শিক্ষা ঋণ কি? দেশে-বিদেশে পড়তে শিক্ষা ঋণ দিচ্ছে যে ব্যাংকগুলো

0
245

শিক্ষার্থীদের কর্ম জীবনকে সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য গতানুগতিক ডিগ্রির পাশাপাশি উন্নত ও উচ্চপর্যায়ে বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন৷ দেশের বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক সহজ শর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে৷ আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে যে ঋণ দেয়া হয় তাই স্টুডেন্ট লোন বা শিক্ষা ঋণ নামে পরিচিত৷ কিছু কিছু ব্যাংক একে ক্যারিয়ার লোন বলে আবার কিছু ব্যাংক একে সরাসরি স্টুডেন্ট লোন বা শিক্ষা ঋণ নামে অভিহিত করে৷

সাধারণত অভিভাবক অথবা সরাসরি শিক্ষার্থীদেরও এ ধরনের ঋণ দেয়া হয়৷ তবে এ ক্ষেত্রে অভিভাবক অথবা শিক্ষার্থীদের ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু শর্ত মেনে ঋণ নিতে হয়৷

দেশে অথবা বিদেশে পড়াশােনার জন্যও এখন ব্যাংকের ঋণ মিলছে। দেশীয় ব্যাংকগুলাে দেশে পড়াশােনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ দেয়। আর বিদেশে গিয়ে পড়তে দেয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা।

অবশ্য শিক্ষা ঋণের গ্রাহক এখনাে কম। সুদের হার সাধারণ ঋণের মতােই। নিয়মকানুন বরং কড়া। আর শিক্ষার্থীর শিক্ষা নয়, ঋণ মেলে মূলত অভিভাবকের আয়ের ওপর।

দেশে নিম্ন আয় ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনেক আগ থেকেই শিক্ষাঋণ দিয়ে আসছে গ্রামীণ ব্যাংক। এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশীয় কয়েকটি ব্যাংকও এ সেবা শুরু করেছে। তবে সচেতনতা ও নিয়মকানুনের কারণে শিক্ষা ঋণ সেভাবে বাড়েনি। এরপরও ঋণ নিয়ে দেশে বা বিদেশে পড়ছেন বা পড়েছেন এমন ছাত্রের সংখ্যা কমও নয়।

শিক্ষার্থীর মেধা কেমন ও ফলাফল কেমন করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীর অনেক দেশে শিক্ষাঋণ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী পিতা-মাতা বা আইনত অভিভাবকের আয় কেমন, ঋণ পেতে তার ভূমিকা কম থাকে।

শিক্ষার্থীরা পড়াশােনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার পর ঋণ পরিশােধের সুযোগ পান। তবে বাংলাদেশে ঋণ দেওয়া হয় অভিভাবকের আয়ের ওপর ভিত্তি করে। অবশ্য চাকরিজীবীরাও ঋণ নিয়ে পড়াশােনা করতে পারেন।

শিক্ষা ঋণ দিচ্ছে এমন কয়েকটি ব্যাংক:

দেশের অর্থনৈতিক মন্দা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণদানের খাতসমূহকে সঙ্কুচিত করে দিলেও বিশেষ সেবা প্রদান কর্মসূচির আওতায় দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ঋণ দিয়ে থাকে৷ এর প্রধান উদ্দেশ্য, উচ্চবিত্তদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও যেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়৷

দেশের ব্যাংকগুলাে শিক্ষা ঋণকে বিভিন্ন নাম দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টুডেন্ট লােন, উচ্চশিক্ষা ঋণ, স্বপ্নযাত্রা, পড়ুয়া। প্রাইম, ব্র্যাক, ইস্টার্ণ, ডাচ-বাংলা, ঢাকা, মার্কেন্টাইল, আইএফআইসি, এনসিসি, স্ট্যান্ডার্ড, জনতা, ইসলামী, ওয়ানসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক শিক্ষাঋণ দিয়ে থাকে। বিদেশি ব্যাংকগুলােরও শিক্ষাঋণ আছে। এসব ঋণের গড় সুদহার ১০ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।

শিক্ষা ঋণ আবেদনের যোগ্যতা:

ঋণ পরিশোধে সক্ষম বিবেচিত যে কেউ এই ব্যাংকগুলো থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে ঋণ নিতে পারে৷ সাধারণত সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যাদের বেতন ১২-১৮ হাজার টাকা তারাই এ লোনের সুবিধা পেয়ে থাকেন৷ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আয়ের প্রমাণ সাপেক্ষে মাসিক আয় অবশ্যই ৫০ হাজার টাকা হতে হবে৷ ২৫ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সের যে কেউ যোগ্যতা অনুসারে ঋণ নিতে পারবেন৷

শিক্ষা ঋণ আবেদনের পদ্ধতিঃ

অভিভাবকরা যদি তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা নিতে আগ্রহী হন, তবে যেসব ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকে সেগুলোর যেকোনো শাখায় গিয়ে মার্কেটিং/ক্রেডিট বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে৷ সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই আপনাকে বিস্তারিত জানিয়ে দেবেন৷

তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও ডকুমেন্ট যেমন-আয়ের প্রমাণপত্র, কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সনদ ও ছাত্রছাত্রীর সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে৷ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নূন্যতম সময়ে আপনার কাঙিক্ষত ঋণ দিয়ে দেবে৷

শিক্ষা ঋণ নিয়ে দেশে পড়াশােনা করলে ব্যাংক সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে চেক দিয়ে দেয়। এ ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহারের সুযােগ কম। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যাংক নিজের প্রতি সেমিস্টারের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠিয়ে দেয়।

ইষ্টার্ণ ব্যাংকের জনসংযােগ বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম বলেন, যারা উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে যেতে চায়, ইষ্টার্ণ ব্যাংকে হিসাব খুললে তাদের ভিসা পাওয়া সহজ হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলাে নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি দিলে শিক্ষাঋণ বাড়বে। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য ভালাে হবে।

Leave a Reply