করমুক্ত আয়ের খাতসমূহ

করযোগ্য আয় করলে আয়কর দিতে হয়, অর্থাৎ নিজে আয় করলে আয়ের একটি অংশ সরকারকে দিতে হয়। কিন্তু মজার বিষয়, কিছু কিছু আয় আছে, যা করমুক্ত। এসব আয়ের বিপরীতে কর তো দিতেই হয় না, উল্টো কর অব্যাহতি সুবিধা পাওয়া যায়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক করমুক্ত আয়ের খাতসমূহ সম্পর্কে

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

১. সরকারি চাকরিজীবী করদাতা যদি চাকরির দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো বিশেষ সরকারি ভাতা, সুবিধা বা আনুতোষিক পান;

২. সরকারি বা অনুমোদিত পেনশন;

৩. অংশীদারি ফার্ম হতে পাওয়া মূলধনি মুনাফার অংশ;

৪. ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি বা অনুমোদিত গ্র্যাচুইটি প্রাপ্তি;

৫. প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাক্ট, ১৯২৫ অনুযায়ী উক্ত ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

৬. স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

৭. স্বীকৃত সুপার এ্যানুয়েশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

৮. বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সালের ৪২ নম্বর আইন)–এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্ত অর্থ;

৯. মিউচুয়াল ফান্ড অথবা ইউনিট ফান্ড থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় (সুদ, মুনাফা বা ডিভিডেন্ড);

১০. স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি থেকে নগদ লভ্যাংশ বাবদ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়;

১১. সরকারি নিরাপত্তা জামানতের সুদ, যা সরকার করমুক্ত বলে ঘোষণা করেছে;

১২. রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাগুলোতে পরিচালিত আর্থিক কর্মকাণ্ডের ফলে প্রাপ্ত আয়;

১৩. আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় জারি করা কোনো প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারের সুবিধা গ্রহণকারী করদাতা ব্যতীত অন্যান্য করদাতার রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৫০%;

১৪. আয়ের একমাত্র উৎস ‘কৃষি খাত’ হলে, এ খাত থেকে আয়ের ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত;

১৫. সফটওয়্যার তৈরিসহ তথ্যপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট কয়েকটি খাতের ব্যবসার আয়। খাতগুলো হচ্ছে: সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার অথবা অ্যাপ্লিকেশন কাস্টমাইজেশন, নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন), ডিজিটাল কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট সার্ভিসেস, ওয়েব লিস্টিং, আইটি প্রসেস আউটসোর্সিং, ওয়েবসাইট হোস্টিং, সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিসেস ইত্যাদি।

১৬. হাঁস-মুরগির খামার থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রথম ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘শূন্য’ হারে, পরবর্তী ১০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ৫% হারে এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ১০% হারে কর প্রদেয়।

১৭. হাঁস-মুরগি, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারি এবং মৎস্য চাষ থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রথম ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘শূন্য’ হারে। পরবর্তী ১০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ৫% হারে এবং পরবর্তী ১০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১০% হারে এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ১৫% হারে কর প্রদেয় হবে।

১৮. কতিপয় ক্ষেত্র ব্যতীত ব্যক্তি করদাতার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রয় থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফা;

১৯. হস্তশিল্পজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি থেকে উদ্ভূত আয়;

২০. জিরো কুপন বন্ড থেকে উদ্ধৃত আয়;

২১. ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, পাউন্ড স্টারলিং প্রিমিয়াম বন্ড, পাউন্ড স্টারলিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদ আয়;

২২. পেনশনার সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত সুদ (কোনো করদাতার পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা অতিক্রম না করলে);

২৩. বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে প্রাপ্ত সম্মানী বা ভাতা কিংবা সরকারের দেওয়া কল্যাণ ভাতা;

২৪. সরকারের কাছ থেকে পাওয়া কোনো পদক/পুরস্কার; এবং

২৫. কোনো এলডারলি কেয়ার হোম পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়;

২৬. বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাংলাদেশের বাইরে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশে আনয়ন করলে উক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের বিদেশে উপার্জিত আয়।

করমুক্ত আয় সমূহ করদাতার মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এটি রিটার্নে করমুক্ত আয়ের কলামে প্রদর্শন করতে হবে।

আরও দেখুন:
> টিআইএন থাকলেই আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক
> আয়কর রিটার্ন দেবার সময় যে সাতটি বিষয় মনে রাখা আইনি কারণে জরুরি
> প্রথমবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি কিছু বিষয়

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button