হোমসাম্প্রতিকব্যাংকে নারী কর্মী ও গ্রাহক উভয়ই বাড়ছে

ব্যাংকে নারী কর্মী ও গ্রাহক উভয়ই বাড়ছে

বর্তমানে রাজধানীর যেকোনো ব্যাংক শাখায় গেলেই দেখা মেলে নারী ব্যাংকারের। আবার গ্রাহকের লাইনে বা ব্যাংক কর্মকর্তার টেবিলের সামনেও নারী গ্রাহকদের সেবা নেওয়ার দৃশ্যটিও স্বাভাবিক। শুধু শাখা নয়, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সব বিভাগেই এখন নারী কর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে। এমনকি কয়েকটি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগও সামলাচ্ছেন নারী কর্মীরা। ফলে পুরো ব্যাংক খাতে নারীদের পদচারণ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

আরও দেখুন: যে ব্যাংকের সাথে লেনদেন না করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশের সব ব্যাংকে নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক আমানত ও ঋণপণ্য। বিশেষায়িত এসব পণ্যের মাধ্যমে নারীরা যেমন ঋণ নেন, তেমনি আমানতও রাখেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে রয়েছে আলাদা নির্দেশনা। ফলে সব মিলিয়ে পুরো আর্থিক খাতে নারীদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

তবে ব্যাংকের শীর্ষ পদে এখনো নারীদের উপস্থিতি হাতে গোনা। এখন বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক ও সরকারি খাতের কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন দুই নারী। তবে দেশীয় ব্যাংকগুলোর তুলনায় বিদেশি ব্যাংকে নারী কর্মীর হার বেশি।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব ব্যাংকে এখন ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর হয়েছে। আবার এই ছুটির কারণে কাউকে পদোন্নতিবঞ্চিত না করারও নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। ফলে ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদের আলাদা ঋণপণ্য চালু করেছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া আগের চেয়ে কিছুটা সহজ হয়েছে। এসব কারণে ব্যাংকে নারী কর্মী যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যাও।

জানা গেছে, ২০২১ সালের জুনে ব্যাংক খাতে মোট কর্মী ছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪। এর মধ্যে নারী কর্মী ছিলেন ২৯ হাজার ৫১৩ জন। অর্থাৎ গত বছর শেষে ব্যাংক খাতের মোট কর্মীর ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল নারী। ২০১৯ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে নারী কর্মী ছিলেন ২৫ হাজার ৭৭১ জন। সেই হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে নারী কর্মী বেড়েছে প্রায় পৌনে চার হাজার। গত জুন শেষে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীর হার ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ, বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোতেই নারী কর্মীর অংশগ্রহণ বেশি। বিদেশি ব্যাংক হলেও সেখানে কর্মরত নারী কর্মীদের সবাই এ দেশেরই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ৫০ হাজার ৫৬৭ জন কর্মীর মধ্যে ৮ হাজার ২৩ জনই ছিলেন নারী। আর বেসরকারি ব্যাংকের ১ লাখ ১৯ হাজার ১১৭ কর্মীর মধ্যে ১৮ হাজার ৭২২ জন নারী। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৩ হাজার ৩০৫ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৮২৮ জন নারী। বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ৩ হাজার ৭৯৫ জনের মধ্যে ৯৪০ জন নারী। এ ছাড়া দেশীয় মালিকানার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের ১৩ শতাংশই এখন নারী। এ দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এ হার ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এদিকে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৬ শতাংশই কর্মীই এখন নারী। সেখানে নারী কর্মীর সংখ্যা ১ হাজার ১৬ ও পুরুষ কর্মী ৫ হাজার ৩৫৪।

জানতে চাইলে ওয়ান ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পারুল দাস বলেন, ‘শিক্ষাজীবনে নারীরা প্রথম দিকেই থাকে। চাকরিতে এসে পিছিয়ে পড়ে অবকাঠামোগত ও প্রাকৃতিক সমস্যায়। কারণ, এখনো দেশে নারীদের উপযোগী কর্মস্থল গড়ে ওঠেনি। এ ছাড়া পরিবার না ক্যারিয়ার—এই প্রশ্নও চলে আসে। এ জন্য দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সেটা ধীরে ধীরে হচ্ছে। সামনে নারীদের আরও শীর্ষপদে দেখা যাবে।’

পারুল দাস বলেন, ‘বিদেশে একজন স্বামী পরিবারকে যে সহায়তা করে, বাংলাদেশে তা ভাবা যায় না। এমনকি বিদেশে থাকাকালে সহায়তা করলেও দেশে এসে করে না। এ জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। তাহলেই সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষকে সমভাবে দেখা যাবে।’

এদিকে ব্যাংক থেকে নারীরা এখন ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ পাচ্ছেন। তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন খাত–সংশ্লিষ্টরা। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের চাহিদা মেটাতে সরকারও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের (এসএমই) ঋণের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য দফায় দফায় এ স্কিমের সুদহার কমানো হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট গঠন করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই ইউনিট চালু করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন নির্দেশনা। ফলে নারী উদ্যোক্তারা এখন ব্যাংকঋণ পাচ্ছেন।

তবে ব্যাংকাররা বলছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে নারী উদ্যোক্তারা কম সুদের ঋণ পাচ্ছেন না। আর উদ্যোক্তারা বলছেন, ব্যাংকাররা নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে আগ্রহী নন। এ কারণে নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ব্যাংকঋণ পৌঁছাচ্ছে না।

তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক নাদিয়া বিনতে আমিন বলেন, ‘সমস্যা হলো ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ ও ২ লাখ টাকার ঋণের জন্য একই ধরনের নথিপত্র প্রয়োজন হয়। আর নারী উদ্যোক্তারা ব্যবসার নথিপত্র সংরক্ষণ করেন না, তাই ব্যাংকের চাহিদামতো জমা দিতে পারেন না। এ জন্য ঋণ কম পাচ্ছেন। তবে এখন ব্যাংকের নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট