বিশেষ কলাম

রেমিট্যান্স সংগ্রহে নজর দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকঃ হোসেন আখতার চৌধুরী

ডলার সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে রেমিট্যান্স সংগ্রহে নজর দিয়েছে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক। হুন্ডি কমিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে আরও বেশি রেমিঠ্যান্স আনার জন্য বিদেশে কয়েকটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংকটির। বর্তমানে ছয়টি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে ন্যাশনাল ব্যাংক।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হোসেন আখতার চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে চাই। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকটের কারণে শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি স্বাভাবিক রাখতে আমরা রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছি। রেমিট্যান্স আহরণে বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ।

তার পরও আমাদের রেমিট্যান্স অনেকটাই হুন্ডিতে আসছে। ধারণা করা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে যদি ১ টাকা আসে, তাহলে হুন্ডিতে আসে দেড় থেকে দুই টাকা। হুন্ডিতে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে তা আমরা ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে চাই। এ জন্য কাজ করছি।
হোসেন আখতার চৌধুরী বলেন, রেমিট্যান্স সংগ্রহে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, গ্রিসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দেশের বাইরে আরও কয়েকটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান খোলার। রেমিট্যান্সটাকে আমরা সামনে রাখতে চাই। শুধু ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্য নয়; দেশ ও অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য রেমিট্যান্স অনেক বেশি দরকার।

তিনি বলেন, আমরা রপ্তানি বাড়ানোর দিকেও নজর দিয়েছি। রপ্তানি ইউনিটগুলোকে অর্থায়ন করতে হবে। ছোট ছোট তৈরি পোশাক অথবা অপ্রচলিত পণ্যও হতে পারে। এগুলোতে আমরা নজরদারি করছি। বড় বড় ঋণ দিয়ে অনেক বেশি মুনাফা করা গেলেও ছোট ছোট ঋণ দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও বেশি এগিয়ে নেওয়া যায়। আমাদের চেষ্টা সফল হবে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ডিএমডি বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় কিছু যুগান্তকারী ও অভূতপুর্ব সাফল্য অর্জন করেছে এবং সেটা অব্যাহত রয়েছে। দেশি ব্যাংক হিসেবে প্রথম মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড চালু করে ন্যাশনাল ব্যাংক। এটা আমাদের জন্য বিশাল মাইলফলক। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরণও প্রথম শুরু করে ন্যাশনাল ব্যাংক।

হোসেন আখতার চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের অনেক মানুষ ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছে। আমরা বলি আমাদের দেশে ব্যাংক বেশি হয়ে গেছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এখনো অধিকাংশ মানুষ আনব্যাংকড। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা প্রদানে আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে।

আয়তনে ছোট হলেও বাংলাদেশ জাতি হিসেবে অনেক বড়। এই জাতির দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। ইনশা আল্লাহ আমরা সফল হব।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, রপ্তানি আয় এসেছে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। আমদানি ব্যয় পরিশোধ হয়েছে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। প্রায় ৬ হাজার জনের কর্মিবাহিনী দিয়ে ২১৯টি শাখা এবং ৩৩টি উপশাখা থেকে সারা দেশে ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক। কুমিল্লার বুড়িচং এবং নীলফামারীতে আমাদের দুটি নতুন শাখা চালু করা হবে শিগগিরই।

ন্যাশনাল ব্যাকের মোট আমানতের পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ডে দেশের সপ্তম বৃহত্তম ব্যাংক হচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক।

আরও দেখুন: খাদের কিনারে ব্যাংকিং খাত: ইসলামী ব্যাংক থেকে আস্থা নষ্ট করাই আসল উদ্দেশ্য- ০১

হোসেন আখতার চৌধুরী বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক আমানতকারীদের জন্য চালু করেছে ডাবল বেনিফিট স্কিম। সাড়ে আট বছরে জমাকৃত অর্থের দ্বিগুণ প্রদান করা হচ্ছে। ৭ দশমিক ২ শতাংশ সুদে সেঞ্চুরিয়ান আমানত স্কিম চালু করেছে। ৪৫ দিন মেয়াদি সোনার বাংলা স্কিম ও স্বাধীনতা স্কিমের আমানতকারীগণ মেয়াদ পূর্তির আগে টাকা তুলে নিলেও কোনো চার্জ কর্তন করা হয় না। প্রতিটি স্কিমের বিপরীতে ঋণ সুবিধা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button