হোমব্যাংকিংস্কুল ব্যাংকিংমুনাফার ওপর অতিরিক্ত কর আগ্রহ হারাচ্ছে স্কুল ব্যাংকিং

মুনাফার ওপর অতিরিক্ত কর আগ্রহ হারাচ্ছে স্কুল ব্যাংকিং

টিন সার্টিফিকেট না থাকায় শিশুদের আমানতের সুদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করছে ব্যাংকগুলো। এ কারণে শিশুদের ব্যাংক হিসাবে টাকা রাখতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অভিভাবকরা। হিসাব থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের স্বাভাবিক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করে নিচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে টাকা জমানোর অভ্যাস কমে আসতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্কুলের ছাত্রছাত্রীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং তাদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্যাংকগুলো। সে আলোকে ১৮ বছরের কম বয়সী একজন শিক্ষার্থী তার জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র এবং সর্বশেষ মাসের বেতন রশিদের সত্যায়িত অনুলিপির মাধ্যমে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে পারেন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পক্ষে পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে হিসাবটি পরিচালনা করতে হয়। সাধারণত পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবক থেকে পাওয়া টাকা, বৃত্তি বা উপবৃত্তির টাকা এ ধরনের হিসাবে জমা হয় এবং হিসাবের মূল সুবিধাভোগীও হিসাবধারীর পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবক। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক বিধায় হিসাবধারীর কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র ও ১২ অংকের ই-টিআইএন থাকে না।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আয়কর অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪-এর সেকশন ৫৩ (এফ) অনুযায়ী ব্যাংকে রক্ষিত আমানতের সুদ বা মুনাফার ওপর ১৫% বা ১২ অঙ্কের ই-টিআইএন থাকা সাপেক্ষে ১০% হারে উৎসে আয়কর কর্তন করতে হয়। যেহেতু স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র ও ই-টিআইএন সার্টিফিকেট নেই, এ কারণে ওই বিধান অনুযায়ী তাদের হিসাব থেকে ১৫% হারে উৎসে আয়কর কর্তন করছে ব্যাংকগুলো। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সুদের ওপর আয়করের পরিবর্তন আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হল।

তা না হলে স্কুল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে অর্থ জমা না করে নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে জমা করতে উৎসাহিত হবেন। আর যদি তাই হয় তবে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব কার্যক্রমটি বাধাগ্রস্ত হবে এবং ছাত্র/ছাত্রীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ার উদ্দেশ্যও ব্যাহত হবে। এ বিষয়ে এনবিআরের মতামত প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে স্কুল ব্যাংকিং হিসেবে শিক্ষার্থীদের জমা টাকার পরিমাণ এক হাজার ৮২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। শিক্ষার্থীদের মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২৪ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৪টি। হিসাব অনুযায়ী, জুন প্রান্তিকের তুলনায় সেপ্টেম্বর শেষে অ্যাকাউন্টের পরিমাণ বেড়েছে মাত্র ০.৭৮% এবং আমানত বেড়েছে ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট