Tuesday, November 30, 2021

স্পাম ইমেইল কি? স্পাম ইমেইলের ক্ষতিকর দিক ও নিরাপদ থাকার উপায়?

জনপ্রিয় পোস্ট

ইমেইল এর দুনিয়ায় “স্পাম” একটি বহুল আলোচিত শব্দ। তবে স্পাম ইমেইল নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নাই। চলুন জেনে নেওয়া যাক স্পাম ইমেইল কি, স্পাম ইমেইল এর ধরন, স্পাম ইমেইল কেনো আসে, ক্ষতিকর স্প্যাম থেকে নিরাপদে থাকার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত।

স্পাম ইমেইল কি (WHAT IS SPAM E-MAIL)?

স্পাম ইমেইল হলো জাংক ইমেইল এর একটি রুপ, যা প্রাপকের দ্বারা অনাকাংখিত। মূলত এসব মেইলে বিজ্ঞাপন থাকে, যা প্রাপকের অনুমতি ছাড়া পাঠানো হয়। কেনা ইমেইল লিস্ট, ফেক কনটেস্ট, ইমেইল হারভেস্টিং প্রোগ্রাম, ইত্যাদির মাধ্যমে বেশিরভাগ স্পাম ইমেইল এর সূচনা ঘটে।

স্পাম ইমেইল এর ধরন?

বিভিন্ন ধরনের স্পাম ইমেইল হতে পারে। একেক ধরনের স্পাম ইমেইলের ক্ষেত্রে একেক ধরনের কৌশন অবলম্বন করে প্রতারকরা। সচরাচর যেসব স্পাম ইমেইল দেখা যায়, সেগুলো হলোঃ

ক. নকল ইনভয়েস স্ক্যামঃ
ভুয়া কোনো লেনদেনের বিল প্রেরণ করে প্রাপ্রককে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

খ. ইমেইল একাউন্ট আপগ্রেড স্ক্যামঃ
ইমেইল একাউন্ট এর গুরুত্বপূর্ণ কোনো সেটিংস পরিবর্তন করার কথা জানিয়ে ক্ষতিকর ফিশিং লিংকসহ মেইল পাঠানো হয়।

গ. এডভান্স-ফি স্ক্যামঃ
লটারি জেতার কথা বলে লটারিতে জেতা অর্থ পাঠাতে অগ্রিম ফি চাওয়া হয়।

ঘ. গুগল ডকস স্ক্যামঃ
কোনো ডকুমেন্ট এডিট করার অনুরোধস্বরুপ ভুয়া লিংক ব্যবহার করে একাউন্ট হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ঙ. আনইউজুয়াল এক্টিভিটি স্ক্যামঃ
একাউন্টে আনইউজুয়াল এক্টিভিটির কথা জানিয়ে একাউন্টের অ্যাকসেস নেওয়া হয়।

এছাড়া আরো অনেক ধরনের স্প্যাম আছে। অনেক সময় ইমেইলের স্প্যাম ফিল্টারের ভুলের কারণে ভালো ইমেইলও স্প্যাম বক্সে জমা হয়। তাই স্প্যাম ইমেইল চেনার জন্য নিজের বুদ্ধি-বিবেচনাকেও কাজে লাগাতে হবে।

স্পাম ইমেইল কেনো আসে?

একাধিক উপায়ে আপনার ইমেইল এড্রেস পৌছেঁ যেতে পারে একজন প্রতারকের হাতে। ইমেইল এড্রেস পাওয়ার পর প্রতারক আপনার ইমেইল এড্রেসে মেইল পাঠায়। যেসব উপায়ে প্রতারকরা ইমেইল এড্রেস সংগ্রহ করতে পারে, সেসব নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

কোনো ডাটা লিক এর সময় আপনার ইমেইল এড্রেস লিক হওয়ার মাধ্যমে ইমেইল এড্রেস ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এমনকি এডোবি, লিংকডইন এর মত বড়বড় প্রতিষ্ঠান এসব সমস্যার শিকার হয়। এইক্ষেত্রে নাম, পাসওয়ার্ড, ইমেইল এড্রেসসহ একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হতে পারে। এসব ডাটা লিকে অসংখ্য একটিভ ইমেইল থাকায় স্পামারদের প্রধান টার্গেট থাকে এসব ডাটা লিকে প্রাপ্ত ইমেইল।

কনটাক্ট লিস্ট থেকেও ইমেইল এড্রেস ফাঁস হতে পারে। কেউ যদি আপনার বন্ধুর ইমেইল এড্রেস ও পাসওয়ার্ড জেনে ফেলে, সেক্ষেত্রে কনটাক্ট লিস্ট থেকে আপনার ইমেইল এড্রেস পাওয়া কঠিন কোনো বিষয় নয়।

জিমেইল, ইয়াহু এর মতো জনপ্রিয় ইমেইল সার্ভিসগুলোর প্রায় সকল কমন ইউজারনেমেই একটিভ ব্যবহারকারী থাকে। যার ফলে র‍্যানডম ইমেইল জেনারেটর ব্যবহার করেও কেউ আপনার ইমেইল পেয়ে যেতে পারে।

আমরা বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইটে একাউন্ট খোলার সময় কিংবা নিউজলেটার পাওয়ার জন্য ইমেইলসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করে থাকি। এখন এর মধ্যে যেকোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের মেইলিং লিস্ট অসৎভাবে কারো কাছে বিক্রি করে দেয়, সেক্ষেত্রে অকারণে স্পাম ইমেইল এর শিকার হতে পারেন।

স্প্যাম ইমেইল কি ধরনের ক্ষতি করতে পারে?

স্প্যাম ইমেইল সাধারণত বিরক্তিকর হয়ে থাকে। এগুলোতে অযাচিত বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সেই সাথে কোনো স্প্যাম ইমেইল আপনার অনলাইন একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণও হতে পারে। আপনার অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড তথ্য এসব হ্যাক হয়ে যেতে পারে স্প্যাম ইমেইলের ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করলে।

এছাড়া অনেক স্প্যাম ইমেইল বলতে পারে যে আপনার ফেসবুক একাউন্ট লক করে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক একাউন্ট রিকভারি বা উদ্ধার করার জন্য স্প্যাম ইমেইলে দেওয়া ফাঁদ অর্থাৎ ভুয়া লিংকে গেলে আপনার সচল ফেসবুক একাউন্টটি হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

তবে হ্যাঁ, আগেই যেমনটি বলেছি, কোনো কোনো সময় দুয়েকটি ভাল ইমেইলও স্প্যাম ইমেইল বা জাংক ইমেইল বক্সে চলে যায়। তাই সব সময় আপনি সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুয়া। প্রয়োজনে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে সহায়তা চেয়ে পোস্ট করতে পারেন।

আবার স্প্যাম ইমেইলে থাকা ডাউনলোড লিংক থেকে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে আপনার কম্পিউটার বা ফোনে। সুতরাং অপরিচিত ইমেইলে আসা লিংক ক্লিক করার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।

ক্ষতিকর স্প্যাম থেকে নিরাপদে থাকার উপায়

আপনার যদি একটি ইমেইল একাউন্ট থাকে, তাহলে একবার হলেও স্পাম ইমেইল পেয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ঝুড়িঝুড়ি ইমেইল, সাইন-আপ না করা সার্ভিস থেকে মেসেজ বা বিভিন্ন অভাবনীয় ফ্রি প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনাসহ প্রায় সকল বিষয়ে স্পাম মেইল পেয়ে থাকি আমরা সবাই।

স্পাম ইমেইল একটি বিরক্তিকর বিষয়। এমনকি এটি আপনার ক্ষতি করতেও সক্ষম, কেননা বর্তমানে বেশিরভাগ সময় স্পাম ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন এক্সপ্লয়েট ছড়িয়ে দেয় স্ক্যামাররা।

তবে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ নিয়ে আপনার ইমেইল ইনবক্স যাতে এসব অসহ্য ইমেইল দিয়ে ভরে না যায়, তার ব্যবস্থা করতে পারেন। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে চিরতরে হয়ত এসব ইমেইল বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে স্পাম এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।

এই পোস্টে আমরা স্পাম ইমেইল বন্ধ করার কিছু কার্যকর উপায় সম্পর্কে জানবো। চলুন জেনে নেওয়া যাক স্পাম ইমেইল ব্লক করার কিছু উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত।

ইমেইল এড্রেস গোপন রাখুন

আপনার ইমেইল এড্রেস কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের একটি অংশ। তাই এটি যেখানে সেখানে বা যাকে তাকে প্রদান করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার ইমেইল এড্রেস যথাসম্ভব গোপন রাখুন। বিশেষ করে কোনো পাবলিক ফোরাম বা মেসেজ বোর্ডে আপনার ইমেইল এড্রেস শেয়ার করবেননা, এতে ইমেইল এড্রেসের গোপনীয়তা নষ্ট হয়।

আলাদা ইমেইল ব্যবহার করা

কিছু কিছু ওয়েবসাইট তাদের এককালীন সেবা প্রদানের জন্য ইমেইল এড্রেস চেয়ে থাকে। যদি এসব সাইটে আপনার পরবর্তীতে আর লগিন করার দরকার না হয় তাহলে এক্ষেত্রে একটি টেম্পরারি ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও যেকোনো সন্দেহজনক ইমেইল ভিত্তিক সেবার গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করতেও টেম্পরারি ইমেইল ব্যবহার করা যায়। তবে মনে রাখবেন, এসব টেম্পোরারি ইমেইল এড্রেসগুলো ওয়ানটাইম হয়ে থাকে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টা পর এই ইমেইল এড্রেসে আসা মেইল আপনি আর দেখতে পারবেননা। সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ সাইটের সেবা নিতে এগুলো ব্যবহার করলে পরে সমস্যায় পড়বেন।

ইমেইল ফিল্টার ব্যবহার করা

আপনি যেই ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করুন না কেনো, ইমেইল ফিল্টার ফিচারটি অবশ্যই থাকবে। আপনি যে ইমেইল ক্লায়েন্ট ব্যবহার করছেন, সেটি ব্যবহার করে আপনার ইনবক্সে আসা ইমেইল এর মাধ্যমে ইমেইল ফিল্টারকে ট্রেইন করতে পারবেন। ধরুন, কোনো একটি ইনবক্সে আসা ভুয়া/বিরক্তিকর/ক্ষতিকর ইমেইলকে স্পাম হিসেবে রিপোর্ট করলে পরবর্তী সময়ে নিজ থেকে একই প্যাটার্ন ফলো করে একই ধরনের ইমেইল স্পামে পাঠাতে পারে স্পাম ফিল্টার। এছাড়াও সাধারণ ইমেইল যদি স্পামে জমা হয়, সেক্ষেত্রেও স্পাম থেকে উক্ত ইমেইল বের করে স্পাম ফিল্টারকে ট্রেইন করতে পারবেন।

স্পাম ইমেইল সেন্ডারকে ব্লক করা

স্পামাররা বিভিন্ন উপায়ে স্পাম ইমেইল পাঠিয়ে থাকে। এই কারণে যে ইমেইল এড্রেস থেকে স্পাম ইমেইল পাঠানো হচ্ছে, সেই ইমেইল থেকে আনসাবস্ক্রাইব করার পরও স্পাম ইমেইল আসতে পারে। তবে একই ইমেইল এড্রেস থেকে বারবার স্পাম ইমেইল পেলে সেক্ষেত্রে উক্ত এড্রেস ব্লক করা ভালো একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে।

স্পাম ইমেইলের রিপ্লাই দিবেন না

রাগের বশে কিংবা বিরক্তির জেরে স্পাম ইমেইলের রিপ্লাই দেওয়ার চিন্তা অনেকেই হয়ত করতে পারেন। তবে ভুলেও এই কাজ করতে যাবেন না। স্পাম ইমেইলের রিপ্লাই আরো নতুন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। রিপ্লাই পেয়ে যখন স্পামার জানতে পারবে যে আপনার ইমেইলটি একটিভ আছে, আরো বেশি করে স্পাম ইমেইল পাঠাতে শুরু করবে।

অপরিচিত ইমেইলের কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না

কোনোমতে স্পাম ইমেইলে থাকা কোনো লিংকে ক্লিক করতে যাবেন না। বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার বা কম দামে ভালো পণ্যের লোভ দেখিয়ে পাঠানো লিংকে তো ভুলেও ক্লিক করবেন না। অনেক সময় Unsubscribe অপশনেও ক্ষতিকর লিংক এড করা থাকে। তাই ভুলেও স্পাম ইমেইলে থাকা কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না।

আশা করি এই টিপসগুলো আপনার কাজে লাগবে। স্প্যাম ইমেইল নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানান! কার্টেসি: বাংলাটেক।

আরও দেখুন:
হ্যাশট্যাগ কি? জেনে নিন হ্যাশট্যাগ কোথায় ও কিভাবে ব্যবহৃত হয়?
গরিলা গ্লাস কি? জেনে নিন গরিলা গ্লাসের পেছনের গল্প এবং কর্মপদ্ধতি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ পোস্ট

উদ্বৃত্ত মূলধনে শীর্ষে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক

করোনাভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ফলে মুনাফা থেকে বাড়তি...

এ সম্পর্কিত আরও