হোমজব কর্নারক্যারিয়ার টিপসবাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক পদে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক পদে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৮৮ পদে সহকারী পরিচালক (জেনারেল) নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হবে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. রাসেল সরদার ও মো. মাসুদুর রহমান, লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ যেকোনো ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় পাস-ফেল গণিতে ভালো করা-না করার ওপর নির্ভর করে অনেকাংশে। গণিতে সাধারণত ৭০ নম্বর থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের ওপর মোট ২০০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়। বাংলায় সমসাময়িক বিষয়ের ওপর একটি রচনা লিখতে বলা হয়, এর জন্য ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য প্রতিবেদন অথবা ব্যাংক সম্পর্কিত দরখাস্তে ২০ নম্বর। ইংরেজির ক্ষেত্রে ফোকাস রাইটিং বা রচনা লেখায় ৩০ নম্বর।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোর আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি এবং মতামত প্রকাশের জন্য ফেসবুক গ্রুপ টেকনো ইনফো বিডি এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

গণিত:

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ যেকোনো ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় পাস-ফেল গণিতে ভালো করা-না করার ওপর নির্ভর করে অনেকাংশে। গণিতে সাধারণত ৭০ নম্বর থাকে। তবে অনেক সময় ৮০-৯০ নম্বরেরও প্রশ্ন আসে। গণিতের উত্তর সঠিক হলে পুরো নম্বরই পাওয়া যায়। তাই গণিতে ভালো করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সহজ! গণিতের প্রস্তুতির জন্য বাজারের প্রচলিত ভালো মানের এক বা একাধিক বই অনুসরণ করুন। পরীক্ষার হলে এ বিষয়ের জন্য ৪০-৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখুন। উত্তর করতে এর চেয়ে বেশি সময় যেন না লাগে। গণিতের ৫০ শতাংশ প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ আসে, একটু মাথা খাটালেই উত্তর দেওয়া যায়। তাই গণিতে দুর্বল হলেও হাল ছেড়ে দেওয়ার কিছু নেই।

ফোকাস রাইটিং বা রচনা লিখন:

বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি ফোকাস রাইটিং বা রচনা লিখতে আসে। ফোকাস রাইটিংয়ে মোট ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। ফোকাস রাইটিং লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ডাটা, চার্ট, কোটেশন ব্যবহার করলে ভালো নম্বর পেতে সহায়ক হয়। যতটা সম্ভব ডাটা, গ্রাফ, কোটেশন ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এগুলো আগে থেকে বিষয়ভিত্তিক নোট করে পড়তে পারলে ভালো হয়। ইংরেজির জন্য তিন পৃষ্ঠা এবং বাংলার জন্য চার পৃষ্ঠা লিখলেই যথেষ্ট! অতিরিক্ত লেখার চেয়ে পরিমিত গুছিয়ে লেখাই ভালো। সুন্দর শব্দ চয়নটাও গুরুত্বপূর্ণ। নীল অথবা সবুজ রঙের কলম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাইলাইটস করা যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ টপিকস—করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সচল রাখতে সরকারের ভূমিকা/বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব, এসডিজি, মেট্রো রেল, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ, কপ-২৬, রোহিঙ্গা ইস্যু ইত্যাদি। এ ছাড়া অন্য সাম্প্রতিক ইস্যুগুলোও দেখে যেতে পারেন।

প্যাসেজ:

ইংরেজি প্রশ্নে একটি প্যাসেজ দেওয়া থাকে, সে আলোকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। এর জন্য ২০ নম্বর। প্যাসেজ পড়ার আগে প্রশ্নগুলো পড়ে নেওয়াটাই ভালো। তাহলে প্যাসেজ পড়ার সময় মাথায় সেট করা থাকবে কোন কোন তথ্য প্যাসেজ থেকে বের করতে হবে। এরপর প্যাসেজ পড়ে সে আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর করা যেতে পারে। প্যাসেজের প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে অনেকে হুবহু প্যাসেজ থেকে লেখা তুলে দেন। এমনটা না করে প্যাসেজ থেকে তথ্য নিয়ে নিজের ভাষায় ঠিকঠাক লিখতে পারলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়।

অনুবাদ:

যেকোনো চাকরির লিখিত পরীক্ষার জন্য অনুবাদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। প্রায় সব চাকরির লিখিত পরীক্ষায় অনুবাদ আসে। তাই অনুবাদ চর্চা করতে হবে নিয়মিত। অনুবাদে ভালো প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, অর্থনীতি পাতা ও আন্তর্জাতিক পাতার সংবাদগুলো দেখে অনুশীলন করতে পারেন। প্রতিদিন একটি করে প্যাসেজ হলেও অনুবাদের অভ্যাস করা উচিত। অনুবাদের প্রস্তুতির জন্য Translation for competitive Exams বই থেকে বিগত সালের ব্যাংক পরীক্ষার ট্রান্সলেশনগুলো দেখতে পারেন। এরপর অন্যান্য পরীক্ষার অনুবাদ চর্চা করলে প্রস্তুতি আরো পাকাপোক্ত হবে। পরীক্ষার হলে অনুবাদে ২০-২৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখতে পারেন। পরীক্ষায় হুবহু অনুবাদ করতে না পারলে চেষ্টা করুন, যাতে কাছাকাছি অর্থ দিয়ে লেখা যায়। তাহলে অন্তত কম নম্বর হলেও পাবেন!

প্রতিবেদন ও দরখাস্ত:

প্রশ্নে ব্যবসায় সম্পর্কিত প্রতিবেদন কিংবা দরখাস্ত লিখতে বলা হয়। এর জন্য বিগত সালে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে আসা প্রতিবেদন বা দরখাস্ত দেখতে পারেন। মূলত লেখার ফরম্যাট শেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন বা দরখাস্তের বিভিন্ন ধরন আছে। তাই সব ধরনের প্রতিবেদন বা দরখাস্ত লেখার চর্চা করুন। পরীক্ষার আগে অনুশীলন না করার কারণে পরীক্ষার হলে সঠিক ফরম্যাট অনুযায়ী লিখতে পারেন না অনেকেই। অন্যান্য অংশের চেয়ে এটি তুলনামূলক সহজ। তাই একটু চেষ্টা করলেই ভালো নম্বর তোলা সম্ভব। প্রতিবেদন বা দরখাস্ত এক পৃষ্ঠা লিখলেই যথেষ্ট।

আরও দেখুন:
বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
ব্র্যাক ব্যাংক অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার/ ম্যানেজার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

- Advertisment -

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

- Advertisment -

সর্বশেষ পোস্ট

- Advertisment -