স্থানীয় এলসির দেনা শোধে গড়িমসি করলে ব্যবস্থা নিবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাংকগুলোয় খোলা ব্যাক টু ব্যাক এলসির দেনা যথাসময়ে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, কোনো ব্যাংক করোনার অজুহাত দেখিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এলসির দেনা পরিশোধে দেরি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনার আলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যাংক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়টিও সুনির্দিষ্ট করে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১২ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা একটি সার্কুলারের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওই সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কোনো বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসা শাখার লাইসেন্স স্থগিত করা, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া, শাখা ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ, চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে অনেক ব্যাংক স্থানীয়ভাবে খোলা ব্যাক টু ব্যাক এলসির দেনা নিয়মিত শোধ করছে না। এমনকি ব্যাংকগুলো কোনো কারণ ছাড়াই এলসি গ্রহণ করার নিশ্চয়তাপত্রও দিচ্ছে না, আবার এলসির ত্রুটি উল্লেখ করে গ্রাহককে কিছু জানাচ্ছেও না।

এতে এলসির দেনা পরিশোধ যেমন বিলম্বিত হচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বিশেষ করে করোনার প্রভাবে রফতানি পণ্যের বিল সময়মতো আসছে না। ফলে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাক টু ব্যাক এলসির দেনা পরিশোধ করতে পারছে না। এ জটিলতা এড়াতে ব্যাংকগুলো নিজেদের স্বার্থে যথাসময়ে এলসি গ্রহণ বা বাতিল করার বিষয়টি গ্রাহককে জানাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ব্যাংকগুলো রফতানিমুখী শিল্পে স্থানীয়ভাবে কাঁচামালের জোগান দেয়ার জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলে থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে ব্যাক টু ব্যাক এলসির ব্যাংকের কাছে এলে ব্যাংক তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। এতে কোনো ত্রুটি না থাকলে গ্রহণ করবে, আর কোনো ত্রুটি থাকলে তা গ্রাহককে জানাবে।

বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, কোনো এলসির কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে তা ৫ কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে জানাতে হবে। গ্রাহক তা সংশোধন করে দিলে এলসি খোলার বিষয়ে ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে। এলসির কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি না থাকলে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে খুলতে হবে। এতে অহেতুক কোনো গড়িমসি করা যাবে না। একই সঙ্গে এসব এলসির দেনা শোধেও কোনো অহেতুক বিলম্ব করা যাবে না।

কোনো ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে ঋণ নেয়া হলে এবং এসব কোনো এলসির রফতানি আয় নির্ধারিত মেয়াদের আগে চলে এলে তা দিয়ে আগেই ঋণ সমন্বয় করতে হবে। করোনার কারণে রফতানি আয় আসতে দেরি হলে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী গ্রাহকের নামে ফোর্স লোন সৃষ্টি করে ব্যাক টু ব্যাক এলসির দেনা সমন্বয় করতে হবে।

জাইকার ঋণের শর্ত শিথিল:

জাপানের বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকারখানার জন্য নিরাপদ ভবন তৈরি করতে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। এ ঋণের অর্থ আগে অন্য এলাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত কারখানাগুলো পেত। এটি সংশোধন করে বলা হয়েছে- এখন থেকে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত গার্মেন্ট কারখানাগুলোও এ ঋণ পাবে। ফলে চট্টগ্রাম শহরের বাইরের কারখানাগুলো জাইকার তহবিল থেকে ঋণ পাবে। এ বিষয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অপর একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়ম গ্রাহকদের জানানোর নির্দেশ:

সময়, চাহিদা ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করার বিধিবিধানে পরিবর্তন আনা হয়। এগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সার্কুলার বা নীতিমালা জারির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলো পরিবর্তিত নিয়মগুলো গ্রাহকদের জানাচ্ছে না। এ ধরনের অনেক অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের পরিবর্তিত বিধিবিধান গ্রাহকদের জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী ও প্রধান শাখা ব্যবস্থাপকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা সার্কুলারে সাধারণত স্বাক্ষর করে বিভাগীয় প্রধান মহাব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট উপ-শাখার কর্মকর্তা। এবারের এ সার্কুলারে স্বাক্ষর করেছেন বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবির।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, সার্কুলারটির গুরুত্ব সম্পর্কে ব্যাংকগুলোকে ধারণা দিতেই নির্বাহী পরিচালক এতে স্বাক্ষর করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের পরিবর্তিত বিধিবিধানগুলো গ্রাহকরা না জানার কারণে একদিকে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনে বৈদেশিক অর্থনৈতিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Leave a Reply