Wednesday, October 27, 2021

২০২০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে ৩০ শতাংশ

আরও পড়ুন

করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সাধারণ ছুটি থাকায় ডিজিটাল লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা বাড়ায় গেল বছর মোবাইল ব্যাংকিং এ লেনদেন অনেক বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিজিটাল লেনদেনে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে গেল বছর লেনদেন, ২০১৯ সালের তুলনায় অনেক বেড়েছে; বৃদ্ধির হার প্রায় ৩০ শতাংশ।

বুধবার মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদেন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এ দিন ডিসেম্বর মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাতে দেখা গেছে, গেল বছরের শেষ মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরে নভেম্বরের তুলনায় মোবাইল ব্যাংকিং এর সক্রিয় গ্রাহক, লেনদেন ও অন্যান্য সেবা নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

আরোও পড়ুনঃ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এক হিসাবেই সব লেনদেন

করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সাধারণ ছুটি থাকায় ডিজিটাল লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা বাড়ায় গেল বছর মোবাইল ব্যাংকিং এ লেনদেন অনেক বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা ‘নগদের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ মিশুক জানান, “একটি বছরে মোবাইল লেনদেন ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া সামগ্রিক ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার জন্যই অনেক বড় মাইলফলক হিসেবে আমি মনে করি, বিশেষ করে অর্থনৈতিক খাতের জন্য।”

“অবশ্যই কোভিডের এখানে ভূমিকা রয়েছে। তবু আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালে এক লাখ ২৭ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার লেনদেন বৃদ্ধি এটাই নির্দেশ করে যে আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি”, জানান তানভীর ।

কয়েক বছর আগেও শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টাকা পাঠাতে মোবাইলের লেনদেন মাধ্যম ব্যবহৃত হতো কিন্তু এখন অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমে কেনাকাটার জন্য অনলাইন মাধ্যম অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে বিভিন্ন পরিষেবার বিলগুলোও মোবাইলের অর্থ প্রদানের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রদান করা যাচ্ছে। বেতন এবং টিউশন ফী প্রদানের ক্ষেত্রে এটি বর্তমানে বহুল পরিচিত একটি চর্চা।

করোনার প্রভাবে গেল বছরের মাঝামাঝি মোবাইল ব্যাংকিং এর চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ায় সক্রিয় গ্রাহক যেমন বেড়েছিল তেমনি বেড়েছিল লেনদেনের পরিমাণও।

২০২০ সালের জুলাই মাসে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে সর্বোচ্চ ৪.২৭ কোটিতে পৌঁছে যায়। ওই মাসে মোট লেনদেন পৌঁছে যায় প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকায় এবং দৈনিক লেনদেন ছাড়িয়ে যায় ২ হাজার কোটি টাকা, যা পুরো বছরের যে কোন মাসের চেয়ে সর্বোচ্চ ছিল।

তবে কোভিড আতঙ্ক কেটে যাওয়া এবং এর পাশাপাশি দরিদ্রদের মাঝে সরকারের নগদ সহায়তা কার্যক্রম কমে আসায় আগস্ট থেকে নভেম্বর পরযন্ত মোবাইল ব্যাংকিং এর সক্রিয় গ্রাহক ও লেনদেন কমতে শুরু করে।

নভেম্বরে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা কমে ৩.১৬ কোটিতে নেমে আসে। তবে নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে তা ৬.৫ লাখ বেড়ে ৩.২৩ কোটিতে পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে নগদ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান নতুন কিছু সেবা চালু করায় সক্রিয় গ্রাহক বাড়াতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রেখেছে।

এর পাশাপাশি বছরের শেষ দিকে নানা প্রয়োজনে মানুষের লেনদেন প্রবণতা কিছুটা বাড়ে। সেই দিক বিবেচনায় কিছু গ্রাহক সক্রিয় হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

গেল বছরের ডিসেম্বর শেষে সক্রিয় গ্রাহক ৩ কোটি ছাড়ালেও নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়ে প্রায় ১০ কোটির ঘর ছুঁই ছুঁই করছে।

অন্যদিকে নভেম্বরের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে গেল ডিসেম্বরে। ওই মাসের মোট লেনদেন বেড়েছে ৫.৫ শতাংশ এবং দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

ডিসেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে রেমিটেন্সর পরিমাণও নভেম্বরের তুলনায় ১৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে ক্যাশইন এবং ক্যাশ আউট ট্রানজেকশনও।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা দেয়ার পরিমাণ ডিসেম্বরে সামান্য বেড়েছে। এদিকে নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে কেনাকাটা অনেক বেড়েছে।

1 COMMENT

Leave a Reply

সাম্প্রতিক পোস্ট

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন