ব্যাংকিং ব্যবসাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাচ্ছে এমটিবি

বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) ২৩ বছর পূর্ণ করেছে। ব্যাংকটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে ব্যাংকটির সাফল্য ও ব্যাংক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

প্রশ্ন: ২৩ বছর পূর্ণ করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এ দীর্ঘ সময়ে ব্যাংকটির বড় সাফল্যগুলো কী কী?

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান: গত ২৩ বছরে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এমটিবি একটি ভালো ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমটিবির নাম শুনলে মানুষ বিশ্বাস ও আস্থা পায়। ব্যাংকটির যে পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে, তাঁরা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। সবাই জানে এই ব্যাংক ভালোভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়। আমাদের ব্যাংকে বিদেশি অংশগ্রহণও আছে। এ ছাড়া একজন গ্রাহকের যে ধরনের সেবা প্রয়োজন, তার সবই আমাদের রয়েছে। ফলে কাউকে এই ব্যাংকে এসে ফেরত যেতে হয় না। বিদেশিরাও এমটিবিকে সেরা ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ, কখনোই বিদেশি কোনো দায় পরিশোধে এমটিবি বিলম্ব করেনি।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে এমটিবির লক্ষ্য কী?

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান: এখন মানুষ অনেক বেশি ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ব্যাংক ব্যবসাকেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা আলাদা ডিজিটাল ব্যাংকিং বিভাগ গড়ে তুলেছি। নিজস্ব প্রোগ্রামার নিয়োগ দিয়েছি। পাশাপাশি আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এক জোট হয়ে গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: করোনার দুই বছরে এমটিবি কেমন ব্যবসা করেছে। করোনা থেকে কী শিক্ষা নিলেন আপনারা?

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান: করোনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে, গ্রাহককে শাখায় না এনেও কীভাবে সহজে তার কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। করোনার মধ্যে আমাদের কোনো সেবা বন্ধ ছিল না। গ্রাহকদের সেবা পেতে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। সংকটের মধ্যেও কীভাবে সেবা চালু রাখা যায়, তা আমাদের শিখিয়েছে করোনা।

প্রশ্ন: দেশে মূল্যস্ফীতি এখন দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মানুষ ব্যাংকে টাকা রেখে যে সুদ পাচ্ছেন, তা মূল্যস্ফীতির চেয়েও কম। এতে মানুষ কি ব্যাংকে টাকা রাখতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোই-বা কী করছে?

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান: শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বই এখন সুদহার নিয়ে সংকটের মধ্যে যাচ্ছে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন, কারণ আমাদের ঋণের সুদের সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। এ জন্য আমরা খরচ কমাতে আর্থিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে (ফিনটেক) সঙ্গে নিয়ে ঋণ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এতে খরচ কিছুটা কমছে। তবে ডলার কেনার কারণে ৪৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে গেছে। এতে অতিরিক্ত যে তারল্য ছিল, তা কমে এসেছে। আবার সুদহার কম হওয়ায় ঋণের চাহিদাও দিনে দিনে বাড়ছে। ফলে ব্যাংক খাতে তারল্যের ওপর একটা চাপ তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে আমানতের সুদ দিতে গেলে ব্যাংকিং করা যাবে না। সেটি করতে গেলে তহবিল খরচ সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ হয়ে যাবে। তাই আমানত বা তারল্য নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একধরনের টানাটানি শুরু হয়েছে।

প্রশ্ন: সুদহারের পাশাপাশি এখন ডলার-সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেক ছোট উদ্যোক্তা ঋণপত্র খুলতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন?

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান: ২০০৮ সালেও সংকট দেখা দিয়েছিল, তখন বিশ্ববাজারের সঙ্গে আমাদের এতটা সম্পর্ক ছিল না। ২০২২ সালের সংকট অনেকটা বৈশ্বিক। হঠাৎ আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে আমদানির চাপ কিছুটা কমছে। যেকোনো পদক্ষেপে কেউ না কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। পৃথিবীর সব দেশেই সেটি হয়। ব্যাংকগুলো এখন ডলারের আয় পর্যালোচনা করে আমদানি ঋণপত্র খুলছে।

আরও দেখুন:
দেশসেরা ব্যাংকের তালিকায় প্রথম ইস্টার্ন ব্যাংক, ২য় সিটি ও ৩য় ডাচ্-বাংলা

প্রশ্ন: সামনে ব্যাংক খাতে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী হবে বলে আপনি মনে করছেন?

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান: সুদহার, ডলার ও টাকা—এই তিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে ব্যাংক খাতের জন্য। যেসব ব্যাংক এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারবে, তারা ভালো করবে। আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এখন বড় সমস্যা। রপ্তানিকারকেরা কাঁচামাল আনার পর উৎপাদন না করতে পারলে ব্যাংক খাত সমস্যায় পড়ে যাবে। ফলে ব্যাংকগুলোকেও এখন জেনেবুঝে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button