আয়কর কি? কিভাবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিবেন [ভিডিও]

0
356

আয়কর কি?

আয়কর হচ্ছে ব্যক্তি বা সত্ত্বার আয় বা লভ্যাংশরে উপর প্রদেয় কর । আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর আওতায় কর বলতে অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রদেয় আয়কর, অতিরিক্ত কর, বাড়তি লাভের কর, এতদসংক্রান্ত জরিমানা, সুদ বা আদায় যোগ্য অর্থকে বুঝায়।

অন্য ভাবে বলা যায় যে, কর হচ্ছে রাষ্ট্রের সকল জনসাধারনের স্বার্থে রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রদত্ত বাধ্যতামূলক অর্থ।

আয়কর বিশেষ অর্থে আয় থেকে কর । সরকারি, বেসরকারি, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এর কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের উপর সাধারণত আয়কর আরোপ করা হয় বিধিসম্মত নিয়মে। আয়কর হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস সরকারি অর্থায়ন এর ক্ষেত্রে। সাধারণ অর্থে যাদের উপর কর আরোপ করা হয় তাদেরকে বলা হয় করদাতা ।

কোন ব্যক্তি আয়কর প্রদানের জন্য উপযুক্ত?

অর্থ আইন ২০১৫ এর আওতায় প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতা (অনিবাসী বাংলাদেশী সহ), হিন্দু যৌথ পরিবার, অংশীদারী ফার্ম, ব্যক্তি সংঘ এবং আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তির আয়ের সীমা ২,৫০,০০০/= টাকার উপরে হলে আয়কর প্রদানের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। তবে

(১) মহিলা এবং ৬৫ বৎসর বা তদুর্ধ বয়সের ব্যক্তি করদাতা আয় ৩,০০,০০০/= টাকা এর উপরে হলে তিনি আয়কর প্রদানের উপযুক্ত হবেন।

(২) প্রতিবন্ধি করদাতা আয় ৩,৭৫,০০০/= টাকা এর উপরে হলে তিনি আয়কর প্রদানের উপযুক্ত হবেন।

(৩) গেজেট ভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় সীমা ৪,২৫,০০০/= টাকা এর উপরে হলে তিনি আয়কর প্রদানের উপযুক্ত হবেন।

ন্যূনতম কর কি?

অর্থ আইন ২০১৫ মোতাবেক সাধারণভাবে করমুক্ত আয়ের সীমা ১৫০০০০/০০। করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করলে করদাতাকে এলাকা ভেদে ন্যূনতম যে কর পরিশোধ করতে হয়  তাকে ন্যূনতম কর বলে। ন্যূনতম করের পরিমান যথাক্রমে ৫০০০/০০ (ঢাকা ও চট্রগ্রাম সিটিকর্পোরেশন এরিয়া), ৪০০০/০০(অন্য সিটিকর্পোরেশন এরিয়া), ৩০০০/০০(সিটিকর্পোরেশন এর বাইরে অন্য যেকোনো এরিয়া)

আয়কর জমা দেয়ার প্রথম ধাপ হল আপনার একটা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। “আয়কর রিটার্ন” হল আপনার আয়-ব্যয় এর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন যা আপনাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর নির্দিষ্ট একটি ছকে পূরণ করে জমা দিতে হয়। আপনি ইচ্ছা করলে অনলাইনেও এই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন।

অনলাইনে কর পরিশোধ পদ্ধতি

আয়কর, ভ্যাট এবং অন্যান্য শুল্ক অনলাইনে পরিশোধের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর ই-পেমেন্ট সার্ভিস চালু করেছে। এর মাধ্যমে যে কেউ ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্যাশ কার্ড, বা অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে শুল্ক পরিশোধ করতে পারবেন। অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কর দেয়া যাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও Q-Cash এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।

 

অনলাইনে কর পরিশোধ পদ্ধতি:

অনলাইনে কর পরিশোধ করার জন্য প্রথমে http://www.nbrepayment.org/ সাইটে যেতে হবে।

 

প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুবিধাদি:

  • ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার
  • চালু ই-মেইল ঠিকানা
  • বিজনেস এরিয়া কোড
  • TIN, AIN, BIN (যটি প্রযোজ্য)
  • ডেবিট/ক্রডিট কার্ড/অনলাইন ব্যাংকিং এর প্রয়োজনীয় তথ্য

 

প্রথম ধাপ– রেজিস্ট্রেশন

http://www.nbrepayment.org/ গিয়ে “Register” বোতামে ক্লিক করতে হবে। এরপর নিচের ফরমের মত একটি ফরম পাওয়া যাবে।

 

এখানে নাম, ই-মেইল ঠিকানাসহ অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। তারকা (×) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এ সময় নাম ঠিকানাসহ অন্যান্য তথ্য সতর্কতার সাথে দিতে হবে। এসময় তৈরি করা পাসওয়ার্ড লিখে রাখা ভালো। কোন ঘরে তথ্য দেয়া সম্ভব না হলে পরে তথ্য জেনে নিয়ে পরে দেয়া যাবে। তবে তারকা (×) চিহ্নিত ঘর ফাঁকা রাখা যাবে না।

 

সবশেষে “I Agree and Create Account’” বোতামে ক্লিক করতে হবে। গ্রাহকের ই-মেইল ঠিকানায় একটি ই-মেইল পৌঁছে যাবে। ই-মেইলে পাঠানা লিংকে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। ইন বক্সে ই-মেইল না পেলে জাঙ্ক বা স্প্যাম ফোল্ডারে দেখা যেতে পারে।

 

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর লগ-ইন নেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যাবে। লগ-ইন করার পর ‘E‐Payment’ লিংক দেখা যাবে এবং পর্দার ওপরে বাম কোণে নিজের নামসহ স্বাগত বার্তা দেখা যাবে।

 

দ্বিতীয় ধাপপ্রোফাইল সম্পন্নকরণ

 

আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস শুল্কের জন্য আলাদা আলাদা প্রোফাইল ফরম পূরণ করতে হবে। কারো কেবল একটি ফরম প্রয়োজন হলে একটি ফরমই পূরণ করতে পারেন।

 

এখান থেকে যেসব কাজ করা যাবে:

  • নাম, ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি আপডেট করা যাবে।
  • আয়কর অংশে করদাতার ধরন টিআইএন, নাম, ঠিকানা ইত্যাদি আপডেট করা যাবে।
  • ভ্যাট অংশে বিআইএন, নাম, ঠিকানা, টিআইএন ইত্যাদি আপডেট করা যাবে।
  • কাস্টমস অংশে এআইএন, নাম ঠিকানা ইত্যাদি আপডেট করা যাবে।
  • আপডেট সম্পন্ন হওয়ার পর একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা প্রদর্শিত হবে।

 

 

২য় ধাপ সম্পন্ন করার পর অনলাইনে আয়করসহ অন্যান্য কর দেয়া যাবে।

 

 

নিজের আয়কর দেয়া

অনলাইনে আয়কর দিতে যেসব তথ্য প্রয়োজন হবে: ট্যাক্স জোন এবং ট্যাক্স সার্কেলের তথ্য, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং এর তথ্য।

 

লগ-ইন করার পর করদাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউজার একাউন্ট হোম পেজে চলে যাবেন। এরপর ‘Update Your Profile’ সিলেক্ট করতে হবে। এখান থেকে Income Tax Info পেজে গিয়ে টিআইএন, পুরো নাম এবং ঠিকানা ইত্যাদি দিয়ে আপডেট করতে হবে। এ ধাপটি ঐচ্ছিক, না করলেও চলে।

 

এরপর ইউজার একাউন্ট হোমপেজ আসবে। এখান থেকে ‘Pay Income Tax’ বোতামে ক্লিক করে ড্রপ ডাউন লিস্ট ‘Pay Tax Online’ থেকে নির্বাচন করতে হবে। এরপর অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্ট ফরম আসবে। ফরমটির সংশ্লিষ্ট ঘরে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই টিআইএন এবং পুরোনাম প্রদর্শিত হবে। ড্রপ ডাউন লিস্ট থেকে ট্যাক্স জোন এবং ট্যাক্স সার্কেল নির্বাচন করতে হবে। একাউন্ট কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।

 

এরপর কর দেবার পদ্ধতি বা পেমেন্ট টাইপ নির্বাচন করতে হবে। অগ্রীম কর দিতে চাইলে ড্রপ ডাউন লিস্ট থেকে Advance Tax’ নির্বাচন করতে হবে। কর বছর এবং করের টাকার পরিমাণ ফরমের নির্ধারিত স্থানে টাইপ করতে হবে। করদাতার ঠিকানা দেবার জন্যও একটি ঘর আছে। তবে ঠিকানা দেয়াটা ঐচ্ছিক।

 

তারকা (×) চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক। সবশেষে সাবমিট বোতামে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি নতুন বার্তা প্রদর্শিত হবে। এখান থেকে ‘Next’ এ ক্লিক করতে হবে।

 

এরপর পর্দায় সোনালী ব্যাংকের ওয়েবসাইট প্রদর্শিত হবে। এখান থেকে অর্থ পরিশোধের ধরন নির্বাচন করে ‘Next’ বোতামে ক্লিক করতে হবে। তারপর একটি ই-চালান প্রদর্শিত হবে। এখানে নাম, টিআইএন, ট্যাক্স জোন, ট্যাক্স সার্কেল, অর্থের পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য দেয়া থাকবে। সব তথ্য ঠিক থাকলে ‘Next’ বোতামে ক্লিক করতে হবে।

 

এরপর কিউ ক্যাশ ওয়েবসাইট আসবে। কাল্পনিক তথ্যযোগে এটি নমুনা দেয়া হল:

 

 

এবার কার্ডের তথ্য দিতে হবে। কী-বোর্ডে টাইপ করে নয়, পর্দায় একটি কী বোর্ডে ক্লিক করার মাধ্যমে এ তথ্য দিতে হবে। নিরাপত্তার জন্যই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব তথ্য পূরণ করা হলে ‘ওকে’ বোতামে ক্লিক করতে হবে। আর তিন মিনিটের মধ্যে এ ধাপটি সম্পন্ন করতে হবে। একবার ‘ওকে’ বোতামে ক্লিক করলে আর পেছনে ফেরা যাবে না।

 

সমস্ত তথ্য সহযোগে একটি বক্স প্রদর্শিত হবে। এখানে কার্ডের পাসওয়ার্ড বা অনলাইন ব্যাংকিং কোড প্রদান করে সাবমিট বোতামে ক্লিক করতে হবে। এরপর ই-চালান প্রদর্শিত হবে। চাইলে এটির প্রিন্ট নেয়া যাবে, ডাউনলোড নেয়া যাবে বা ই-মেইল হিসেবে নেয়া যাবে। সবশেষে ‘ফিনিশ’ বোতামে ক্লিক করতে হবে। এসময় লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার বার্তা প্রদর্শিত হবে।

Leave a Reply