হোমসাম্প্রতিকমার্চেই বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ ইসলামী ব্যাংকের নতুন বেতন কাঠামো, প্রস্তুত আরও ২২টি

মার্চেই বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ ইসলামী ব্যাংকের নতুন বেতন কাঠামো, প্রস্তুত আরও ২২টি

চলতি মার্চ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ইউনিফর্ম (অভিন্ন) বেতন কাঠামোর ন্যূনতম সীমা বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে ১০টি ইসলামী ব্যাংক। ইতোমধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলো সাধারণত প্রতি মাসের ২০ তারিখ থেকে বেতন বিতরণ শুরু করে। ফলে এসব ব্যাংকের আগামী বেতন হচ্ছে নতুন কাঠামোয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।

আরও দেখুন:
ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে সংশোধিত নির্দেশনা

এদিকে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২২টি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছে ব্যাংকগুলো। বাধ্যবাধকতা থাকায় আগামী এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলো নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছে তারা।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

চলতি মার্চ থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাওয়া ব্যাংকগুলো হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, শাহ-জালাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সর্বশেষ ইসলামী হওয়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দাখিল করেন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী এক ব্যক্তি। বর্তমানে এটি নিয়ে শুনানি চলছে। উচ্চ আদালত এ বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে শুনানির তালিকায় ছিল। কিন্তু সেদিন শুনানি হয়নি। শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ এখনও নির্ধারণ করেনি উচ্চ আদালত বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে আদালতে রিট দাখিল করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনার ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি উচ্চ আদালত। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা নেই ধরে নিয়েই এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইউনিফর্ম বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করছে। আদালতের রায় দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে যেহেতু উচ্চ-আদালতে বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলছে; তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা হচ্ছে ৬১টি। এর মধ্যে ৩৩টি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি, বিশেষায়িত ৩টি, ৪৩টি বেসরকারি আর ৯টি বিদেশি শাখার ব্যাংক। দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৩৩টি প্রচলিত ও ১০টি ইসলামী শরীয়াহ অনুয়ায়ী পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মিলিয়ে এসব ব্যাংকের ব্যাংকারদের সংখ্যা এখন এক লাখ ৮৬ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে রয়েছে নিরাপত্তাসহ কয়েকটি খাতে চুক্তিভিত্তিক (আউটসোর্সিং) নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল।

জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোয় সর্বনি¤œ ও সর্বোচ্চ বেতনের মধ্যে ব্যবধান হচ্ছে ৫৮ গুণ। ব্যাংকগুলো নিজস্ব বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দিয়ে থাকে, যা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত। ব্যাংকের সর্বোচ্চ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের মধ্যে বেতনের সামঞ্জস্য থাকলেও প্রবেশকালীন বা সর্বনিন্ম বেতন নির্দিষ্ট করা নেই।

প্রবেশকালীন ব্যাংকারের বেতন যেখানে মাত্র ২৬ হাজার টাকা, সেখানে সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাচ্ছেন মাস শেষে ১৫ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন পদে থাকা ব্যাংকারের চেয়ে সর্বোচ্চ পদধারীর বেতন প্রায় ৫৮ গুণ বেশি। এটি একটি গড় হিসাব। কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন ও সুবিধাদি ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। এসব ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে পদ-বিন্যাস রয়েছে ১৫টি। অর্থাৎ ব্যাংকে এন্ট্রি লেবেল বা প্রবেশকালীন ও সর্বোচ্চ পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মধ্যে পদ পার্থক্য হচ্ছে ১৫ ধাপের।

কিছু ব্যাংক একজন স্নাতক পাস করা তরুণকেও প্রাথমিক অবস্থায় ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছে। এটি ব্যাংকারদের মধ্যে বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়। ব্যাংকারদের মধ্যে বেতনের বৈষম্য কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২০ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকের প্রবেশকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বনিন্ম বেতন নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষ হলে বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা। আর ব্যাংকের অফিস সহায়কদের সর্বনিন্ম বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা।

যা চলতি মার্চ থেকে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। এতে ব্যাংকগুলোর প্রতি বছর আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন। কিন্তু ব্যাংক উদ্যোক্তাদের অনুরোধে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন এক মাস পিছিয়ে আগামী এপ্রিল থেকে শুরু করার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালে লাইসেন্স পাওয়া ও এরপর চালু হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক এন্ট্রি লেভেলে জেনারেল সাইডে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাদি কমপক্ষে ৩৯ হাজার টাকা ও ক্যাশ বিভাগে নিয়োগ পাওয়াদের কমপক্ষে ৩৬ হাজার টাকা দেয়ার লক্ষ্যে মূল বেতন ভাতাদি নির্ধারণ যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে মূল বেতন-ভাতাদি আগামী এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। বাকি বেতন-ভাতাদি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে পরিশোধ করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চাইলে আগামী এপ্রিল থেকে সব বেতন-ভাতাদি কার্যকর করতে পারবে।

শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনারেল সাইডে নিয়োগকৃতদের কমপক্ষে ২৮ হাজার টাকা, ক্যাশ বিভাগে কমপক্ষে ২৬ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করতে হবে। আগের বেতন ও নতুন বেতনের মধ্যে যে পার্থক্য হবে তার কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আগামী এপ্রিল থেকে পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৫০ শতাংশ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দিতে হবে। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে আগামী এপ্রিল থেকে সব বেতন ভাতা পরিশোধ করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বার্তাবাহক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, অফিস সহায়ক বা সমজাতীয় কর্মীদের বেতন-ভাতাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এর মধ্যে বিভাগীয় শহরসহ নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কর্মরতদের বেতন হবে কমপক্ষে ২৪ হাজার টাকা। অন্যান্য জেলা শহরে কর্মরতদের কমপক্ষে বেতন হবে ২১ হাজার টাকা। উপজেলা পর্যায়ে হবে ১৮ হাজার টাকা।

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট