সপ্তাহে এক দিন তোলা যাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা

0

অফিস বন্ধ থাকার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে পারছিলেন না গ্রাহকরা। ফলে অনেকেই বিপদে পড়ে যান। বিশেষ করে যারা অধিদপ্তরের মনোনীত ব্যাংক থেকে (লিঙ্কড ব্যাংক) সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের ব্যাংক হিসাবে মুনাফা যাচ্ছিল না। অবশেষে ঘুম ভেঙেছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সপ্তাহে এক দিন হলেও অফিস খোলা রাখা হবে। প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে হলেও অধিদপ্তরের কয়েকজন অফিস করবেন।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেকে মুনাফা পাচ্ছেন না বলে খবর এসেছে। এ জন্য একটি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সপ্তাহে এক বা দু’দিন করে অফিস খোলা রাখব। আজই একটি নোটিশ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করছি এরপর গ্রাহকদের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগের সময়ে ব্যাংক খোলা, অতি জরুরি অনেক দপ্তরও খোলা। সঞ্চয়পত্রের অনেক গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে ফিরে আসছেন বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করছিলেন।

মোটা দাগে চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকই দেশে বেশি। এগুলো হচ্ছে- পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা, সঞ্চয় ব্যুরো, ডাকঘর এবং নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্র কিনে থাকেন।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসের শুরুতেই ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে আগের মাসের মুনাফার টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয়ে আসছে। এখন আর কাউকে নগদ টাকা দেওয়া হচ্ছে না। তবে এ মাসে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি।

জানা গেছে, পুরো টাকাই যে আটকে রয়েছে, ব্যাপারটি এমন নয়। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে বা পরে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো থেকে যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তাদের অনেকেই টাকা পেয়ে গেছেন। কেউ লিঙ্কড ব্যাংক থেকে কিনে থাকলে সঞ্চয় অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের নামে টাকা জমা হয় না। ছুটির কারণে অধিদপ্তরের কর্মচারীরা অফিসে আসছিলেন না, কাজটিও হচ্ছিল না।