গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেতে যে শর্তগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে!

0
98

টিআইবিঃ আপনি যদি ব্লগিং শুরু করে অনলাইনে নিয়মিত ঘাটাঘাটি করে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে শুনেছেন। হ্যাঁ বন্ধুরা আজ আমরা গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব। আশা করি পুরো সময় জুড়ে আমাদের সাথেই থাকবেন। আসুন প্রথমেই জেনে নেই গুগল অ্যাডসেন্স কি?

গুগল অ্যাডসেন্স কি?

গুগল অ্যাডসেন্স হল আইটি জায়ান্ট গুগলের মালিকানাধীন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় আডভারটাইজিং মাধ্যম। যার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগে গুগলের বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

বিভিন্ন পণ্যের বা সেবার প্রচার ও বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই অ্যাডসেন্স এর নিকট চুক্তিবদ্ধ। প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সেবার প্রচার ও বিক্রয়ের জন্য অ্যাডসেন্সকে অর্থ প্রদান করে। অ্যাডসেন্স তাদের পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সাইটে প্রচার করে। এই প্রচার বাবদ অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ তার প্রাপ্য অর্থে একটি অংশ সাইটের মালিকগনকে প্রদান করে।

অ্যাডসেন্স ডেস্কটপ ওয়েবসাইট, ভিডিও, গেমস, মোবাইল অ্যাপস এবং আরও অনেক কিছুর জন্য উন্মুক্ত। অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন টেক্সট এবং ইমেজ সহ বিভিন্ন বিন্যাস এবং মাপ থাকে।

অ্যাডসেন্সে আবেদন করার পূর্বে যে শর্তগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে?

অনেকেই বলে বাংলাদেশ থেকে গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট দিচ্ছে না, আবার অনেককে এমনো বলতে শুনি ৬ মাসের আগে গুগল অ্যাডসেন্সে আবেদন করা যায় না। এসব কথা গুলি কেবলই বানোয়াট এবং ভুল ব্যাখ্যা। আমাদের দেশের বেশির ভাগ নতুন ব্লগারদের ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা অ্যাডসেন্স শর্তগুলো পূরণ না করেই আবেদন করে। অনেকেই আবার অন্য সাইট থেকে কনটেন্ট কপি করে ব্লগে পেস্ট করে তারপর অ্যাডসেন্স এ আবেদন করে। আর এজন্যই তাদের অ্যাডসেন্স কখনোই Approved হয় না এবং তখনই তাদের মনে হয় অ্যাডসেন্স সোনার হরিণ। কিন্তু অ্যাডসেন্স সোনার হরিণ নয়। আপনি অ্যাডসেন্স এর শর্তগুলো মেনে তারপর আবেদন করুন যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে আপনার অ্যাডসেন্স ৪/৫ দিনের মধ্যেই Approved হবেই। আসুন আজ আমরা জেনে নেই গুগল অ্যাডসেন্সের Approved পাওয়ার জন্য কি কি ব্যাপার গুলো অবশ্য আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

ক) কন্টেন্ট এর ধরন:

১। অ্যাডসেন্স এ এপ্লাই করার পূর্বে সবসময় খেয়াল রাখবেন আপনি কি ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ করছেন। অবশ্যই কন্টেন্ট হতে হবে কপি পেস্ট বিহীন। কপি পেস্ট করে কক্ষনোই অ্যাডসেন্স একাউন্ট পাওয়া সম্ভব নয় কারন অ্যাডসেন্স অরিজিনাল কন্টেন্ট বিহীন সাইটে এড শো করতে চায়না।

২। আমরা কন্টেন্ট লিখি ইউজারের জন্য যা সব সময় সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি হতে হয়।

৩। আরও কিছু জিনিস আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোন ক্রমেই সাইটে কপিরাইট ছবি বা কনটেন্ট ব্যবহার না করেন এটা ওদের নীতিমালা বিরোধী।

৪। এছাড়া পর্নোগ্রাফি, হ্যাকিং, গেম্বলিং বা অবৈধ কিছু নিয়ে লেখা আর্টিকেল সাইটে পাবলিশ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। সাভাবিক নিয়মে ব্লগ কন্টেন্ট লিখুন তাহলেই সম্ভব দ্রুত Approval পাওয়া।

৫। অ্যাডসেন্স এ আবেদন করার জন্য সর্বনিম্ন কতটি পোস্ট থাকতে হবে এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোন উত্তর নেই। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলবো অবশ্যই ২০-২৫ টি অরিজিনাল কন্টেন্ট দিয়ে নিবেন এবং যেগুলোর ওয়ার্ড লিমিট সর্বনিম্ন ৬০০ ওয়ার্ডের মধ্যে হতে হবে।

৬। পোষ্টগুলো লিখার সময় টপিক্স রিলেটেড মোটামুটি হাই সিপিস ও হাই কম্পিটেটিভ(এডওয়ার্ড অনুযায়ী) কিয়ার্ড টার্গেট করে পোষ্ট লিখবেন এতে করে গুগল আপনার সাইটে এড দিতে বেশ আগ্রহী হবে এবং দ্রুত অ্যাডসেন্সের Approved পাওয়া যাবে।

৭। গুগল অ্যাডসেন্সে আপ্লাই করার পূর্বে অবশ্যই সব গুলো পোষ্ট যাতে সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পোষ্ট গুলোকে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া এবং বুকমার্ক সাইট গুলোতে শেয়ার করতে হবে। এতে করে সাইটে ট্রাফিকও দিন দিন বেড়ে যাবে।

৮। পোষ্টে অতিরিক্ত কিওয়ার্ড ইউজ করে স্টাফিং করা যাবেনা।

খ) সাইটের ডিজাইন এবং ন্যাভিগেশনঃ

১। অ্যাডসেন্সের Approved পাওয়ার জন্য সাইটের ডিজাইনটি অনেক গুরুত্তপুর্ণ। আপনার সাইটের ডিজাইন আপনার দক্ষতার প্রমান রাখে সুতরাং আপনার সাইট টিকে এমন ভাবে ডিজাইন করুন যাতে করে মনে হয় না সাইটি অনেক নতুন এবং এখনো কাজ চলছে তার মানে Under Construction। গুগল কক্ষনো আন্ডার কন্সট্রাকশন সাইটে অ্যাডসেন্সের এপ্রুভাল দেয়না।

২। উৎকট কালার এবং অতিরিক্ত কালারফুল ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে ডিজাইন করা সাইটের ৯০% ই এপ্রুভাল পায় না, তাই এসব ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।

৩। এছাড়াও সাইটের ন্যাভিগেশন লেভেলও ইজি হতে হয় আবার সাইটের পেজ ও লিংক স্ট্রাকচারও হতে হবে অবশ্যই স্টান্ডার্ড।

গ) গুরুত্বপূর্ণ কিছু পেজ তৈরিঃ

১। Privacy Policy পেজঃ এটা একটা খুবই সাধারন ভুল যেটি সকলেই করে থাকে। গুগল একটি সাইটের Privacy Policy কে অনেক গুরুত্ব দেয়। Privacy Policy মূলত আপনার সাইটের ভিসিটর এবং পাঠকদের কি করা উচিত এবং কি উচিত নয় আপনার ব্লগে তারা কি কি পাবে এবং আপনি আপনার ব্লগটিকে কিভাবে ব্যবহার করেন সেটি আলোচনা করে। তাই সাধারণ ভাবে একটি Privacy Policy পেজ থাকা জরুরী। নিজেই আপনি ব্লগের Privacy Policy পাতা তৈরি করে নিতে পারেন সেক্ষেত্রে কিছু সাইটের Privacy Policy পাতা গুলো পড়ে নিন কি বা কিভাবে লিখতে হবে বুঝার জন্য।

২। About Us পেজঃ About Us পেজটিও আপনার সাইটে অ্যাডসেন্স Approval পাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্তপূর্ণ। আপনি যদি এই পাতাটি তৈরি না করে অ্যাডসেন্স এর আবেদন করেন তাহলে আপনার অ্যাডসেন্স Approved হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। About Us পাতাটি মুলত আপনা বা আপনার সাইটের সম্পর্কে আলোচনা করে। কিভাবে সাইটা শুরু হল, কে বা কারা এই সাইটি দেখাশোনা করে এবং সাইটি কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এসব তথ্য About Us পেজের মূল উপাদান। এজন্য অ্যাডসেন্স এ আবেদনের পূর্বে আপনাকে অবশ্যই একটি About Us পাতা তৈরি করে নিতে হবে। কয়েকটি সাইট ভিজিট করে তাদের About Us পেজটি পড়ে নিয়ে লিখা শুরু করে দিন।

৩। Contact Us পেজঃ Contact Us পেজ মুলত আপনার ভিসিটর এবং পাঠকদেরকে আপনার সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেয়। Contact Us পেজের মাধ্যমে আপনার পাঠকেরা আপনার সাহায়্য পায় তার মানে আপনি আপনার ভিসিটর ও পাঠকদের কেয়ার (Care) করেন যেটা অ্যাডসেন্স পছন্দ করে। তাই আবশ্যই আপনার সাইটে একটি Contact Us পাতা তৈরি করবেন।

ঘ) অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কঃ

এটা অনেক গুরুত্তপুর্ন একটি বিষয়। অ্যাডসেন্স এবং ক্লিকসর একসাথে ব্যবহার করা যায় না। কারন ক্লিকসর কনটেক্সচুয়াল এড যেটা অ্যাডসেন্স এর টার্মস বিরোধী। ইয়াহুর ব্যাপারটাও সেম। তাই অ্যাডসেন্সে এপ্লাই করতে হলে আপনাকে অবশ্য এই ধরণের এড গুলো সাইট থেকে রিমুভ করে নিতে হবে। যতদূর অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে ইয়াহু অথবা ক্লিকসর অ্যাডসেন্সের সাথে বসালে এমনিতেই এডসেন্স ব্যান হয়ে যাবার কথা। আর এডব্রাইট এবং বিডভার্টাইজার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিৎ। এফিলিয়েট লিংক থাকলে সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিৎ। আমি মনে করি আবেদনের পূর্বে রিস্ক ফ্রি থাকার জন্য জাস্ট লিংক গুলো উঠিয়ে রেখে এপ্লাই করা ব্যাটার হবে।

ঙ) টপ লেভেল ডোমেইনঃ

ব্লগস্পট ডট কম দিয়ে অ্যাডসেন্স পাওয়ার দিন শেষই বলতে হবে। একটা সময় ছিলো যখন হয়তো খুব সহজেই সাব ডোমেইন গুলো দিয়ে এপ্লাই করেই অ্যাডসেন্স পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আপনাকে এই নীতি চেঞ্জ করতে হবে। এখন দ্রুত অ্যাডসেন্স আপ্রুভাল পেতে হলে আপনার ব্লগটি অবশ্যই টপ লেভেল ডোমেইন হতে হবে যেমন com, net, org ইত্যাদি। যারা ব্লগস্পট বা সাব ডোমেইন দিয়ে অ্যাডসেন্স পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা এখনি একটি টপ লেভেল ডোমেইন কিনে ফেলুন এটা অনেক ট্রাস্টেড অফশন হবে আপনার জন্য। ভিজিটরদের ভালো রেসপন্স পাওয়ার জন্যও টপ লেভেল ডোমেইন অত্যাবশ্যক।

উপরে আলোচিত বিষয়গুলো সঠিক ভাবে ইমপ্লিমেন্ট করুন এবং তারপর অ্যাডসেন্স এ আবেদন করুন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র!

আবু তাহের সুমন এর লেখা সংশোধিত ও পরিমার্জিত।

Leave a Reply