খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমলো

রাষ্ট্রীয় ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণ কমাতে পারছে না। এ অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করা হয়েছে। এপিএ অনুযায়ী চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে খেলাপি ঋণের স্থিতি প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা কমিয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর নিজ নিজ প্রাক্কলন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২০২২ অর্থবছর শেষে ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৪৮ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সম্পাদিত ব্যাংকগুলোর ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) আওতায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

সূত্র জানায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এপিএ’র আওতায় খেলাপি ঋণ স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকগুলো। আলোচ্য বছরে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বেশি ছিল। অর্থবছর শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি বেড়ে যাওয়ার কারণে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ৫,৯০০ কোটি টাকা শিথিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী খেলাপি ঋণের স্থিতি নির্ধারণে নতুন অর্থবছরে সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করা হয়েছে। অপর তিন ব্যাংকের মধ্যে জনতা ও বিডিবিএলের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একমাত্র বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি আরও ৫০০ কোটি টাকা অধিক কমাতে বলা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সদ্যসমাপ্ত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণস্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ১১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ স্থিতি ৪৫৮ কোটি টাকা কমিয়ে আনতে হবে।

চলতি অর্থবছর শেষে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সমাপ্ত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণের স্থিতি ২৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা কমিয়ে আনতে হবে।

২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ১২ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। সে হিসাবে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ বর্তমান স্থিতি ধরে রাখলেই হবে।

চলতি অর্থবছর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। সমাপ্ত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ স্থিতি ৪৮৭ কোটি টাকা কমিয়ে আনতে হবে।

চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছর শেষে বিডিবিএলের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে বিডিবিএলের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৭২৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ স্থিতি ২৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কমিয়ে আনতে হবে।

এপিএ’তে একমাত্র বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি গত অর্থবছরের চেয়ে আরো ৫০০ কোটি টাকা বেশি কমাতে বলা হয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ স্থিতি ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ স্থিতি ৭ হাজার ৭২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণের স্থিতি এক হাজার ২২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কমানোর লক্ষ্যমাত্র দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুন: আন্তর্জাতিক কার্ডে ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধের সুযোগ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনা পরিস্থিতি আবারো অবনতি হওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের শিথিল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর এই বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button