শাখা-উপশাখার মতো পূর্ণাঙ্গ গ্রাহকসেবা এজেন্ট আউটলেটেও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে

জাফর আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

প্রশ্ন: এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আপনারা কী কী সেবা দিচ্ছেন?

জাফর আলম: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে ২৭৫টি আউটলেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা প্রত্যন্ত জনপদে পৌঁছে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে হিসাব খোলা, নগদ জমা ও উত্তোলন, ফান্ড ট্রান্সফার ও ব্যালেন্স অনুসন্ধান, পল্লি বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ, রেমিট্যান্স প্রদান, ইএফটিএন পসবা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগসহ নানা ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে। শাখা-উপশাখায় যেমন ব্যাংকিং কার্যক্রম হয়, তা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেয়ার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: দেশের কতটি উপজেলায় আপনাদের এজেন্ট ছড়িয়ে পড়েছে?

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

জাফর আলম: দেশব্যাপী বর্তমানে আমাদের ২৭৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের কার্যক্রম চালু রয়েছে। চলতি মাসে আরও ১৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট উদ্বোধন করা হবে। বছর শেষে এজেন্ট আউটলেটের সংখ্যা ৫০০-তে নিয়ে যেতে পারব বলে আশা করছি। চলতি বছরেই আমরা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও অধিক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে পারব বলে আশা রাখি।

প্রশ্ন: দৈনিক বা মাসিক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কী পরিমাণ লেনদেন হচ্ছে?

জাফর আলম: এসআইবিএলের এজেন্ট আউটলেটে দৈনিক দেড় থেকে দুই লাখ লেনদেনের মাধ্যমে ১৫-১৬ কোটি টাকা লেনদেন হয় এবং মাসিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এখানে প্রায় পৌনে দুই লাখ হিসাবের বিপরীতে সংরক্ষিত আমানতের পরিমাণ কমবেশি ৬০০ কোটি টাকা।

প্রশ্ন: এজেন্টদের মাধ্যমে মাসে এখন কী পরিমাণ বিনিয়োগ বিতরণ হচ্ছে?

জাফর আলম: আমরা এরই মধ্যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করেছি। এজেন্টদের মাধ্যমে মাসে এখন ৫০ লাখ টাকার ওপরে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ বিতরণ করা হচ্ছে। শিগগিরই এসএমই ও কৃষি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং রিটেইল ইনভেস্টমেন্টের আওতায় কনজ্যুমার বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করা হবে। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই সব ব্যাংকিং সুবিধা পাবে। এতে গ্রামে-গঞ্জে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে।

প্রশ্ন: গ্রাহকদের জন্য নতুন কোনো সেবা চালুর পরিকল্পনা আছে কি?

জাফর আলম: অবশ্যই আছে। শাখা-উপশাখার মতো পূর্ণাঙ্গ গ্রাহকসেবা এজেন্ট আউটলেটেও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। ভবিষ্যতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই প্রান্তিক মানুষ সব ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা পাবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও ভাগ্যোন্নয়নে এজেন্ট ব্যাংকিং ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। শিগগিরই গ্রাহকরা এজেন্ট আউটলেট থেকে কিউআর কোড (ছজ ঈড়ফব) দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এজেন্টের মাধ্যমে যাতে গ্রামের মানুষ সরকারি বিভিন্ন অনুদান ও বৃত্তির টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সম্মানীর ভাতা গ্রহণ করতে পারেন, এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

প্রশ্ন: এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যাংকের মুনাফায় কতটা প্রভাব রাখছে?

জাফর আলম: আমাদের উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এজেন্ট যেন লাভের ভিত্তিতে আউটলেট পরিচালনা করতে পারে। এখানে ব্যাংকের মুনাফার বিষয়টি মুখ্য নয়। তারপরও বলতে পারি, ব্যাংকের লাভের ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং নিশ্চয়ই ভূমিকা রাখবে। ২০২০ সালের প্রথম থেকেই আমাদের ব্যাংক এ খাত থেকে মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ এজেন্ট আউটলেট লাভজনক অবস্থায় আছে।

প্রশ্ন: এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আপনাদের মাসে কী পরিমাণ প্রবাসী আয় আসছে?

জাফর আলম: দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং। প্রান্তিক জনগণের কাছে রেমিট্যান্স সেবার জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমাদের এজেন্ট ব্যাকিং থেকে এখন প্রতি মাসে কম-বেশি ৩০-৪০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আহরণ হচ্ছে।

আরও দেখুন: এসআইবিএল এর প্রধান রেমিট্যান্স কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিলেন মোশাররফ হোসাইন

সোর্স: শেয়ারবিজ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button