Tuesday, November 30, 2021

সীমিত আকার ব্যাংকিংয়ে সামাজিক দূরত্ব প্রহসন মাত্র

জনপ্রিয় পোস্ট

আপনারা আসলে কী চান? কিভাবে চান? আমরা কী করতে পারি? আর কোনো পেশাজীবি কি এতটা হেনস্থার স্বীকার হয় কখনো? ব্যাংক খোলা রাখতেই হবে। তাহলে ব্যাংকে যাওয়ার পথটা বন্ধ কেন? একটা জাতির করণীয় সুস্পষ্ট হওয়া উচিত। এভাবে দ্বিমুখী নীতিমালায় একটা সমাজ, দেশ চলতে পারে না।

ব্যাংক খোলা থাকবে, সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন দিতে হবে, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দিতে হবে, হাজার রকমের ভাতা দিতে হবে, ব্যবসায়ীদের লেনদেনের সুযোগ দিতে হবে। মোদ্দাকথা, দৈনন্দিন সব কাজই করতে হবে। এটা সীমিত মাত্রা না আকার তা অভিধানের সাথে মিলিয়ে বুঝতে পারছি না।

এখন লক্ষ্য করুন, যদি সুযোগ থাকে যে সংখ্যক গ্রাহক ব্যাংকে ১০.০০ টা থেকে ৪.০০ টার মধ্যে মানে ৬ ঘন্টায় আসার কথা ছিল তারা সবাই ব্যাংকে ১০.০০ টা থেকে ১২.০০ টার মধ্যে আসবে। অর্থাৎ ৬ ঘন্টার গ্রাহক দু ঘন্টায় আসবে। তার মানে সম্ভাব্য করোনা রোগীদের বা ভাইরাসবাহীদের ভীড় সময় সীমাজনিত কারণে তিন গুণ হবে। এ কারণে ব্যাংকারদের সংক্রমণের ঝুঁকি তিন গুণ বেড়ে গেল পূর্ণ দিবস খোলা রাখলে আমি মনে করি এ ঝুঁকি একটু হলেও কম থাকত, কাজগুলো একটু পরিকল্পনা মাফিক ব্যাংকার করতে পারত। সময় কমিয়ে দিয়ে সব কাজ চালু রাখা কেমন সীমিত মাত্রা বুঝতে পারছি না। এই সীমিত মাত্রার ব্যাংকিং ব্যাংকারদের অধিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে নিঃসন্দেহে।

এটা সুস্পষ্ট যে, ব্যাংকারদের ঝুঁকির মধ্য দিয়ে অফিসে আসতে হবে, কাজ করতে হবে। এটা আদেশ, কিন্ত ব্যাংকারদের পথ আটকে দিয়ে কেন? একটা সচেতন রাষ্ট্রকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে সচেতন নাগরিকদের দায়িত্বে নিয়োগ করতে হবে। একটা অসচেতন নাগরিক সমাজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সক্ষম নন। কাজেই সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার কোন ছাপ না দেখাই স্বাভাবিক। আজকে ব্যাংকার পরিচয় দেয়ার পরও আমার রিক্সার হাওয়া ছেড়ে দিয়ে মহান দায়িত্ব পালন করেছেন আমার এক পুলিশ ভাই। তিনি হয়তোবা অনেক বেশি যোগ্যতা বা ক্ষমতা নিয়ে পুলিশ হয়েছেন। তাই বলে কি দাপটটাই দেখালেন প্রভুর মত!

আমার ব্যাংক খোলা না থাকলে ভাইদের দ্বারা এমন অবমূল্যায়নের শিকার হতে হতো না। তারা আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রজাতন্ত্রের নির্দেশকেই পায়ে দলছেন না? মানুষকে অন্তত মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত, মেধা, সচেতনতা ও সদিচ্ছা থাকা উচিত প্রজাতন্ত্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনার সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের।

আমাদের পুলিশ ভাইরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। তারা স্পষ্ট সামাজিক দূরত্বে অবস্থান নিশ্চিত করছেন। ভাল কথা, তাদের কাছে কি বার্তা পৌছে নি যে, ব্যাংক খোলা? পুলিশ ভাইরা কি এ দেশের নাগরিক নন? তাদের পরিচিতজনরা কেউ ব্যাংকে জব করছেন না? তারা কি সরকারী চাকরি করছেন না? তারা আদেশ পালন করছেন, কার আদেশ? প্রজাতন্ত্রের নয় কি? প্রজাতন্ত্রই ব্যাংকারকে রাস্তায় আসতে, অফিস করতে বলেছে এ কথা তারা কেন ভুলে যান? তারা কেন কমনসেন্সের জ্ঞান বিতরণ করেন রাস্তায় নামিয়ে। অনেক বৃদ্ধা, যুবক, মহিলা ব্যাংকারকে দেখেছি রাস্তায় নামিয়ে হেনস্থা করতে। এমনটা হবে কেন? তারা কি বাংলাদেশের নাগরিক নন? তাদের কি স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন ছিল না?

এক দিকে ব্যাংকারকে আসতে বাধ্য করা হবে, অন্যদিকে রাস্তায় রাস্তায় আটকে দেয়া হবে। রিক্সার হাওয়া ছেড়ে দেয়া হবে, গাড়ি আটকে দেয়া হবে? ব্যাংকার বৈমাত্রেয় ভাই না সতীনের সন্তান? পাড়া মহল্লার পোলাপান যেমন অন্য মহল্লায় গিয়ে বিপাকে পড়ে, তেমনই বিড়ম্বনায় পড়ছেন অফিসমুখী ব্যাংকাররা। রাস্তায় রাস্তায় কেন আইডি কার্ড দেখাবার পরও এমন হয়রানির শিকার হতে হবে? তাদের অফিসে যাওয়ার আদেশ, গ্যারেজের রিক্সা বন্ধ রাখার নির্দেশ, মোটর সাইকেলে গা ঘেষে বসা যাবে না, দূরত্ব বজায় রাখতে হবে- এত কিছু এক সাথে কিভাবে চলে? এই মুহুর্তে ব্যাংকারদের মত অসহায়, বিপদগ্রস্ত দেশে আর কোনো শ্রেণি নেই। আর ব্যাংক হয়ে যাচ্ছে করোনা ছড়ানোর কেন্দ্র। আমরা সবই বুঝি কিন্ত একটু দেরি করে বুঝি।

কেমন সামাজিক দূরত্ব? ব্যাংকে গ্রাহকদের ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি চলে এ সময়েও। এই জন্যই কিনা ব্যাংকিং আওয়ার এক ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহকদের কি ব্যাংকে আসা সীমিত রাখা গেছে? তাহলে কি অসীমের মাঝে সীমিত’র অস্তিত্ব খুঁজতে হচ্ছে দিব্য চোখ দিয়ে। সামাজিক দূরত্ব কি এক শ্রেণির সাথে আরেক পেশাজীবির আচরণগত দীনতায় প্রতিষ্ঠিত হলো? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে মানুষকে সেবা দিতে যাচ্ছে তাকে রাস্তায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অমানবিক, অসম্মানজনক আচরণ হজম করতে হচ্ছে। এটা অনেকটা ডেকে এনে অপমান করার মতো। শ্রদ্ধেয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়টার দিকে নজর দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

উপরের ছবিটি লক ডাউন মৌসুমে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখার। কতটা সামাজিক দূরত্ব আছে এখানে আমার পুলিশ ভাইদের কাছে প্রশ্ন।

লেখক:মোশাররফ হোসেন, স্পষ্ট কথন।

সর্বশেষ পোস্ট

উদ্বৃত্ত মূলধনে শীর্ষে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক

করোনাভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ফলে মুনাফা থেকে বাড়তি...

এ সম্পর্কিত আরও