ছুটি নিয়ে একজন ব্যাংকারের ভাবনা- ০২

0

ব্যাংকারদের ভয়ানক অদৃশ্য শত্রুর সম্মূখে ছেড়ে দিচ্ছেন কোন প্রকার নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ না করে। এটা কি কোন দায়িত্বশীল অভিভাবকের কাজ হতে পারে?

দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সব সরকারী প্রতিষ্ঠান যেখানে বন্ধ থাকবে, সেখানে ব্যাংক খোলা রাখতে হবে। কেনো রে ভাই? অতীতে ঈদের ছুটিতে ব্যাংক নয় দিন পর্যন্ত বন্ধ ছিল। আর আজ প্রাণঘাতী করোনার প্রাদুর্ভাবেও ব্যাংক খোলা রাখতে হবে?

ঠিক আছে, খোলা রাখেন। পাশাপাশি ব্যাংকারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। যতো দুর্যোগই হোক আমরা জনগকে সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমাদের মৃত্যুর মূখে ঠেলে দিবেন না। শাখা লেভেলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করুন।

বলা হচ্ছে, লেনদেনের সময় কমিয়ে আনা হবে। তাতে লাভ কী হবে? এই স্বল্প সময়ে সবাই একসাথে এসে ব্যাংকে ভীড় জমাবে। আমাদের যদি ব্যাংকেই যেতে হয়, তবে দুইটায় ফিরি আর ছয়টায় ফিরি একই কথা। ব্যাংক খোলা থাকলে ফুলটাইম লেনদেন হলেই ভালো, গ্রাহকের ভীড় কম হবে।

আবার বলা হচ্ছে, কেবল ক্যাশ রিলেটেড লেনদেন হবে। মশাই! ক্যাশ রিলেটেড লেনদেন করতে কতজন কর্মকর্তা প্রয়োজন হয় জানা আছে?

ম্যানেজার, কী হোল্ডারগন, ক্যাশ অফিসার, রেমিটেন্স অফিসার, সিকিউরিটি, ক্যাজুয়াল সবারইতো আসতে হবে। আরেকটি বিষয় বেশিরভাগ সরকারী ব্যাংকে ক্যাশ অফিসারের সংকট। সেখানে অন্যান্য অফিসাররা ক্যাশে সহায়তা করে থাকেন।

এবার বলুন, কেবল ক্যাশ রিলেটেড কাজ হবে বলে কাদেরকে বাসায় রাখবেন? এটা কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যনা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয় এবং এরিয়া অফিসের জন্য সুবিধাজনক।

এই সব অফিসে সরাসরি কতজন গ্রাহক প্রতিদিন আসে সেবা নিতে? আপনারা শুধু এই সমস্ত কার্যালয়ের এসি রুমের কর্মকর্তাদের কথাই ভাবছেন, শাখা পর্যায় আপনাদের চিন্তা পৌছায়নি।

যদি এমনটাই নির্ধারন করা হয়, তবে মনে রাখবেন করোনার কষাঘাত একসময় আমরা ঠিকই কাঠিয়ে উঠবো ইনশাআল্লাহ, কিন্তু শাখা পর্যায় গায়ের ঘাম জড়ানো সেবাকারী কর্মকর্তাদের মনের কষাঘাতে একদিন আপনারা জর্জরিত হবেন।

(সংগৃহীত)