সঞ্চয়পত্র ও ইএফটি সেবা

0
সঞ্চয়পত্র

এক পরিচিত বয়স্ক ভদ্রলোক ফোন দিয়েছেন। কিছুদিন আগে উনার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং পুনরায় কিনতে চান। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের কেনার জন্য উনাকে চেকের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে এবং মুনাফার টাকা তার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি চলে যাবে। এই বিষয়ে পরিষ্কার হওয়ার জন্যই তিনি মূলত আমাকে ফোন দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ
জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিধিমালা সংশোধন
একক নামে ৫০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না
মৃত ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রের টাকা নিয়ে হয়রানি
সঞ্চয়পত্রের সব তথ্য এখন সঞ্চয় অ্যাপে

তাকে যখন বললাম, এখন আপনাকে নগদ টাকা বহন করে সঞ্চয়পত্র কিনতে হবে না, চেকের মাধ্যমে টাকা জমা দিবেন, তিনি বিষয়টি বুঝলেন। এরপর যখন বললাম, আগে তো মুনাফার টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে লাইনে দাঁড়াতে হতো। এখন সেটাও করতে হবে না। নির্দিষ্ট সময় পর পর আপনি যে চেক দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য টাকা জমা দিয়েছিলেন, সেই ব্যাংক হিসাবেই অটোমেটিক মুনাফার টাকা চলে যাবে। তিনি খুব খুশি হলেন। কারণ বয়স হয়ে গেছে। দীর্ঘসময় ভিড়ের মধ্যে অপেক্ষা করা তার জন্য কষ্টকর।

এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন, যখন ৫ বছর হয়ে যাবে, তখন মূল টাকা কীভাবে পাবো? বললাম, সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ যখন শেষ হবে যাবে, তখন মূল টাকাও আপনার একই ব্যাংক হিসাবে ( যে হিসাবে মুনাফা জমা হত) জমা হয়ে যাবে। আপনাকে কিছুই করতে হবে না।

গ্রাহক সঞ্চয়পত্র কেনার সময় অনলাইন সুবিধা চালু আছে, এমন একটি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিবরণ (সঞ্চয়ী/চলতি) সঞ্চয়পত্রের ফরমে উল্লেখ করবেন। এরপর পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে প্রতিমাসে, তিনমাস/পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে তিন মাস অন্তর মুনাফার টাকা গ্রাহক প্রদত্ত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যাবে। গ্রাহককে কষ্ট করে এখন আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভ্রমণ করে সব কাজ ফেলে রেখে ব্যাংকের সঞ্চয়পত্র বিভাগেও আসতে হবে না।

একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সেবার কারণে চুরি, ছিনতাইয়ের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। ষাটোর্ধ এক ভদ্রলোকের ২০ লক্ষ টাকার তিন মাস মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কেনা ছিল। প্রায় নয় মাস তিনি মুনাফার টাকা তুলতে ব্যাংকে আসেননি। মুনাফা বাবদ প্রাপ্ত টাকা নিয়ে যখন তিনি ব্যাংকের বাইরে আসলেন, তখনই ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়লেন। জীবন বাঁচাতে মুনাফা বাবদ প্রাপ্ত দেড় লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইকারীদের দিয়ে দিলেন। ইএফটি ব্যবস্থায় এই সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে। কারণ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা এখন গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। গ্রাহক ইচ্ছা করলে এটিএম কার্ড কিংবা চেক বইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজন মতো টাকা তুলতে পারবেন। বড় অংকের টাকা একসাথে বহন করতে হবে না।

লেখক- রিয়াজুল হক, অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply