সুকুক (Sukuk) বা ইসলামিক বন্ড একটি সম্ভাবনাময় ইসলামিক আর্থিক পণ্য

0
124

বিশ্বব্যাপী ইসলামিক বন্ড ‘সুকুক’ (Sukuk) খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু আটটি পূর্ণ ইসলামিক ব্যাংক ও ১৭টি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো সুকুক (Sukuk) বা ইসলামিক বন্ড চালু হয়নি। তবে ভিন্ন নামে ইসলামিক বন্ড চালু থাকলেও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না গ্রাহকরা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের অধিকাংশ পরিমাপকে বাংলাদেশ এখনো পেছনের সারিতে রয়েছে। বছর আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছিলো।

দেশে স্বতন্ত্র ০৮টি ইসলামী ব্যাংক ও ১৭টি উইন্ডোজ ভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংক থাকতে এখনও সুকুক (Sukuk) বা ইসলামিক বন্ড কেন বাজারে নেই তা প্রশ্নই থেকে যাবে বৈকি!ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো তিনটি প্রাইভেট ব্যাংক ইসলামী পদ্ধতিতে পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে।সুতরাং বলা যায় যে ইসলামী ব্যাংকিং এর সাইজ আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে।এটি জনগনের বিশাল আগ্রহ ও সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিফলন।

যেকোন আর্থিক প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ‘পূঁজি’। এর প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর একটি হল- বন্ড। যা সুদবাহী। ঠিক এর বিপরীত ইসলামিক বিকল্প হল -‘সুকুক’ (Sukuk) বা ইসলামিক বন্ড।

সাধারণত অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো দীর্ঘ মেয়াদি অর্থসংস্থানের উৎস হিসেবে সুকুক ইস্যু করা হয়। যেমন, ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাওয়ার প্লান্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলো। প্রকল্প মালিক কিংবা কোনো সংস্থা এ প্রকল্পে অর্থসংস্থানের জন্য সমপরিমাণ অর্থের সুকুক ইস্যু করতে পারে। বিনিয়োগে আগ্রহী যে কোনো ব্যক্তি এ প্রকল্পের সুকুক কিনে প্রকল্পের ঘোষিত অংশ বা অংশবিশেষের মালিক হতে পারেন। প্রকল্পটি আয় বা মুনাফাযোগ্য হওয়ার পর সুকুকহোল্ডারগণ তাদের মালিকানার আনুপাতিক হারে মুনাফা অর্জনের অধিকারী হবেন। বিশ্বের বহু দেশে ইসলামি সুকুক চালু রয়েছে।

সর্বপ্রথম ১৯৭৭ ইং সনে ‘সুকূকুল মুকারাযা’ দিয়ে এর উত্থান। পরবর্তীতে তুরুস্কে ১৯৮৩ সনে Sultan Mohammed Al-Fateh Bridge (The Second Bosphorus Bridge) নির্মিত হয় ‘মুশারাকা সুকূক’ দিয়ে। আর তখনি তা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

২০০৩ ইং সনে AAOIFI প্রকাশ করে Investment Sukuk নামে ১৭ নং শরীয়াহ্ স্ট্যান্ডার্ড। পরবর্তীতে International Fiqh Academy পর্যায়ক্রমে ২০০৯ ও সর্বশেষ ২০১২ সনে Islamic Sukuk বিষয়ে শরীয়াহ্ রেজুলেশন পেশ করে।

শুধু এ বিষয়ে বহু স্বতন্ত্র গবেষণা রয়েছে। সুকূক নিয়ে অনেক কাজ করার সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশে এখনও তা আলোচনার পর্যায়ে। সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ,বাংলাদেশ ব্যাংক,বিআইবিএম সহ অন্যরা এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত। ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলিও জোরালো ভুমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বে ইসলামিক বন্ড সুকুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সৌদি আরবে। সুকুকের মোট শেয়ারের প্রায় ৩৯ শতাংশ তাদের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া। সুকুক দেশটির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৮ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে সুকুকের প্রায় ৩৩ শতাংশ শেয়ার মালয়েশিয়ার দখলে রয়েছে। এরপর রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া, কাতার, ওমান, তুরস্ক, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, হংকং, নাইজেরিয়া, ব্রুনাই ও জর্ডান।

ইসলামী ব্যাংকগুলো পুঁজি আহরন প্রচেষ্টায় এরই মধ্যে পুঁজিবাজারে বন্ড এনেছে। আইবিবিএল এর মুদারাবা পারপিচুয়াল বন্ড রয়েছে। আছে মুদারাবা রিডিমেবল বন্ড। এর বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার ইসলামিক বিনিয়ােগ বন্ড (Bangladesh Government Islamic Investment Bond-BGIIB)। এটি চালু হয়েছে ২০০৪ সালে। আরো কিছু আছে দেশের বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকগুলোতে। ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমাতে তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য অবিলম্বে সুকুকের প্রবর্তন জরুরি।