ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তি কি? জেনে নিন ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক

0
244

টিআইবিঃ ইন্টারনেট ব্যবহারকে আরও সহজ করার উদ্দেশ্যেই মূলত ১৯৯৭ সালে ওয়াইফাই এর উদ্ভব হয়। বর্তমানে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, খেলনা, ড্রোনসহ প্রায় ৪ বিলিয়ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে ওয়াইফাই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। উদ্ভব এরপর থেকে ধীরে ধীরে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে উন্নতি হয়েছে প্রযুক্তির এ শাখারও। সেই উন্নয়নের ধারায় ২০১৯ সালে আসবে নতুন প্রযুক্তির ও দ্রুতগতির পরবর্তী প্রজন্মের ওয়াইফাই, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘ওয়াইফাই ৬’।

আজকে আমরা ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তি কি এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করবো।

নামকরণ

আগের ওয়াইফাই সংস্করণগুলোর নাম ছিল তিন বা চার অক্ষরের নম্বর। যা দেখে বোঝা যেত না কোনটি আগের আর কোনটির পরের প্রযুক্তির ওয়াইফাই। যেমন সর্বশেষ ওয়াইফাই প্রযুক্তির সংস্করণের নাম ‘802.11ac’। এ সংখ্যা থেকে ধারণা করা কষ্টকর এটি কত প্রজন্মের সংস্করণ। তাই ওয়াইফাই সংস্থা সংস্করণগুলোর নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। এরই অংশ হিসেবে এবার যষ্ঠ প্রজন্মের সংস্করণের নাম রাখা হচ্ছে ‘ওয়াইফাই ৬’। ২০১৯ সাল থেকেই আপনি বিভিন্ন ওয়াইফাই যুক্ত ডিভাইসে নিচের ভার্সনগুলো দেখতে পাবেন। সেক্ষেত্রে-

  • ২০০৯ সালে বের হওয়া 802.11n ওয়াইফাই প্রযুক্তির নাম হবে ওয়াইফাই ৪
  • ২০১৪ সালে বের হওয়া 802.11ac ওয়াইফাই প্রযুক্তির নাম হবে ওয়াইফাই ৫ এবং
  • ২০১৯ সালে বের হওয়া 802.11ax ওয়াইফাই প্রযুক্তির নামকরণ করা হবে ওয়াইফাই ৬।

ওয়াইফাই সংস্থার ঘোষণানুসারে, হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি বিভিন্ন সফটওয়্যারেও এখন ওয়াইফাইকে এ ধরনের নাম্বার হিসেবে দেখতে পাওয়া যাবে। এতে খুব সহজেই একজন কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বুঝতে পারবেন কোন ওয়াইফাই নেটওয়ার্কটি নতুন ও দ্রুতগতির।

ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তির সুবিধাঃ

বিভিন্ন সুবিধার কারণে ওয়াইফাই ৬ আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। নিচে ওয়াইফাই ৬ এর সুবিধা আলোচনা করা হল।

১. আরও গতিময়:

ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তিতে রয়েছে আরও কার্যকর ডাটা এনকোডিং প্রযুক্তি। এতে আগের সংস্করণের তুলনায় আরও গতিময় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যাবে। আগের সংস্করণের তুলনায় ৪০ শতাংশ দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার করতে সক্ষম এ প্রযুক্তি।

বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে নতুন ৫ গিগাহার্টজের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশসহ বহু দেশের বেশিরভাগ ইলেকট্রিক ডিভাইস এখনও পুরানো ২.৪ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।

নতুন ওয়াইফাই ৬ পুরনো এ নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রেও দ্রুত গতিতে ওয়াইফাই ব্যবহার করা যাবে।

২. বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ:

স্মার্টফোন বা ল্যাপটপসহ স্মার্ট ডিভাইসে ওয়াইফাই ব্যবহার করলে দ্রুত চার্জ ফুরিয়ে যায়। এ নিয়ে অনেকেই বিপাকে পরেন। এ সমস্যা সমাধানে ওয়াইফাই ৬-এ রয়েছে টার্গেট ওয়ার্ক টাইম (টিডব্লিউটি) নামের বিশেষ ফিচার।

যখন কোনো ডিভাইস ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, তখন ডিভাইসটিতে কখন ডাটা আদান-প্রদান হবে আর কখন হবে না, সেটির তথ্য জানাবে ফিচারটি। ফলে ব্যাটারি খরচ কমবে এবং অধিক সময় ব্যাকআপ সুবিধা পাওয়া যাবে।

৩. জনাকীর্ণ স্থানে আরও ভালো কার্যক্ষমতা:

বহু মানুষ একত্রে ওয়াইফাই ব্যবহার করছে এমন স্থানে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে ব্যবহারকারীরা কম গতির ইন্টারনেট সুবিধা পান। ওয়াইফাই ৬-এ এই সমস্যার সমাধান মিলবে।

ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তির মাধ্যমে জনাকীর্ণ এলাকায় প্রত্যেক ব্যবহারকারী আগের তুলনায় চার গুণ বেশি গতি পাবেন। ফলে স্টেডিয়াম, হোটেল, খেলার মাঠ, অনেক কর্মীর অফিস ও বাসায় একাধিক মানুষ একই নেটওয়ার্কে যুক্ত থেকে দ্রুত গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

ওয়াইফাই ৬ সুবিধা পেতে যা প্রয়োজন হবে?

এ তো জানা গেলো নতুন এই প্রযুক্তির সুবিধা। তবে এসব সুবিধা পেতে গেলে কী করতে হবে আপনাকে? হ্যাঁ, এসব সুবিধা পেতে হলে আপনার ডিভাইসটিকে নতুন এই ওয়াইফাই প্রযুক্তি সমর্থিত হতে হবে। আর সেজন্য এরপর থেকে নতুন কোনো ওয়াইফাই যুক্ত ডিভাইস কিনতে গেলে লক্ষ্য রাখবেন সেটি যেন ওয়াইফাই ৬ সমর্থিত হয়। সেক্ষেত্রে আপনাকে আর পুরনো 802.11ac কিংবা 802.11ax কোনটি ভালো বা কোনটি নতুন, এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে না। আপনি শুধু খেয়াল রাখবেন ডিভাইসটিতে ওয়াইফাই ৬ কিংবা ওয়াইফাই ৫ লেখা রয়েছে কি না।

ভবিষ্যতের ডিভাইসগুলোতে থাকবে ‘WiFi 6 Certified’ লোগো। ফলে খুব সহজেই বোঝা যাবে এটি নতুন প্রযুক্তি যুক্ত। পূর্বের ডিভাইসগুলোতে শুধু ‘WiFi Certified’ লোগো থাকতো, যা দেখে বোঝা যেত না যে এতে কোন ভার্সনের ওয়াইফাই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়াও নতুন ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তি যুক্ত রাউটারগুলোতে থাকবে নতুন প্রজন্মের WPA3 সিকিউরিটি, যা পূর্বের WPA2 থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।

কবে থেকে পাওয়া যাবে এই সুবিধা?

বর্তমানে বহু ওয়াইফাই রাউটার ইতিমধ্যে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে 802.11ax প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছে। তবে ওয়াইফাই ৬ হিসেবের এগুলোর বাজারজাত শুরু হয়নি এখনো। ওয়াইফাই ৬ সমর্থিত কোনো ডিভাইসও এখনো বাজারে আসেনি। তবে, ওয়াইফাই সংস্থার মতে, ২০১৯ সালের কোনো এক সময়েই পাওয়া যাবে এই ওয়াইফাই ৬ প্রযুক্তি যুক্ত পণ্যগুলো।

আর বরাবরের মতোই নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রেরক ও গ্রাহক দুটি ডিভাইসকেই হতে হবে ওয়াইফাই ৬ সমর্থিত। অর্থাৎ আপনি যদি আপনার রাউটার থেকে আপনার স্মার্টফোনে ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকেন, তবে নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হলে রাউটার এবং স্মার্টফোন দুটোই ওয়াইফাই ৬ সমর্থিত হতে হবে। আপনার রাউটারটি ওয়াইফাই ৬ সমর্থিত কিন্তু স্মার্টফোনটি ওয়াইফাই ৫ সমর্থিত, এমন হলে আপনি সেই স্মার্টফোনটি দিয়ে ওয়াইফাই ৫ প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন, ওয়াইফাই ৬ নয়।

এছাড়া নতুন প্রযুক্তির ওয়াইফাই ৬ বাজারে আসলেও কোন কোন কোম্পানি তাদের আগামী ডিভাইসে সেটি ব্যবহার করবে আর কোন কোন কোম্পানি তা ব্যবহার করবে না, এটি একান্তই তাদের নিজস্ব ব্যাপার। ওয়াইফাই সংস্থা সকল ডিভাইস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে নতুন এই নাম্বারিং সিস্টেম ব্যবহার করতে উৎসাহী করলেও এক্ষেত্রে জোর করার কোনো সুযোগ তাদের নেই। ফলে ভবিষ্যতে হয়তো অনেক ডিভাইস কোম্পানিই তাদের ডিভাইসগুলোতে পুরানো পদ্ধতিতে 802.11ax লিখে বাজারজাত করতে পারে। তবে আশা করা যায়, সামনের দিনগুলোতে সকল ওয়াইফাই ভিত্তিক ডিভাইস কোম্পানি এই নাম্বার সিস্টেমে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

Leave a Reply