Wednesday, October 27, 2021

এ-চালান কি? ব‍্যাংকিং চ‍্যানেলে এ-চালানের ব‍্যবহার পদ্ধতি

আরও পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল সেবা সংক্রান্ত ফি ও রাজস্ব জমা দেওয়ার সুবিধার্থে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্মিত, আধুনিক উদ্যোগ বা প্লাটফর্মের নাম Automated Challan System (ACS) বা A- Challan কিংবা ই-চালান বলে। এটা সরকারের একটি প্রাপ্তি বাতায়ন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের, অর্থ বিভাগের “এসপিএফ এম এস”, প্রোজেক্ট দ্বারা পরিচালিত যা, ২৫ মার্চ, ২০১৮ ইং তারিখে শুরু হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এর বিস্তার ও ব‍্যবহার বাধ্যতামূলক। ভবিষ্যতে ১৯৬টি সরকারি সেবা ও রাজস্ব গ্রহণের নিমিত্তে ব‍্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ- চালানের মাধ্যমে গ্রাহকরা পর্যায়ক্রমে ওভার দ‍্য কাউন্টারে (OTC) নগদ অর্থ, অনলাইন ব‍্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক ব‍্যবস্থার পাশাপাশি, চেক এবং অ‍্যাকাউন্ট ডেবিটের মাধ্যমে ট্রেজারি চালানের অর্থ জমা প্রদানে সক্ষম হবেন। আর ঐ জমাকৃত আর্থিক সঙ্গতির নিরসন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ব‍্যাংকারগনের অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে, যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী ট্রেজারি চালান শুরু হয় হাতে লেখা ফরমের মধ্য দিয়ে। যা শুধু মাত্র যুগ যুগ ধরে, বাংলাদেশ ব‍্যাংক ও সোনালী ব‍্যাংক ছাড়া কোথাও জমা দেয়া যেত না। উক্ত ফরম পূরণ করতে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যায় পড়তে হতো। আর প্রয়োজন মুহুর্তে তা ছিল একটি বিরম্বনা। যা সোনালী ব‍্যাংকের গেটওয়ে ব‍্যবহার করে এ-চালান জমা দেয়া শুরু করেছিল। পর্যায়ক্রমে অর্থ বিভাগের নির্দেশনায়, বাংলাদেশ ব‍্যাংকের জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে এবং তাদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে তালিকাভুক্তি ব‍্যাংকের অধিকাংশ এই সেবায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রচারবিমুখ ই- চালান সেবার জন্য বাংলাদেশ ব‍্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব‍্যাংকের সাথে একটি চুক্তিনামা বা ডিড এর মাধ্যমে অনুমোদন লাভ করছে। প্রত‍্যেক ব‍্যাংকের হেড অফিসের আইটি, এডিসি, অপারেশন ডিভিশন বা মনোনীত বিভাগ কেন্দ্রীয়ভাবে সার্বিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ব‍্যাংক এশিয়ার পক্ষে তাদের এডিসি বিভাগ কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি ও পরিচালনা করছেন।

প্রতিটি শাখা একটি রেজিস্ট্রার/ এক্সেল ব‍্যবহার করবে ও Cash in hand- LC থেকে A-Challan Settlement Account (GL) এ EOD করে ভাউচারের মাধ্যমে ক্রেডিট করে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব‍্যাংক Settlement Account বা Principle Account ডেবিট করে জমাকৃত সমপরিমাণ অর্থ ট্রেজারি চালান বাবদ সরকারি হিসাব নম্বরে ক্রেডিট করছে ও পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট Real Time Settlement করে এগিয়ে নিচ্ছে।

আরও দেখুন:
> ইসলামী ব্যাংকের ৩৭৫ তম শাখা উদ্বোধন
> লাখ কোটি টাকার ক্লাবে জনতা ব্যাংক
> জেপি মর্গানের অ্যাওয়ার্ড পেল ইউসিবি ব্যাংক

এছাড়াও ACS কে লক্ষ রেখে কয়েকটি সাধারণ নীতিমালা বা বিধিবিধান অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত:

(১) স্বয়ংক্রিয় চালান পদ্ধতি প্রতিটি ব‍্যাংকের প্রধান কার্যালয় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে। এই সংক্রান্ত ফরম,সার্কুলার, পরিপত্র বা নির্দেশনা ইত্যাদি উক্ত বিভাগ পালন করবে।

(২) এ সেবা সকল ব‍্যাংকের প্রতিটি শাখাকেই অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। এমনকি প্রত‍্যন্ত অঞ্চলের এজেন্ট ব‍্যাংকিং ও ডিজিটাল পোষ্ট ব‍্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সেবা দিতে প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

(৩) প্রতিটি ব‍্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সুপার এডমিন ইউজার এর দায়িত্ব পালন করবেন। উক্ত এডমিন ইউজারগণ শাখা ও এজেন্টসমূহের ইউজার তৈরি ও ব‍্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

(৪) শাখা ব‍্যবস্থাপক দক্ষ জনবল নিশ্চিত করে প্রতিটি শাখায় ACS System এ Entry User (Maker) ও Approving User (Checker) হিসেবে মনোনীত করবেন।

(৫) শাখাগুলো প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে User ID ও Password রিসিভ করবে।

(৬) User ID ও Password হওয়া উচিৎ ব্রাঞ্চের নামে, কোন ব‍্যক্তির নামে নয় এবং তা হস্তান্তর করা যথার্থ হবেনা। আর কোন আইডি ব‍্যবহারকারীর বদলী আদেশ, অবসর, বরখাস্ত বা পদত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পূর্ণ তথ্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করতে হবে।

বর্তমানে ৬৫ লাখ ই-টিন নম্বর রয়েছে। দিন দিন তা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেবা প্রত‍্যাশি গ্রাহক এনআইডি, ই-টিন, মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য ব‍্যাংক কর্মকর্তাকে প্রদান করবে। গ্রাহক আভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে চালানের কোড নম্বর সংগ্রহ করে ব‍্যাংক কর্মকর্তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। গ্রাহক এক সময়ে ঘরে বসেই ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ও অ্যাপ ভিত্তিক সেবা নিতে সক্ষম হবেন।

ব‍্যাংক কর্মকর্তাকে সাবধানে চালান তৈরি করতে হবে। কেননা এখানে কোনভাবেই ভুল ভ্রান্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আবার ভুল করেও ভুল করা যায়না। কারণ সবকিছুই অটোমেটেড ও সহজ। ACS সিস্টেমে কোন কিছুই লিখতে হবেনা। শুধুমাত্র অপশন সেলেক্ট করে চালান তৈরি করতে হবে। ভিন্ন একটি সিস্টেমের কারণে এটা কখনো CBS এর সাথে সম্পৃক্ত হবেনা। https://ibas.finance.gov.bd/acs লগইন করে Access করতে পারবেন। এখানে চারটি ধাপ রয়েছে। মেকার প্রথমে-
(1) Application Form: Challan তৈরি করবে, এরপর
(2) Application Form: Submit করবে। একটি চালান নম্বর বা ট্রাকিং নম্বর তৈরি হবে
(3) Application Form: Approval করবেন, সর্বশেষ টাকার অংক মিলিয়ে চেকার
(4) Cash Received Confirmation করে সার্ভিস সম্পন্ন করবেন। Confirmation এরপর কোন পরিবর্তন করার সুযোগ থাকছেনা। এখানে চালান ভেরিফিকেশন পেইজ থেকে ভেরিফাই করার সুযোগ রয়েছে। শেষান্তে স্বয়ংক্রিয় চালান অনুমোদন করে ACS সিস্টেম থেকে প্রিন্ট করে স্বাক্ষর দিয়ে ২ কপি গ্রাহককে প্রদান ও ১ কপি ব্রাঞ্চে সংরক্ষণ করবে। যে সকল সেবায় ভ‍্যাট যুক্ত থাকবে সে ক্ষেত্রে চালানের ৩ কপি গ্রাহক কে দিতে হবে।

সুতরাং কঠিন নয়, সহজ এই পদ্ধতির সেবা প্রথমে পাসপোর্ট ফি ও ট‍্যাক্স এর অর্থ জমাদানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল সেবা অন্তর্ভুক্ত হবে। কোন সার্ভিস নির্দিষ্ট ব‍্যাংকের কাছে থাকবে না। যে ব‍্যাংক বা শাখা যতো কম সময়ে সুন্দর ও নির্ভুল সেবা দিবেন, সেখানেই গ্রাহক ছুটে যাবে। আর ব‍্যাংকগুলো কমিশন/ ফি হিসাবে মুনাফা লাভ করবে। সেবা গ্রহণকারীর জন্য সেবা প্রদানকারীর ব‍্যাংকে কোন হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ব্রাঞ্চে শুধু ইন্টারনেট থাকলেই হবে। যার ফলে অদুর ভবিষ্যতে মেনুয়‍্যাল চালান বলতে কিছু থাকবে না! সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরের আহরিত অর্থ সংক্রান্ত তথ‍‍্যের কোন গড়মিল, ভূয়া বা Fake চালান, Unreconciled বা অসংলগ্নতার অবসান হবে। স্বচ্ছতার মধ্যে দিয়ে দেশ হবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল এবং বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাড়াবে আমাদের মাতৃভূমি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ।

কার্টেসি: ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ
লেখক: মিজানুর রহমান, ব‍্যাংক কর্মকর্তা ও কলাম লেখক, এডিসি, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড।

Leave a Reply

সাম্প্রতিক পোস্ট

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন