টিআইবিঃ আসসালামু আলাইকুম। স্মার্টফোনসহ আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির কারণে ইন্টারনেট এখন কমবেশি সবাই ব্যবহার করেন এবং নিজেকে মেলে ধরেন ইন্টারনেটের জালে। কিন্তু আপনি কতটা সচেতন এই মায়াজাল সম্পর্কে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন করতে শুরু থেকেই কাজ করছে বিশ্বের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ও টেক জায়ান্ট গুগল। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু টিপস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গুগলের এই টিপসগুলো অনলাইনে ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

আসুন আজকে জেনে নেই গুগলের সেই টিপসগুলোর আলোকে অনলাইন নিরাপত্তার টিপস ২০১৮

১. প্রতিমাসে একবার হলেও ফেসবুক অথবা ই-মেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা।

২. ফেসবুক ও ই-মেইলে লগইন অ্যাপ্রুভাল দিয়ে রাখুন। রিকভারি ই-মেইল ব্যবহার করুন।

৩. ফেসবুকে কোনো কিছু যাচাই না করে শেয়ার ও কমেন্ট করবেন না। শেয়ারকৃত পোস্টটি মিথ্যা কিংবা ভুয়া হতে পারে।

৪. পরিচিত বা অপরিচিত কেউ কোনো লিঙ্ক দিলে সেখানে যাচাই না করে ক্লিক করবেন না। ক্লিক করলেই আপনার তথ্য চলে যেতে পারে।

৫. উন্মুক্ত জায়গার ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করবেন না। এটি একটি ফাঁদ হতে পারে।

৬. অপরিচিত কেউ আপনার মেইল এ কোনো লিঙ্ক বা ডাউনলোড ফাইল দিলে ক্লিক করবেন না। ডাউনলোড ফাইলে ভাইরাস থাকতে পারে।

৭. আপনার উইন্ডোজ এবং সব সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখুন।

৮. পেইড এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

৯. অনলাইনে যেখান সেখান থেকে কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না। এতে বিভিন্ন ম্যালওয়্যার থাকতে পারে।

১০. সোস্যাল মিডিয়াতে শিশু, মহিলা ও ফ্যামিলির ছবি দিবেন না। কারণ এই ছবি দিয়ে অপরাধীরা আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে।

১১. ফেসবুকে মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল ও জন্মতারিখ অনলি মি করে রাখুন।

১২. সোস্যাল মিডিয়া, ই-মেইল ও জব সাইটে আলাদা আলাদা ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

১৩. সোস্যাল মিডিয়াতে সুন্দর, আকর্ষণীয় ছবি, অ্যাপস দেখলে ক্লিক করবেন না।

১৪. যেখান সেখান থেকে পুরাতন স্মার্টফোন, বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ক্রয় করবেন না। আপনি যে ফোনটি কিনেছেন সেটা দিয়ে হয়তো আগের ব্যবহারকারী অপরাধমূলক কোনো কাজ করেছে।

১৫. সোস্যাল মিডিয়াতে অনলাইনে ডলার কেনাবেচা করার সময় অপরিচিত কারো সঙ্গে লেনদেন করবেন না।

১৬. সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে চুপচাপ থাকবেন না। আপনার পরিবার এবং পুলিশের সহায়তা নিন। অনলাইনে যত তথ্য কম দিবেন ততই আপনার জন্য ভালো।

১৭. আপনার স্মার্টফোন, বিভিন্ন ডিভাইস সাময়িক সময়ের জন্য হলেও অন্যের হাতে দিবেন না।

১৮. ই-কমার্স সাইট বা অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় ভালো করে দেখে নিন সাইটটি বিশ্বস্ত কিনা। না হলে আপনি প্রতারিত হতে পারেন।

১৯. ফ্রি ও পাইরেটেট সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন না। এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

২০. আপনার অফিসের কর্মচারী, কর্মকর্তাদের সাইবার সিকিউরিটির উপর প্রশিক্ষণ দিন।

এই হল অনলাইন নিরাপত্তার টিপস ২০১৮। আশা করি উপরের টিপসগুলো যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমে আপনি আপনার ইন্টারনেট দুনিয়ায় নিরাপদ থাকার ভালো উপায় গুলো সন্ধান পেয়েছেন। উপরের টিপস গুলো অনুসরণ করুন এবং ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply