ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ করার সুপারিশ

0

করোনা পরিস্থিতিতে স্বস্তি দিতে আগামী অর্থবছরে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। কর হারে সবচেয়ে কম হার ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের কর যেন আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে দেওয়া যায়, তা বিবেচনা করার কথা বলেছে সিপিডি।

প্রিয় পাঠক, ব্যাংকিং ও অর্থনীতি বিষয়ে আপনাদের অপ্রকাশিত লেখা ‘ব্যাংক বার্তা’য় প্রকাশের জন্য আমাদের ই-মেইল করতে পারেন- [email protected]। আমরা আপনাদের পাঠানো লেখার বস্তুনিষ্ঠতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ।

আজ শনিবার এক ভারচুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি। সেখানে এসব সুপারিশ করা হয়।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কিছুটা স্বস্তি দিতে টার্নওভার কর অব্যাহতির সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকায় উন্নীত করা সুপারিশ করেছে সিপিডি। এই মুহূর্তে করপোরেট কর অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এর মানে, করপোরেট কর না কমানোর পক্ষে সিপিডি।

সিপিডি বলছে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। আর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করার প্রস্তাব করেছে সিপিডি। সিপিডি বলছে, কর হার না বাড়িয়ে কর ফাঁকি বন্ধে বেশি মনোযোগী হতে হবে। বিশেষ করে বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিতে হবে।

করদাতারা চলতি বছরের কর যেন আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে দিতে পারেন- সেই প্রস্তাব করেছে সিপিডি। করপোরেট কর অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ সহ আগামী অর্থবছরের বাজেটে চারটি খাতকে প্রাধান্য দেওয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি। খাতগুলো হলো স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। এসব খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার কথা বলেছে তারা।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। ফলে জনগণকে নিজের পকেট থেকে বেশি টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, কর ফাঁকি প্রতিরোধ করতে পারলে আরও বেশি রাজস্ব আদায় হতো। কর-জিডিপি অনুপাত বাংলাদেশে বেশ কম। এটি বেশি হলে করোনা প্রতিরোধের এই সময়ে সরকার আরও বেশি অর্থ খরচ করতে পারত।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা সম্পর্কে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই প্রণোদনার ৮০ শতাংশ টাকা ব্যাংকগুলোকে জোগান দিতে হবে। ব্যাংক খাত এমনিতেই দুর্বল। এখানে ঋণ খেলাপির পরিমাণ বেশি। অনেক প্রভাবশালী ও ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি আছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো—ব্যাংকগুলো প্রণোদনার টাকা দিতে কীভাবে প্রতিষ্ঠান বাছাই করবে। কেননা অতীতের মতো এবারও সুযোগ সন্ধানীরা এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারেন।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের অপ্রয়োজনীয় খরচ যেমন কমানো উচিত, তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ বিনিয়োগে বিরত থাকতে হবে। যেমন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, করপোরেশনগুলোর সম্পদ কেনায় বিনিয়োগ ইত্যাদি।

বাজেটে প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। প্রথম আলো।

Leave a Reply