ব্যাংকের তছরুপের অর্থ অনাদায়: শতভাগ প্রভিশন রাখার নির্দেশ

ব্যাংকে সংঘটিত জাল-জালিয়াতি, ডাকাতি, তহবিল তছরুপ প্রভৃতি কারণে যেসব অর্থ খোয়া যায়, সেগুলো পুরোপুরিভাবে আদায় না হওয়া পর্যন্ত এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ওই অর্থকে চিহ্নিত করতে হবে মন্দ বা ক্ষতিজনক সম্পদ হিসাবে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

আরও দেখুন:
দুর্নীতি, উচ্চ ব্যয়ের জেরে লোকসানে ৯ ব্যাংক
স্টার্টআপ ফাইন্যান্সিং স্কিম চালু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

এমনকি সম্পূর্ণ আদায় না হয়ে আংশিক আদায় হলেও অনাদায়ী অর্থের ওপর শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের অর্থকে কোনোক্রমেই অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো যাবে না। প্রটেস্টেড বিল খাতেই দেখাতে হবে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সার্কুলারের বিধিবিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ওই সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাবে শুভংকরের ফাঁকি বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কোনো সম্পদ বা সম্পদ থেকে সুদ বা মুনাফা আদায় না হলে তা নির্ধারিত সময়ের পর সন্দেহজনক মানে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। এরপরও যদি তা আদায় না হয়, তাহলে ১ বা ২ বছর পরে মন্দ বা ক্ষতিজনক হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নানাভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাবে ফাঁকি দিয়ে মুনাফাকে স্ফীত বা কাগুজে মুনাফা দেখাচ্ছিল। এতে ব্যাংকের মুনাফা কৃত্রিমভাবে বাড়লেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকগুলো ফাঁপা হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব সুনির্দিষ্ট করে কোন খাতে সম্পদ, সুদ বা মুনাফা আদায় কতদিনের মধ্যে করতে হবে স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোও সংকটে রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে থেকেই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকে সংঘটিত জাল-জালিয়াতি, ডাকাতি বা তহবিল তছরুপ হলে ওই অর্থ প্রটেস্টেড বিল নামে একটি খাতে রাখতে হবে। এসব অর্থ কোনোক্রমেই অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো যাবে না। কিন্তু ব্যাংকগুলো এসব অর্থ প্রটেস্টেড বিল হিসাবে না দেখিয়ে অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখাচ্ছে।

আন্তঃশাখার লেনদেনের কোনো হিসাব সর্বোচ্চ ২ বছর অসমন্বিত থাকলে তা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ওই হিসাব ২ বছরের বেশি অসমন্বিত থাকলে তা মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক।

ব্যাংকের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের (বিদেশি ব্যাংকে বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের হিসাব) কোনো হিসাব সর্বোচ্চ ১ বছর অসমন্বিত থাকলে তাকে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ১ বছরের বেশি অসমন্বিত থাকলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ আদায় না হলে তা ওই খাতে না দেখিয়ে অন্য খাতে দেখায়। এতে সুদ বাবদ আয় কম হওয়ার চিত্রটি আড়াল করে। ব্যাংকগুলোর এ প্রবণতা রোধ করতে সার্কুলারে বলা হয়, কোনো কারণে ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ ঋণ হিসাবে না দেখিয়ে অন্য খাতে দেখানো হলে তা আবশ্যিকভাবে যথাসময়ে আদায় করে সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। এ সুদ ১ বছরের কম সময়ের মধ্যে আদায় না হলে তাকে সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ১ বছরের বেশি সময় আদায় না হলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কোনো কারণে ঋণের বিপরীতে এ ধরনের সুদ আদায় না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করে সিআইবিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সার্কুলারে। ফলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ গোপন করার প্রবণতা কমে যাবে।

এতে আরও বলা হয়, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ ১ বছরের কম সময়ের মধ্যে অসমন্বিত থাকলে তা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ১ বছরের বেশি হলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। শেয়ার ডিডেভেঞ্চার বেচাকেনার কমিশন, ব্রোকারেজ হাউজের আয় শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন খাতে একই নিয়ম মানতে হবে। অগ্রিম সিকিউরিটি সার্ভিসের আওতায় প্রদত্ত আমানত, বাড়ি ভাড়া, ইউটিলিটি বিল প্রভৃতি সর্বোচ্চ ২ বছরের কম সময়ের মধ্যে অসমন্বিত থাকলে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ২ বছরের মধ্যে সমন্বিত না হলে তা মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অসমন্বিত সঞ্চয়পত্র, ওয়েজ আর্নার্স বন্ড, আর্মি পেনশন ফান্ড, সিভিল পেনশন ফান্ড ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ব্যবসা উন্নয়ন ব্যয়, ভ্রমণ, বিজ্ঞাপন, বেতনভাতা, আপ্যায়ন বিল প্রভৃতি ১ বছরের কম সময়ের মধ্যে অসমন্বিত থাকলে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে ৫০ শতাংশ এবং ১ বছরের বেশি হলে মন্দ হিসাবে চিহ্নিত করে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button