ইসলামি ব্যাংকিংয়ে আসছে অন্যরাও

0
15

ইসলামি ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হচ্ছে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো। এই সেবার প্রতি গ্রাহকদের চাহিদা ও বেশি মুনাফার সুযোগ থাকায় ব্যাংকগুলো এদিকে ঝুঁকছে। তবে ইসলামি ব্যাংকিং সেবার আদর্শ ধারা মুদারাবা ও মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ এখনো ২ শতাংশের নিচে। এই ধারায় বিনিয়োগ বাড়াতে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। দারিদ্র্য দূরীকরণে ক্ষুদ্রঋণেও মনোযোগ দিতে পারে এই ধারার ব্যাংকগুলো। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) প্রকাশনায় এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত জুন শেষে ব্যাংক শাখার সংখ্যা হয়েছে ১০ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ৮টি ইসলামি ব্যাংকের শাখা ১ হাজার ২৭৪টি। এর বাইরে ৯টি ব্যাংকের ১৯টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা এবং ১২টি ব্যাংকের ১৫৫টি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো রয়েছে।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নতুন করে ইসলামি ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হয়েছে মার্কেন্টাইল, মিডল্যান্ড ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এ ছাড়া স্টান্ডার্ড, যমুনা ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ইসলামি ধারার ব্যাংকে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরেই এসব ব্যাংক পুরোপুরি ইসলামি ধারার হয়ে যাবে।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইসলামি ধারার ব্যাংক ও শাখার আমানত বেড়ে ২ লাখ ৯১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ বেড়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকায় উঠেছে। এর মধ্যে আমানতে ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং বিনিয়োগে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে আমানতে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং বিনিয়োগে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল–জুনে আমানতে ইসলামী ব্যাংকের ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ, এক্সিমের ১২ শতাংশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামীর ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামীর ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামীর ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, ইউনিয়নের ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এ ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখার আমানতের অংশ ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডোর ক্ষেত্রে এই হার ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৪৪ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এরপরই বিনিয়োগ শিল্পের চলতি মূলধন হিসেবে ২৩ শতাংশ, বড় শিল্প ও সেবা খাতে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ এবং এসএমই খাতে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রবাসী আয়ে এসব ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অতিরিক্ত তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯ শতাংশ।

Leave a Reply