করোনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রযুক্তিনির্ভরতা আরো বেড়েছে

0

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরো প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। মহামারী কেটে যাওয়ার পরও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। গত শনিবার মহামারীতে ব্যবসায় ভ্যালু তৈরির উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে তারা এ কথা জানান।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মাদ শিরিন বলেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছে প্রযুক্তি। টিঅ্যান্ডটি বা রেডিও লিংক ব্যবহার করে ২০০৩ সালে আমরা অনলাইন ব্যাংকিং শুরু করি। সে সময় এফডিআর ছিল ৯০ শতাংশ। বাকিটা ছিল কাসা অ্যাকাউন্ট। এখন এটি উল্টো হয়েছে। এটিএমের মাধ্যমে এখন মাসে ৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়। প্রতি মাসে এক লাখ নতুন অ্যাকাউন্ট খুলছে। পসের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। তবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এখনো জনপ্রিয় হয়নি। ৯০ লাখ গ্রাহকের মাধ্যমে মাত্র ৩ লাখ হিসাবধারী এ সেবা ব্যবহার করেন। কভিডে ই-কমার্স লেনদেন ১০ কোটি বেড়ে ৭০ কোটি হয়েছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে অনেকগুলো মার্কেট আছে। আমাদের মার্কেটের ৮০ শতাংশের মতোই ব্যাংক। আর কিছু কিন্তু নেই। পুঁজিবাজারে ইকুইটি, বন্ড এমন কোনো মার্কেটই নেই। বছরজুড়ে আমরা ১৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ দিয়ে আসছি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিদেশী সফটওয়্যার ব্যবহার এখনই বন্ধ করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এটিএম বা ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং, ইন্টার ব্রাঞ্চ ট্রান্সফার—এগুলো সবই বিদেশী ব্যাংক শুরু করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময় আমাদের স্থানীয় সফটওয়্যার নিতে পুশ করছে। কিন্তু সেন্ট্রাল ব্যাংক কী করছে? এখানে অনেক কাস্টমার ইনফরমেশন থাকে। অনেক সিকিউরিটি আমাদের মেইনটেইন করতে হয়। এর জন্য রোবাস্ট আর্কিটেকচার থাকতে হয় কিন্তু। এখনো আমরা সেই লেবেলে যেতে পারিনি। তার পরও আমরা ছোটখাটো অনেক সফটওয়্যার ব্যবহার করি। এজন্য আমাদের আরেকটু সময় লাগবে।

শাহজালাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলছিলাম। কভিড আমাদের জাগিয়ে দিয়েছে। বলেছে, তোমরা ডিজিটালাইজড হও। না হলে সামনের দিন অন্ধকার।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, আমাদের বোর্ড এখন ভার্চুয়াল হয়। পূবালী ব্যাংক নিজেরাই নিজেদের সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, কভিড-১৯ আমাদের একটা ভালো শিক্ষা দিয়েছে। আগামীকালও যদি আমাকে বলা হয়, আমার ফোকাস কি? আমি বলব আইটি। তার পরও যদি বলা হয়, বলব আইটি। কারণ আইটি ছাড়া ব্যাংক বা বিজনেস করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

আলোচনায় সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ অনাগ্রহ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মহামারী পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতিতে আইটিনির্ভরতা বর্তমান সময়ের চেয়ে ৬০-৭০ গুণ বেড়ে যাবে। তিনি ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য হাইব্রিড ক্লাউড, হাইব্রিড কম্পিউটিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যাংকিং ও অপারেশনাল সফটওয়্যারের আধুনিকায়ন এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দেন।

Leave a Reply