অর্থ ও বাণিজ্য

তুলে নেয়া আমানত ফের জমা হচ্ছে ব্যাংকে

ব্যাংকে নগদ টাকার কোনো ঘাটতি নেই। বিভ্রান্তি দূর হওয়ায় গ্রাহকদের টাকা তোলার প্রবণতাও কেটে গেছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংক বলছে, এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, প্রয়োজন না থাকায় কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তারল্য-সহায়তাও ফেরত দিতে যাচ্ছে ব্যাংকগুলো।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

সম্প্রতি দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে কিছু নেতিবাচক খবর প্রচার করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম। এতে আমানতকারীদের মাঝে সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গ্রাহকের মধ্যে আমানত তোলার প্রবণতাও দেখা যায়।

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আস্থা ফেরায় তুলে নেয়া আমানত ফের জমা হচ্ছে ব্যাংকে। ব্যাংকাররা বলছেন, তারল্য ওঠানামা একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই মুহূর্তে ব্যাংকে নগদ অর্থের সংকট নেই।

এফএসআইবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী বলেন, “গ্রাহকদের মনের মধ্যে বিচলিত একটা ভাব দেখা গিয়েছিল। এমনও নিউজ এসেছে যে ব্যাংকগুলো টাকা দিতে পারছে না। কিন্তু এমন একটা দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারেননি। সেই সাময়িক ব্যাপারটা কেটে গেছে এবং মানুষের আস্থার জায়গাটা আবার ফিরে এসেছে।”

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যাংক নগদ অর্থের সংকটে পড়লে রেপোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সহায়তা দিয়ে থাকে। এতদিন শরীয়াহভিত্তিক বা ইসলামী ধারা ব্যাংকগুলোর জন্য তেমন সুযোগ ছিল না।

তাই সুকুক বন্ডের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সম্প্রতি ৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেয় কেন্দ্রিয় ব্যাংক। কয়েকটি ব্যাংক এই সহায়তা নিলেও ১৪ দিনের মধ্যেই ফেরত দিতে যাচ্ছে।

সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী বলেন, “সেই সুযোগটা আমরা নিয়েছি এবং আমরা সেই ১৪ দিনের জন্য টাকাটা যাদের প্রয়োজন ছিল তারা নিয়েছি। আবার ১৪ দিনের আগেও কেউ কেউ দিয়ে দিয়েছেন।”

ব্যাংক খাত অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। আর আমানত নিয়ে গ্রাহকদের শঙ্কার কোনো কারণ নেই বলছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, “সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলো তরল সম্পদ সংরক্ষণের যে রিকোয়্যারমেন্ট সেটা কিন্তু পরিপূর্ণভাবে পরিপালিত হয়েছে। এক্ষেত্রে তারল্যের কোনো ঘাটতি নেই। তার মানে গ্রাহকের আস্থা আবার ফিরে এসেছে।”

অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “অনেক লোক আছে যারা না বুঝে কথা বলছেন। আসলেই এটা ছিল উদ্দেশ্যমূলক একটা গুজব“

আরও দেখুন:
সংকটে ব্যাংকের ওপরই ভরসা রাখুন: মাসরুর আরেফিন
রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ী স্কিম চালুর কথা ভাবছে সরকার

দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংক খাতের অবদান অনস্বীকার্য। সব বাধা পেরিয়ে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় এখাত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button