কমিয়ে আনতে হবে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়

0

ঋণ বিতরণ হলেও আদায় হচ্ছে কম। অপরদিকে গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের পাওনা সুদ বাড়লেও তা হিসাবের খাতায় যোগ হচ্ছে না। কিন্তু আমানতের বিপরীতে ব্যাংককে সুদ দিতে হবে ঠিকই। রয়েছে ব্যাংক পরিচালনার নিয়মিত খরচ, করোনাকালে কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় বাহুল্যসহ সব ধরনের পরিচালনা খরচ কমিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের এমন চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। চিঠিতে পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে আনতে কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অবশ্য চিঠিতে কোনো খাত উল্লেখ করে ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়নি। আবশ্যকীয় ও বাহুল্য ব্যয় চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

যেকোনো ব্যয় করতে যৌক্তিকতা দেখার জন্য ব্যাংককে উদ্যোগী হতে বলা হয়। কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর পরিচালনায় ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির। অনলাইনে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংক খাতের খরচ কমিয়ে আনার জন্য বলা হয়।

তখন ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, খরচ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ব্যাংক ভিত্তিক ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এক ব্যাংক তার সক্ষমতা ও সুবিধা অনুযায়ী পরিকল্পনা নেবে। করোনাকালে কিছু ব্যয় বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম এখন পুরোদমে চলছে। কিন্তু স্বাস্থ্যগত পরিবেশের স্বাভাবিক সময় ফিরে না আসা পর্যন্ত তা এমনিতেই বন্ধ রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেন কোনো অভিযোগ না নেয়।

বৈঠকে উপস্থিত যারা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরাও ব্যাংকের পরিচালনা খরচ কমিয়ে আনার পক্ষে। আগে ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে হবে। আমরা চেয়েছি কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেন কোনো বিষয়ে নির্ধারণ করে না দেয়। বর্তমানে কিছু সুবিধা সীমিত করা হবে মাত্র, যা আবার চালু করা যাবে। এ বিষয়ে আমরা কর্মীদের সঙ্গেও আলোচনা করে যাচ্ছি।’

জানা গেছে, ব্যাংক ও কর্মীদের রক্ষায় পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনতে এমন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সভায় গভর্নরের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বেশ কিছু খাতের ব্যয়ের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় সফর, বিদেশে ভ্রমণ, ট্রেনিং, বিজনেস ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসেবে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন, বড় পরিসরে সামষ্টিক ভোজ প্রভৃতি না করা।

জানা গেছে, করোনাকালে ব্যাংকগুলোর আয় কমেছে অনেকটা, যদিও ব্যাংক লেনদেন সময় স্বাভাবিক সময়ের মতো করা হয়েছে। তারপরও নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ব্যাংকমুখী হচ্ছেন না কেউ। ঋণ বিতরণ, আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম কমে যাওয়ায় আয় কমেছে ব্যাংকের। অপরদিকে আগের বিতরণ করা ঋণের কিস্তি ও সুদ আদায় বন্ধ রয়েছে। এসব খাত থেকে ব্যাংকের নিয়মিত আয় হয়। কিন্তু এসব খাতের আয়ও একপ্রকার বন্ধ রয়েছে।

করোনাকালে ঋণ কিস্তি পরিশোধে অব্যাহতি দেওয়ায় গ্রাহকরাও পরিশোধ করছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন সুবিধা দিয়েছে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ফলে ব্যাংকগুলোকে নতুন করে কোনো নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখতে হবে না খেলাপি ঋণের বিপরীতে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রহীতাদের ঋণমান একই থাকবে।

এতে ব্যাংকের সুদ আয় কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ কাগজে সুদ যোগ হলেও তা আয় খাতে নিতে পারছে না ব্যাংকগুলো। সম্ভাব্য এ আয়কে অনেক ব্যাংকই আয় খাতে দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আদায় না হওয়া অর্থ আয় হিসাবে দেখাতে পারবে না ব্যাংকগুলো, এমন নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

এসবের মাঝেও ব্যাংকের বড় মুনাফা আসবে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন না রাখায়। স্বাভাবিক সময়ে ব্যাংকগুলোয় প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু এবার নতুন করে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে না এ বছর, শুধু গত বছরের পরিমাণ রাখলেই চলবে।

জানা গেছে, করোনাকালের মাঝেও মুনাফা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ রয়েছে পরিচালনা পর্ষদের। তাই মুনাফা বাড়াতে খরচ কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকগুলো। শেয়ার বিজ।

Leave a Reply