বেসিক ব্যাংক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত

0

বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমাতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার এ আদেশ দেন। ব্যাংকটির ছয় কর্মকর্তার করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

বেসিক ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো বাতিল এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কমিয়ে ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে গত ২২ ডিসেম্বর একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি ব্যাংকটির সব শাখার প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক বিগত সাত বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানে থাকায় ২০১৩ সালের প্রবর্তিত ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধাদি বাতিল করা হলো। চিঠিতে আরো বলা হয়, বিগত সাত বছর লোকসান হওয়ায় আগের মতো বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের তুলনায় অত্যাধিক বেতন ভাতা চালু আছে বেসিক ব্যাংকে। এই অতিরিক্ত বেতন ভাতা ব্যাংকের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন থেকে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০১৫’ এর অনুরূপ কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন। ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের বেতনকাঠামো বহির্ভূত অন্যান্য সুবিধাদি পর্ষদের অনুমোদন ক্রমে প্রদান করা হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৪৮৭তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই মধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ ডিসেম্বর জারি করা চিঠি চ্যালেঞ্জ করে এ রিট আবেদন করা হয়।

Leave a Reply