ্ঠানে যদি স্বচ্ছতা থাকে, কর্মীদের প্রতি যদি সুবিচার করা হয়, প্রতিষ্ঠানে যদি ভালোভাবে করপোরেট কালচারের চর্চা করা হয় তাহলে কর্মীরা অনেক বেশি নিরাপদ অনুভব করেন। তাঁরা বুঝতে পারেন কারো প্রতি অন্যায় করা হবে না। আবার কাউকে অহেতুক কোনো সুবিধা প্রদান করা হবে না। এই বিষয়টিও একজন কর্মীকে প্রেষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কর্মীদের প্রেষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপারভাইজার বা বস এর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মী যখন বুঝতে পারেন তাঁর বস বা সুপারভাইজার খুব ভালো, বস তাঁকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, বস তাঁর প্রতিটি বিষয় খেয়াল করেন, বস তাঁর নিকট বটবৃক্ষের মতো তখন ওই কর্মী প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনেক বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করেন। কিন্তু কোনো কর্মী যদি বসের নিকট থেকে এ ধরনের সহযোগিতা বা আচরণ না পান কিংবা বস বরং তাঁর অধীনস্ত কর্মীর ক্ষতি করার চেষ্টা করেন তাহলে ওই কর্মীর মধ্যে এক ধরনের যন্ত্রণা তৈরি হয়। এক সময় কর্মী প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। এ কারণে অনেক সময় বলা হয় কর্মীরা সাধারণত প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন না তাঁরা মূলত বসকে ত্যাগ করেন। বস যদি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেন তাহলেও এ ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

উপরের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় রাখলে কর্মীদের মনে কর্মোদ্দীপনা জেগে উঠে। প্রতিষ্ঠান সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট