ভোল্টি (VoLTE) প্রযুক্তি কী? ভোল্টি প্রযুক্তির সুবিধা ও যেভাবে পাবেন?

0

বাংলাদেশে চালু হল মোবাইলে কথা বলার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ভয়েস ওভার এলটিই বা ভোল্টি। সম্প্রতি দেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে ভয়েস ওভার এলটিই (ভোল্টি) সেবা চালু করেছে শীর্ষ ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি। এর আগে অপারেটরটি গত বছরের ১৬ জানুয়ারি দেশে প্রথমবারের মতো নিজেদের ৪ দশমিক ৫জি নেটওয়ার্কে সফলভাবে ভোল্টি প্রযুক্তির পরীক্ষা চালায়। ভোল্টি কী? কীভাবে কাজ করে? কী কী সুবিধা রয়েছে এ প্রযুক্তিতে এসব নিয়ে আজকের আয়োজন।

ভোল্টি প্রযুক্তি কী?

কথা বলার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ভয়েস ওভার এলটিই বা ভোল্টি হচ্ছে আইপিভিত্তিক ভয়েস কল প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য এইচডি (হাইডেফিনেশন) মানের ভয়েস সেবা নিশ্চিত করা। এলটিই ডাটা নেটওয়ার্কে ভয়েসকে আলাদা অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে বিবেচনা করে ভোল্টি। মূলত ফোরজি এলটিই দিয়ে ভয়েস কল করতে ভোলটি প্রযুক্তি দরকার হয়।

ভোল্টিতে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার হয় তার মধ্যে রয়েছে, ভয়েস ওভার এলটিই ইউজার ইক্যুপমেন্ট বা VoLTE UE, রেডিও অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক বা জঅঘ, কোর নেটওয়ার্ক মানে ইপিসি (EPC) বা ইভল্ট প্যাকেট কোর এবং আইএমএস কোর নেটওয়ার্ক। এই আইএমএস (IMS) হল আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল মাল্টিমিডিয়া সাবসিস্টেম।

ভোল্টি প্রযুক্তির সুবিধা

ভোল্টিতে কথা বলা যাবে এইচডি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার মানে; যা উপভোগ করা যাবে অডিও-ভিডিও দুটিতেই। বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে কল করলে তা কানেক্ট হতে ৯-১১ সেকেন্ড সময় নেয়। অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী গ্রাহকরা দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে কল সংযোগ করতে পারবেন। এখন মোবাইলে ভয়েসে আসা-যাওয়ার মাঝখানে যে ডিলে থাকে সেটি ভোল্টিতে থাকবে না। মানে ইন্সট্যান্ট একদম মুখোমুখির কথা বলার মতো এটি আদান-প্রদান হবে। কথা বলতে গিয়ে কেটে যাওয়ার বিষয়টি একদম থাকবে না। এছাড়া কলড্রপ কমে যাবে অনেক।

উদ্ভাবনী এ প্রযুক্তি নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ’র একটি গবেষণায় জানানো হয়, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো ইত্যাদি ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবার মাধ্যমে কল করার চেয়ে ভোল্টি সেবার আওতায় কল করলে গ্রাহকরা তাদের হ্যান্ডসেটে ৪০ শতাংশ বেশি ব্যাটারি লাইফ পাবেন।

যেভাবে পাবেন ভোল্টি সেবা?

সাধারণ ফোরজির মতোই ভোল্টি সুবিধাও ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল। মোটামুটি প্রায় সব জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ফোরজি সাপোর্টেড ফোনগুলো একইসঙ্গে ভোল্টিও সাপোর্ট করে। সেবাটি সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে কল প্রেরক ও গ্রহীতা উভয়ের ভোল্টি সেবা ব্যবহার উপযোগী ফোরজি হ্যান্ডসেট এবং ভোল্টি অ্যাক্টিভেটেড ফোরজি সিম কার্ড লাগবে। এছাড়া উভয়কে ভোল্টি কভারেজ এলাকার মধ্যে থাকতে হবে।

বর্তমানে প্রচলিত সব ফোরজি সিমেই ভোল্টি সাপোর্ট করবে বলে আশা করা যায়। এজন্য আর সিম পরিবর্তনের দরকার হবে না। আগ্রহী রবি বা এয়ারটেল গ্রাহকরা *৮৬৫৮৩# ডায়াল করে ভোল্টি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কোডটি ডায়াল করার পর রবি বা এয়ারটেলের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাবেন ভোল্টি সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় দিকগুলো তার আছে কিনা এবং থাকলে তাকে কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অথবা সেবাটি কীভাবে গ্রহণ করতে হবে, তা জানার জন্য রবি ও এয়ারটেলের গ্রাহকরা কাস্টমার কেয়ারের নম্বর কল করতে পারেন।

এছাড়া গ্রাহকরা রবি ও এয়ারটেলের নির্বাচিত ওয়াক-ইন-সেন্টারে গিয়েও সেবাটির অভিজ্ঞতা নেয়া এবং বিস্তারিত জানার সুযোগ পাবেন।

১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে গ্রাহকরা উদ্ভাবনী এ সেবা উপভোগ করতে পারবেন। উদ্বোধনের সময় ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৫ হাজারের বেশি সাইট ভোল্টি সেবার জন্য সক্রিয় করা হয়। এছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সেবাটি বিস্তৃত করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।