অগ্রণী ব্যাংকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি না দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ!

অগ্রণী ব্যাংকের অফিসারদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পদোন্নতি না হওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ক্ষোভ যে কোন সময় প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

এতে ব্যাংকটি দীর্ঘ মেয়াদী লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। পদোন্নতি জট নিরসন করতে সোনালী ও জনতা ব্যাংকের মত সুপারনিউমারারি পদোন্নতির দাবিতে সাবেক এমডিকে কয়েক ঘন্টা অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। ওই অবরোধ প্রত্যাহার করতে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেছিলেন, সুপারনিউমারারি পদোন্নতি আমি দিবো, না দিতে পারলে আমি নিজে পদত্যাগ করবো। চেয়ারম্যানের কথায় অবরোধ প্রত্যাহার করলেও আজও হয়নি সুপারনিউমারারি পদোন্নতি।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০১০,২০১১,২০১২, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অগ্রণী ব্যাংকের সেবা বৃদ্ধির জন্য অফিসার ও সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটির মুনাফাও হচ্ছিল আশান্বিত। কিন্তু সেই গতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় ২০১৬ সালে নিয়োগ পাওয়া অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি শামস-উল ইসলাম। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পদের পদোন্নতিতে জটিলতা তৈরি হয়।

চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী অফিসার পদ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সিনিয়র অফিসারের পদোন্নতি পাওয়ার কথা। কিন্ত তা দীর্ঘ ১০ বছরেও অফিসারদের পদোন্নতির হচ্ছে না। সিনিয়র অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল অফিসার এবং প্রিন্সিপাল হতে সিনিয়র প্রিন্সিপাল হতে ৩ বছর সময় লাগে। অথচ ৭ থেকে ৮ বছর অতিবাহিত হলেও কোন পদোন্নতি হচ্ছেনা অদৃশ্য কোন কারণ ছাড়াই। এসব পদোন্নতির জটিলতা নিরসনের জন্য সুপারনিউমারারি পদোন্নতির দাবিতে সাবেক এমডি শামস-উল ইসলামের শেষ কর্ম দিবসে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পদোন্নতি না পাওয়া অফিসাররা কয়েক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এমডি শামস-উল ইসলামকে উদ্ধার করতে ওই সময় ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান জায়েদ বখত, পরিচালক কাশেম হুমায়ুন, জিএম ফজলুল হক, সিবিএ সভাপিত খন্দকার নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিনসহ কয়েক শ’অফিসারদের সামনে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ৩১ই আগস্টের মধ্যে সুপারনিউমারারি আকারে পদোন্নতির সকল কাজ সম্পর্ণ করা হবে এবং ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোর্ড মিটিংয়ে পদোন্নতির মেমো পাশ করা হবে। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান জায়েদ বখতের কাছে বঞ্চিত অফিসাররা তার প্রতিশ্রুতির গ্যারান্টি চান। তখন তিনি বলেছিলেন, এই প্রতিশ্রুতি আমি রক্ষা করবো, আর যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারি ৫ সেপ্টেম্বরের পর আমি জায়েদ বখত পদত্যাগ করবো। এখন অক্টোবর মাস অতিবাহিত হলেও কোন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি জায়েদ বখত। এমনই অভিযোগ করছেন ব্যাংকটির কর্মকতা ও কর্মচারীরা।

অগ্রণী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই দ্বিতীয় বার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে প্রভাবশালী মহলে তদবিরে ব্যস্ত ছিলেন সাবেক এমডি। তিনি আমাদের কথা ভাবেন নি। আমাদের বিনিত আবেদন চেয়ারম্যান স্যারের নেতৃত্বে আমাদের পরিচালক স্যাররা অচিরেই আমাদের সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দিবেন বলে মনে প্রাণে আশা করি।

আরও দেখুন: ব্যাংকারদের সুরক্ষায় স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ১১ দাবি

আরও এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের ব্যাংকে অফিসার পদোন্নতি হয় ৪১ জন। আর এজিএম পদোন্নতি হয় ১৫০ জন। যা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু নয়। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

অগ্রণী ব্যাংক স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান জুয়েল বলেন, ইতোমধ্যে আমরা সুপারনিউমারারি পদোন্নতির জন্য স্বাধীনতা ব্যাংকার্সের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে আবেদন করেছি। আশা করি চেয়ারম্যান স্যার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পেয়ে অফিসারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই পদোন্নতি না দেওয়া হলে আমাদের ব্যাংক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। যার দায় কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

অগ্রণী ব্যাংক স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। একটি মহল ষড়যন্ত্র করে সরকারের বদনাম করতে এই পদোন্নতি দিচ্ছেনা। কারন এই অফিসাররা আগামী নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবে। অফিসারদের চটালে সরকার বিরোধী মনোভাব হবে। যাতে বিএনপি জামায়াত নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নিতে পারে । এমনই একটা ষড়ষন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি । আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হয়ে এমন হতে দিতে পারি না।

অফিসার সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি নাজমা বেগম বলেন, আমরা অফিসার সমিতির পক্ষ থেকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতির দেওয়ার জন্য এমডি স্যার বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ আমাদের আবেদনে সারা দিবেন।

এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংক সিবিএর সভাপতি খন্দকার নজরুল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের সুপারনিউমারারি পদোন্নতি সোনালী ব্যাংকের আদলে হলে দীর্ঘ দিনের জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ইতোমধ্যে বোর্ড এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যাটি সমাধান করবেন।

স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেন, সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে আমাদের সবাই। আশা করি এ মাসের মধ্যেই সুপারনিউমারারি পদোন্নতি হতে পারে। তাহলেই দীর্ঘ দিনের পদোন্নতির জটিলতা নিরসন হবে। হাসি মুখে অফিসারা কাজ করলে ব্যাংক অনেক মুনাফা করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button