সাম্প্রতিক

১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা না থাকলে চেয়ারম্যান-পরিচালক নয়

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নিয়োগে প্রজ্ঞাপন জারি

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এখন থেকে একই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অন্য পদে থাকা ব্যক্তি ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা না থাকলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান-পরিচালক হতে পারবেন না।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

গত ২২ ডিসেম্বর বৃস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে কারা নিয়োগ পাবেন, তা নিয়ে এত দিন কোনো নীতিমালা ছিল না। এ সুযোগে সব সরকারের সময়েই দলীয় লোক কিংবা পছন্দের পেশাজীবীদের সেখানে বসানো হয়েছে। আর এসব লোক নিয়োগের ফলে অনেক কেলেঙ্কারির জন্ম হয়েছে। তাই সরকার নতুন এ নীতিমালা জারি করেছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বহিঃহিসাব নিরীক্ষক, আইন উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, পরামর্শক, বেতনভুক্ত কর্মচারী বা অন্য কোনো পদে গত পাঁচ বছর দায়িত্বে রয়েছেন এমন ব্যক্তি ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান-পরিচালক হতে পারবেন না। এছাড়া কোনো ব্যক্তি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হলে একই সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক হতে পারবেন না।

‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান/পরিচালক নিয়োগ’ নীতিমালায় বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ও পেশাগত দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করার লক্ষ্যে এ নীতিমালা জারি করা হয়। বেসরকারি ব্যাংকে সরকার যেমন পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকে, তেমনি রাষ্ট্র খাতের প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন লোক নিয়োগ দেয়া হবে। পরিচালনা পর্ষদে অর্থনীতি, ব্যাংকিং, আর্থিক বাজার, মুদ্রানীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও ব্যবসায় শিক্ষা, শিল্প ও আইন বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা নিয়োগ পাবেন। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও নিরীক্ষা বোঝার জন্য সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক এবং আইনি বিষয় বোঝার জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদে এক-তৃতীয়ংশ নারী নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের নিয়োগ দেয়া হবে একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে। এছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। কর্মরত কোনো সচিব বা সমগ্রেডভুক্ত ব্যক্তি চেয়ারম্যান-পরিচালক হতে পারবেন না। পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা না থাকলে কেউই চেয়ারম্যান বা পরিচালক হতে পারবেন না। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইব) তালিকাভুক্ত ঋণখেলাপি চেয়ারম্যান-পরিচালক হতে পারবেন না। এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিক নন, জাল-জালিয়াতি করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং আর্থিক খাতের কোনো নিয়ামক সংস্থার বিধিমালা লঙ্ঘনে জড়িত দণ্ডিত ব্যক্তি চেয়ারম্যান-পরিচালক হতে পারবেন না।

নীতিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যানদের নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর এবং পরিচালকদের নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান-পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত নেবে।

আরও দেখুন:
আদায় না হওয়া সুদ আয় হিসেবে দেখাতে পারবে ব্যাংক
তুলে নেয়া আমানত ফের জমা হচ্ছে ব্যাংকে
খেলাপিদের ঋণের বিপরীতে রাখতে হবে অতিরিক্ত প্রভিশন

সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত পরিচালকদের মেয়াদ হবে তিন বছর। কোনো পরিচালক তিন মেয়াদের অধিক ওই পদে থাকতে পারবেন না। তবে তিন বছর পর আবার তিনি পরিচালক পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button