আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গ্রুপ স্টাডির গুরুত্ব

0
134

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরীক্ষার আগের সময়টায় লাইব্রেরিতে বসে চার-পাঁচজন মিলে গ্রুপ স্টাডি করেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রে গ্রুপ স্টাডি কিন্তু বেশ সহায়ক। এর বহু ভালো ও উপকারী দিক রয়েছে। যেমন ক্লাসে শিক্ষকের দেয়া লেকচার মূলত টুকে রাখা হয় খাতায়। আবার অনেকেই রেকর্ড করে রাখেন। কিন্তু বাসায় গিয়ে দেখা যায় অনেক অংশই মেলাতে পারছেন না। আবার অনেক শক্ত টপিক ধাতস্থ হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে বন্ধুরা মিলে যদি একসঙ্গে বসে আলোচনা করা হয়, তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যায়। এতে পড়াটা পুরোপুরি বোঝা যায় ও পড়ায় একঘেয়েমি তৈরি হয় না।

গ্রুপ স্টাডি কি?

গ্রুপ স্টাডি সম্পর্কে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার নাজিয়া রহমান বলেন, “একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে কয়েকজন যখন তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে পড়াশোনা করে সেটাই মূলত গ্রূপ স্টাডি”।

গ্রুপ স্টাডিতে মূলত একজন কোনো বিষয় সমাধান করে বাকিদের বুঝিয়ে দেন। আবার অন্যরা সে বিষয়ে যেকোনো প্রশ্ন করতে ও সহজেই শিখে নিতে পারেন। অর্থাৎ একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্যে পৌঁছাতে কয়েকজনের একটি দল তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে পড়াশোনা করেন। ফলে কঠিন পড়াও সহজেই বুঝে নিতে পারেন সবাই। এতে নির্দিষ্ট বিষয়ে যদি কেউ দুর্বলও হয়ে থাকে, তিনিও উতরে যেতে পারেন অনায়াসে।

গ্রুপ স্টাডির উপকারিতাঃ

একা পড়ার চেয়ে কয়েকজনের বন্ধু দল যখন একসঙ্গে প্রশ্নোত্তর সমাধান করেন, তখন অনেক জটিল বিষয়েরও জট খুলতে থাকে। গ্রুপ স্টাডির বেশকিছু উপকারিতা রয়েছে। সেগুলো হলো—

• যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে এক একটি ক্লাসে শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক, সেহেতু শিক্ষক যখন লেকচার দেন, তখন কোনো বিষয়ে না বুঝলে বারবার প্রশ্ন করা অনেক সময়ই হয়ে ওঠে না। আবার বাড়ি ফিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও হয়তো সমস্যার সমাধান হয় না। যদি এমন হয়, কয়েক বন্ধু মিলে নির্দিষ্ট সময়ে বসে পড়াশোনা ও আলোচনা করা যায়, তাহলে একজন অন্যজনকে বোঝানোর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান মেলে। আবার প্রত্যেকেই সমস্যা বের করে ও নোট করার মাধ্যমে সেগুলো শিক্ষকের কাছ থেকে সমাধান নিয়ে আসতে পারেন।

• গ্রুপ স্টাডির অন্যতম সুবিধা হচ্ছে, যিনি পড়া বোঝান, তিনি ছোট ছোট কৌশলও শিখিয়ে দেন অন্যদের। এতে সহজে ও অল্প পড়াতেও অনেক কিছু মনে থাকে। যেখানে নিজে বুঝতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হয়, সেখানে গ্রুপ স্টাডি পড়ার গতি বাড়ায় ও আগ্রহ তৈরি করে।

• গ্রুপ স্টাডি করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। যদি এমন নিয়ম তৈরি করা যায়, একটি অধ্যায়ের চারটি ভাগ করে চারজন বন্ধু চারটি অংশ পড়ে বোঝাবে, তাহলে প্রত্যেকেরই পড়ার, উচ্চারণের এবং বোঝানোর দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে কয়েক গুণ।

• গ্রুপ স্টাডি করলে পড়া আত্মস্থ করার ক্ষমতা বাড়ে। বড় সিলেবাস হলে সবকিছুই মুখস্থ করা যায় না। কিছু মুখস্থ করতে হয় আর কিছু আত্মস্থ করে মনে গেঁথে নিতে হয়। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিও হয় শক্তপোক্ত। দলীয়ভাবে পড়াশোনা করলে একজনের পড়ার ধরন ও কৌশল অন্যে একজনের মধ্যে নতুন ধারণার উন্মেষ ঘটাতে পারে।

• শুধু পড়া ভালো মনে রাখাই নয়, সুন্দরভাবে লেখাও ভালো ফলাফল করার অন্যতম একটি সূত্র। গ্রুপ স্টাডি করলে প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে লেখাও শেখা যায়।

গ্রুপ তৈরি ও পড়াশোনাঃ

• গ্রুপ স্টাডির সময় দল যত ছোট হবে, তত বেশি সুবিধা। এতে সময় নষ্ট হয় কম ও অনেক আলোচনা করা যায়।

• সর্বোচ্চ পাঁচজনের দল গঠন করতে পারেন পড়াশোনার জন্য। সহপাঠী যাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, তাদের নিয়ে এই দল গঠন করতে পারেন। তবে যে যে বিষয়টি বেশি ভালো জানে, তার সাহায্য নেয়া যেতে পারে সে বিষয় পড়াশোনা করার সময়।

• একে অন্যের সঙ্গে যেন সহজেই যোগাযোগ করা যায়, সে ব্যবস্থাও সম্পন্ন করে ফেলুন শুরুর দিনেই।

• গ্রুপ স্টাডির সময় নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে হবে দলের সবার সুবিধা বুঝে।

• সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা সময় নিন গ্রুপ স্টাডির জন্য।

• যারা যারা পড়া বোঝাবেন, তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে ছোট ছোট নোট টুকে রাখুন।

গ্রুপ তৈরিতে যা এড়িয়ে যেতে হবেঃ

• দেরি করে গ্রুপ স্টাডিতে অংশগ্রহণ করা যাবে না। দলের সবাইকে চেষ্টা করতে হবে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলার।
• অনেক সময় দেখা যায় পড়াশোনা ও আলোচনা শুরুর মাঝখানে একজন প্রবেশ করল। সেক্ষেত্রে মনোযোগ ও সময় দুটোই নষ্ট হয়। তাই প্রত্যেকেরই সময়জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
• পড়াশোনার এক ফাঁকে ছোট্ট চায়ের বিরতি নেয়া যেতে পারে। তবে সে বিরতি যেন বেশি সময়ের না হয়। এতে পড়ার মুড নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত ও পরিমার্জিত।

Leave a Reply