টেকনো ইনফোঃ আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। তথ্যপ্রযুক্তির এই বিস্ময়কর যুগে মানুষের চাহিদা যেমন বাড়ছে তেমনি প্রযুক্তি পণ্যেরও আকার আকৃতি ছোট হয়ে আসছে। একটা সময় ছিল যখন ব্রাউজিং বলতে শুধুমাত্র ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ওয়েব ব্রাউজিং কেই বোঝানো হতো। কিন্তু এখন ইউজারদের প্রাইমারি ব্রাউজিং ডিভাইস তাদের স্মার্টফোন।

স্মার্টফোনে এখন রয়েছে সব নামী ব্রাউজার। এর মধ্যেই Google Chrome, Mozilla Firefox, Opera ইত্যাদি অন্যতম। সব ব্রাউজারের প্রধান কাজ এক ওয়েব পেজ লোড করা, কিন্তু ডিজাইনের তফাতের জন্য কোন ব্রাউজার ফাস্ট বা কোন ব্রাউজার স্লো হয়। এছাড়াও বদলে যায় বিভিন্ন ফিচার। আসুন দেখে নিই অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেরা কয়েকটি ব্রাউজার।

Dolphin Browser:

খুবই আকর্ষনীয় দেখতে এই Dolphin Browser। ভিডিও ও গেমিং এক্সপেরিয়েন্সের জন্য এটি অ্যান্ড্রয়েডের অন্যতম সেরা ব্রাউজার। এছাড়াও এই ব্রাউজারে রয়েছে ইন বিল্ট অ্যাড ব্লকার। ফলে ব্রাউজিং এর সময় আপনাকে অযথা বিজ্ঞাপন দেখে সময় নষ্ট করতে হবে না। এছাড়াও সোয়াইপ করে ট্যাপ বদল করতে পারবেন Dolphin Browser এ।

Chrome Beta:

অনেকেই ক্রোমের সাথে এই ব্রাউজারটিকে মিলিয়ে ফেলতে পারেন তাই আগেই বলে দিচ্ছি এটি মূলত আপনাদের পরিচিত রেগুলার ক্রোম নয়, কথা বলছি ক্রোমের আরও একটি ভালো বেটা ভার্সন নিয়ে।

ক্রোম বেটা ভার্সনে আপনি বেশ কিছু নতুন সুবিধা পাবেন যা রেগুলার ক্রোমে তখনই দেয়া হয়ে থাকে যখন সেই ফিচারগুলো স্ট্যাবল প্রমাণিত হয়। মজার বিষয় হচ্ছে ক্রোম বেটার মাধ্যমে আপনি সেই নতুন ফিচারগুলো ব্যবহার করার পাশাপাশি ফিচারগুলো সম্পর্কে আপনার নিজস্ব মতামত বা ফিডব্যাকও প্রদান করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন স্মার্টফোনে ক্রোম বেটা ভার্সনটি কিছুটা স্ট্যাবিলিটি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।

Puffin Web Browser:

পাফিন ব্রাউজারটিকে আপনি ইচ্ছেমত কাস্টোমাইজ করে ব্যবহার করতে পারবেন, পাশাপাশি আপনার ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স বৃদ্ধি করতে এবং সহজে ব্রাউজ করার জন্য এতে রয়েছে বেশ কিছু অ্যাড-অনস। শুধু তাই নয়, ব্রাউজারটি এমনকি ব্রাউজ করার সময় একটি মাউস কার্সর এবং ট্র্যাকপ্যাডও ইমুলেট করতে সক্ষম। মূলত যারা স্মার্টফোনে ব্রাউজ করার সময় তাদের ল্যাপটপের কথা মনে করে থাকেন তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।

পাফিন ব্রাউজার মূলত আপনার হ্যান্ডসেটে আপনার ব্রাউজিং রিকোয়েস্ট আপনার হ্যান্ডসেটে ট্র্যান্সফার করার আগে এর ক্লাউড সার্ভিসে পাঠায় ফলে আপনি কম্প্রেসড ডাটা পেয়ে থাকেন যা আপনার ডাটা সংরক্ষণ করে থাকে। যদি এখনও এই ব্রাউজারটি ব্যবহার না করে থাকেন তবে ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন, অপছন্দ হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস।

Javelin Incognito Browser – for security and privacy:

যদি গোপনে ওয়েব ব্রাউজিং এর প্রয়োজন হয় আপনার জন্য আদর্শ Javelin Incognito Browser। এই ব্রাউজারে অটোমেটিক ডিলিট হয়ে যায় কুকি, ক্যাশ ফাইল। এছাড়াও আছে ইন বিল্ট প্রক্সি সার্ভিস। এই ব্রাউজারের মাধ্যমে আপনার নিজের দেশে ব্লকড সব ওয়েবসাইট ইউজার করতে পারবেন।

UC Browser:

কম ডাটা স্পিডে জলদি ওয়েবপেজ খুলতে দারুন কাজে দেয় এই ব্রাউজার। এছাড়াও ডাউনলোডের মাঝে কানেকশান চলে গেলে আবার সেখান থেকেই ডাউনলোড শুরু হয় UC Browser এ। এছাড়াও ফেসবুক স্পিড আপ করার অপশান রয়েছে এখানে।

Opera Mini:

অপেরার একটি চমৎকার শ্লোগান রয়েছে এবং শ্লোগানটি হচ্ছে, ‘Do more online with Opera for Android’,  অ্যান্ড্রয়েডের অন্যতম ফাস্ট ও লাইট ব্রাউজার এটি। Opera Mini র হাই কম্প্রেশান মোড কম ডাটা খরচ করে বড় ওয়েবসাইট একইভাবে খুলতে সক্ষম। এছাড়াও এই ব্রাউজারে ইন বিল্ট একটি QR স্ক্যানার রয়েছে।

Google Chrome:

একাধিক প্ল্যাটফর্মের সাথে নিজের ব্রাউজিং ডাটা সিঙ্ক করতে পারবেন এই ব্রাউজারে। অ্যান্ড্রয়েডের অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার অবশ্যই Google Chrome।

CM Browser – Fast & Light:

Clean Master Browser আপনাকে নিজের অ্যান্ড্রয়েডের ম্যালওয়ারের থ্রেড থেকে বাঁচাবে এবং ব্রাউজিং স্পিড অনেকটাই বাড়বে এই ব্রাউজার ব‍্যবহারে। এছাড়াও আপনি যদি কোন খারাপ ওয়েবসাইটে লগ ইন করেন আগে থেকেই আপনাকে সতর্ক করে দেবে CM Browser। ফোনে ডাউনলোড করা সব APK ফাইল স্ক্যান করে দেবে CM Browser। এছাড়াও হিসট্রি, কুকি ও পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখার অপশান রয়েছে এই ব্রাউজারে।

আজকের পোস্টে উপরে উল্লেখিত ব্রাউজারগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি বা একাধিক ব্রাউজার ব্যবহার করে নিশ্চিন্তে আপনি আপনার যাবতীয় ব্রাউজিং এর কাজ সুসম্পন্ন করতে পারবেন।

Leave a Reply