খুব শিঘ্রই কার্যকর হচ্ছে সরল সুদ ও সিঙ্গেল ডিজিট

0

অর্থমন্ত্রী আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, খুব শীঘ্রই ব্যাংকগুলোতে সিঙ্গেল ডিজিট এবং সরল সুদহার কার্যকর করা হবে। এটি সরকার তথা সরকার প্রধানের সিদ্ধান্ত। তবে এটি বাস্তবায়নে কিছু বিলম্ব হচ্ছে আদালতের রায়ের জন্য, যা পাওয়া যেতে পারে আগামী মাসে। এর বাইরেও অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম-অব্যবস্থা-দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন, যা সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। ব্যাংকগুলো আসলেই উচ্চহারে সুদ নেয়। এত বেশি সুদে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করা দুরূহ। আর সে কারণেই সিঙ্গেল ডিজিট তথা নয়-ছয় সুদহার এবং সরল সুদহার কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। দেশে তাহলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্প কারখানা স্থাপনসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি কমে আসবে ঋণখেলাপীর সংখ্যাও। সরকার এটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি)-এর নেতৃবৃন্দ অঙ্গীকার করেছিলেন, যথাসত্বর তারা সিঙ্গেল ডিজিট তথা সরল সুদহার কার্যকর করবেন। এই সুদহার হবে দশ-এর নিচে, আমানত ও ঋণের অনুপাতে ৬-৯-এর মধ্যে। এর বিনিময়ে তারা সরকারের কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধাও আদায় করে নিয়েছিলেন। যেমন- কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো, সরকারী আমানতের অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ বেসরকারী ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি। সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও কোন ব্যাংক অদ্যাবধি তা বাস্তবায়ন করেনি, সিঙ্গেল ডিজিট তো দূরের কথা। ফলে আমানতকারীদের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও বেশ হতাশ হয়ে পড়ছেন। উপরন্তু দ-সুদে নাকাল হচ্ছেন অনেক উদ্যোক্তা। অন্যদিকে প্রায় সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমে যাওয়ায় আমানতকারীরাও হতাশ। সর্বশেষ, অর্থমন্ত্রী মে মাস থেকে সরল সুদ কার্যকর তথা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও তা অদ্যাবধি কার্যকর হয়নি। অথচ ব্যাংকগুলো শেয়ার মার্কেটে অর্থলগ্নিসহ ব্যবসা-বাণিজ্য করে যাচ্ছে অবলীলায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৮-’১৯ অর্থবছরের বাজেটে সুদহার কমাতে ব্যাংকের কর্পোরেট ট্যাক্স আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া কম সুদে সরকারী আমানতের টাকার প্রায় অর্ধেক এখন বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলোতে রাখা হচ্ছে। সুদ কমাতে ব্যাংকগুলোর অন্যান্য খরচ কমিয়ে আনারও পদক্ষেপ রয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এ কারণে ব্যাংক ঋণের সুদ ও আমানতের সুদহার কমানোর কথা। আশা করা হচ্ছে, সরকারী এসব উদ্যোগের ফলে দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি ফিরে আসবে। ইতোমধ্যে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা স্বাগত জানিয়েছেন। এফবিসিসিআই বলছে, ঋণের সুদ কমানোর ফলে নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবে। দেশে শিল্প স্থাপনসহ কর্মসংস্থান বাড়বে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগ মুনাফা বা ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিট বা এক অঙ্কে নামিয়ে আনলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শিল্পঋণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের বর্তমানে সুদ গুনতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। এ ছাড়া ঋণ নেয়ার সময় প্রক্রিয়াকরণ ফিসসহ আরও অন্য যেসব ফি নেয়া হয় তাতে এ হার ২০-২২ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে সুদ বা বিনিয়োগের মুনাফার হার নমনীয়-সহনীয় হওয়া মানেই তা হবে ব্যবসাবান্ধব। ব্যাংকিং খাতে সুবাতাস বয়ে যাক, এটাই সকলের প্রত্যাশা। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা ও কর্মতৎপরতা জরুরী। তবে ঋণের সুদ কমাতে গিয়ে যে আমানতের সুদও কমানো হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোও নানা অজুহাতে ঋণের সুদহার কমাচ্ছে না, এটা দুঃখজনক বৈকি। কালের কন্ঠ।

Leave a Reply