বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগ

0

বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার বা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবসা পরিবেশ সহজীকরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার নিয়মটি সহজ করা হলো। এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই এ দেশে স্থাপিত প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে পাওয়া অর্থ অন্য দেশে নিতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি এক সার্কুলারে এ তথ্য জানিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোম্পানির শেয়ারের তিন ধরনের ভিত্তিমূল্য বিবেচনায় অনুমোদন ছাড়া অর্থ নেওয়া যাবে। প্রথমত কোম্পানির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী ‘নিট সম্পদ মূল্য’ পদ্ধতিতে মূল্যায়িত শেয়ার মূল্য বিদেশে প্রত্যাবাসনযোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো মূল্যসীমা নেই। দ্বিতীয়ত শেয়ার মূল্যায়ন প্রতিবেদন না থাকলে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদন ছাড়া বিদেশে নেওয়া যাবে। মূল্যায়ন প্রতিবেদন থাকলে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশে নিতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।

এতদিন কোম্পানি বিক্রি করে অর্থ বিদেশে নিতে হলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টটেন্ট কিংবা মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হতো। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিলে অর্থ বিদেশে পাঠানো যেত। এই অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীসহ দেশের বিনিয়োগ বিশ্নেষকরা দীর্ঘদিন সমালোচনা করে আসছেন।

করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে চীনে অবস্থিত বিদেশি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে স্থানান্তরের জন্য ওইসব দেশ নানাবিধ প্রণোদনা সুবিধা ঘোষণা করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশও নতুন একটি সুবিধা দিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের।

উল্লেখ, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য তিনটি মূল্যায়ন পদ্ধতির আলোকে মূল্যায়িত শেয়ার মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশে পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হতো। ২০১৮ সালে এ ব্যবস্থা এক দফায় সহজ করা হলেও অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়। এখন তা তুলে নেওয়া হলো। এতে ৯৮ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই নিতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বিদেশি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য নিয়ম কানুন, গ্রাহকের পরিচিতি, মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং কর-সংক্রান্ত বিধিবিধান পরিপালন করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অপর এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন ব্যবস্থার হালনাগাদ অবস্থা সম্পর্কে অবহিত না হয়ে কোনো কোনো ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের বিভ্রান্তকর তথ্য দেওয়া হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন দরকার নেই, সেসব ক্ষেত্রেও অনুমোদন নিতে হবে বলে গ্রাহকদের বলা হচ্ছে।

এতে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘নিয়ন্ত্রিত’ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। অর্থনীতির উদারীকরণে এটি এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা। এ অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাকে হালনাগাদ ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত থাকা এবং গ্রাহকদের ইতিবাচকভাবে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Leave a Reply