টিআইবি: কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে ভাইরাস একটি অতি পরিচিত এবং আতঙ্কের শব্দ। কম্পিউটার ব্যবহার করেন অথচ ভাইরাসের সাথে পরিচিত নয় এমন ব্যবহারকারীর সংখ্যা মেলা ভার। আমাদের আজকের পোষ্ট কম্পিউটার ভাইরাস কি, ভাইরাস আক্রমণ করলে কিভাবে বুঝা যায় এবং ভাইরাস থেকে মুক্তির কয়েকটি নিরাপত্তা সফটওয়্যারের সম্পর্কিত।

কম্পিউটার ভাইরাস কি?

কম্পিউটার ভাইরাস এর VIRUS শব্দটি আসলে কয়েকটি ইংরেজি শব্দের প্রথম অক্ষর দিয়ে হয় যার পূর্ণ রুপ Vital Information Resource Under siege।  যার বাংলা অর্থ দাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা রিসোর্স অন্য কারো অধীনে বাজেয়াপ্ত। ভাইরাসের নামকরণ করেন গবেষক ফ্রেড কোহেন। Elk Cloner হল প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস যা পার্সোনাল কম্পিউটারের ক্ষতি সাধনে সক্ষম হয় এবং ভাইরাসটি রিচ স্ক্রেন্টা নামের এক ১৪ বছরের ছেলে বানিয়েছিল তার বন্ধুদের ম্যাকিংটোশ কম্পিউটারের সাথে মজা করার উদ্দেশ্যে।

কম্পিউটার ভাইরাস হল এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং যা কম্পিউটারের সংরক্ষিত ফাইল ও ডিষ্ক এর অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিকে নষ্ট করে দেয়।

সহজ ভাষায় বলা যায়, কম্পিউটার ভাইরাস হল একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম। যা ইন্টারনেট, পেনড্রাইভ বা অন্য কোনো মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং গোপনে বিস্তার লাভ করে কম্পিউটারের জরুরি তথ্য নষ্ট করে, কম্পিউটারকে স্লো বা বিকল করে দেয়, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলিট করে বা অন্য কোন ক্ষতিসাধন করে থাকে।

যেমন ছোট কয়েক লাইনের ব্যাচ কোড তেমন জটিল না। এ প্রোগ্রামে কমান্ড দেওয়া থাকবে যে এটি কম্পিউটারের প্রতিটি ড্রাইভে তার একটি প্রতিলিপি তৈরি করবে। এটিও একটি ভাইরাস।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ?

অনেক ব্যবহারকারী কাছে বিষয়টি পরিষ্কার নয়- কখন কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কিংবা ভাইরাস আক্রান্ত হলে কম্পিউটারে কি কি উপসর্গ / লক্ষন দেখা দেয়।

  • প্রোগ্রাম লোড হতে বেশি সমায় লাগে।
  • ডিস্ক থেকে যে কোনো ফাইল কপি করতে বেশি সময় লাগে।
  • সংরক্ষিত ফাইল অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে এবং এর পরিবর্তে অজ্ঞাত কোনো ফাইল চলে আসতে পারে।
  • হঠাৎ অদ্ভুত সব নির্দেশ স্কিনে আসতে শুরু করে।
  • কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ কম্পিউটার বুট করতে শুরু করে।
  • এক্সিকিউটেবল ফাইল এর পরিবর্তন ঘটে।
  • যে কোনো ফাইল ডিলেট হয়ে যেতে পারে।
  • কম্পিউটার ওপেন এবং বন্ধ করতে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
  • কিছু ভাইরাস হার্ড ডিস্কের বুট সেক্টরে আক্রমন করে। ফলে হার্ডডিস্ক ফরমেট ছাড়া উপায় থাকে না।

২০১৮ সালের সেরা কয়েকটি অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার ও এর বাজার দর

ব্যক্তিগত তথ্য বা কম্পিউটারের সুরক্ষায় কোন অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন এবং ব্যয় কেমন হবে, তা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাদের জন্য এই অংশটি-

ক্যাসপারস্কি

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার ক্যাসপারস্কি। রুশ বহুজাতিক সাইবার নিরাপত্তা সেবাদাতা ক্যাসপারস্কি ল্যাবের ইন্টারনেট অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারের সর্বশেষ সংস্করণ দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাসপারস্কি ইন্টারনেট নিরাপত্তা সফটওয়্যারের এক ইউজার সংস্করণের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা এবং তিন ইউজার সংস্করণের দাম ২ হাজার ১৯৯ টাকা। ক্যাসপারস্কির ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যের সংস্করণ ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। তবে গ্রাহকরা অর্থ দিয়ে ক্যাসপারস্কির যে সংস্করণ কিনবে, তার চেয়ে বিনামূল্যের সংস্করণ কিছুটা কম কার্যকর। বিনামূল্যের সংস্করণ প্রাথমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

অ্যাভিরা

এ অ্যান্টি-ভাইরাসের নতুন সংস্করণে দারুণ ম্যালওয়্যার প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভাইরাস, ট্রোজান, ওয়ার্ম, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, অ্যাডওয়্যার খুব ভালোভাবেই শনাক্ত করা যায়। বিভিন্ন অ্যান্টি-ভাইরাস পিসিতে ইনস্টলের পর রিবুট করতে হলেও এতে তার দরকার হয় না। ৫ ডিভাইসের জন্য অ্যাভিরা অ্যান্টি-ভাইরাস প্রো ও ইন্টারনেট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৯৯ টাকা। তবে অ্যাভিরার টোটাল ইন্টারনেট নিরাপত্তা সফটওয়্যারের এক ইউজার সংস্করণের দাম ৬৫০ টাকা। ক্যাসপারস্কির মতো অ্যাভিরার বিনামূল্যের সংস্করণ ম্যালওয়্যার ব্লকিংয়ে কার্যকর হলেও ফাইল স্ক্যানিং করতে বেশ সময় নেয়।

বিটডিফেন্ডার

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অ্যান্টি-ভাইরাস বিটডিফেন্ডার বছরের শুরুতে তাদের পেইড এবং বিনামূল্যের সংস্করণ উন্মোচন করে। যেকোনো ধরনের ফিশিং থেকে সুরক্ষায় এর নিরাপত্তা সফটওয়্যারের তুলনা হয় না। বিটডিফেন্ডার অ্যান্টি-ভাইরাসের পেইড এবং বিনামূল্যের সংস্করণের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বলা হয়, সাইবার ফিশিং থেকে বাঁচতে এটিই সবচেয়ে কার্যকর অ্যান্টি-ভাইরাস। পিসিতে এ সফটওয়্যার সহজে ও দ্রুত ইনস্টল হয়। বিটডিফেন্ডারের ইন্টারনেট নিরাপত্তা অ্যান্টি-ভাইরাসের এক ইউজার সংস্করণের মূল্য ৫৫০ টাকা এবং টোটাল ইন্টারনেট নিরাপত্তার জন্য এক ইউজার সংস্করণের মূল্য ১ হাজার টাকা।

রিভ

টার্বো ইঞ্জিনসমৃদ্ধ রিভ অ্যান্টি-ভাইরাস অন্য নিরাপত্তা সফটওয়্যারের চেয়ে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ডিভাইস স্ক্যান করে। সিগনেচার পদ্ধতির পাশাপাশি বিহেভিয়ারাল ডিটেকশন পদ্ধতিতেও ডিভাইসের প্রতিটি ফাইল, ফোল্ডার ও নেটওয়ার্ক ড্রাইভ যাচাই করে রিভ অ্যান্টি-ভাইরাস। দেশের বাজারে রিভ ইন্টারনেট নিরাপত্তা সফটওয়্যারের এক ইউজার সংস্করণের মূল্য ৪৯০ টাকা এবং ৩ ইউজার সংস্করণের মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া ২ ও ৫ ইউজার সংস্করণের মূল্য যথাক্রমে ১ হাজার ৬৫০ ও ২ হাজার ৬০০ টাকা। ভাইরাস ও অনলাইন হুমকি থেকে নিরাপত্তা দেবে রিভ অ্যান্টি-ভাইরাস।

পান্ডা

এ অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে আসা ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা দিতে অসাধারণ কাজ করে। বাংলাদেশের পিসি ব্যবহারকারীরা চাইলে পান্ডা অ্যান্টি-ভাইরাসের বিনামূল্যের সংস্করণও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে বিনামূল্যের সংস্করণ ম্যালওয়্যার ব্লকিংয়ে খুব একটা ভালো ফল দেবে না। দেশের বাজারে পান্ডা ইন্টারনেট সিকিউরিটি সফটওয়্যারের এক ইউজার সংস্করণের দাম ৫৫০ টাকা এবং এর তিন ইউজার সংস্করণের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা।

কার্টেসি: বণিক বার্তা

Leave a Reply