এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ শূন্যের কাছাকাছি

0

করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এজেন্টের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ নেমে এসেছে শূন্যের কাছাকছি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার পাশাপাশি সব ধরনের ঋণ বিতরণের সুদহার বেধে দেওয়াটাও এর অন্যতম কারণ। অন্যান্য ঋণের তুলনায় গ্রামীণ অঞ্চলে দেওয়া ঋণের পরিচালন ব্যয় বেশি। এ কারণেই এজেন্টের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এজেন্টের মাধ্যমে মাত্র ৩০ লাখ টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংক। কিন্তু এক মাস আগেও এর পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ কমেছে ৯৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

যেখানে ব্যাংকের কোনো শাখা নেই বা শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা অধিক ব্যয়বহুল ও লাভজনক নয়, এ রকম দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শহরের চেয়ে গ্রামেই বেশি জনপ্রিয় এজেন্ট ব্যাংকিং। বর্তমানে ২২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৮ হাজার ৪২৯টি মাস্টার এজেন্টের আওতায় ১২ হাজার ৮২টি আউটলেটের মাধ্যমে এই সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ৬৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৩ জন গ্রাহক হিসাব খুলেছেন। এসব হিসাবে জমাকৃত অর্থের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রাহক ছিল ৫২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬৯ জন এবং আমানত স্থিতি ছিল ৭ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ চার মাসে গ্রাহক বেড়েছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৪ জন এবং আমানত স্থিতি বেড়েছে ৯৮৮ কোটি টাকা।

Leave a Reply