আসুন একজন ব্যাংকার হিসেবে গর্ব করি

0

বর্তমানে ব্যাংকার্স ক্লাব, ব্যাংকার্স গ্রুপ, ব্যাংকার্স ফোরাম এরকম হাজারো নামে অসংখ্য গ্রুপ তথা ফেসবুক জুড়ে অনেক ব্যাংকার ভাই বোন মাঝে মধ্যে অবচেতন মনে নিজদের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে নানা রকম হা-পিত্যেশ করেন। ব্যাংকারদের কোন সামাজিক জীবন নেই, কাজের চাপে সর্বক্ষণ পিস্ট, সংসারে সময় দিতে পারেন না, বেতনে পোষায় না হেন-তেন!!

আমি নিজেও একজন ব্যাংকার, তাই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি এই সকল কথাবার্তার সিংহ ভাগই মিথ্যায় ভরপুর, শুধু শুধু প্যানিক সৃষ্টি করার অপচেষ্টা এবং নিজেদেরকে সমাজের চোখে অহেতুক ছোট করার এক নগ্ন প্রয়াস মাত্র!

প্রথমে আসি বেতন-বোনাস প্রসঙ্গে: বাংলাদেশের সরকারী বেসরকারী যে কোন চাকুরিজীবীর বেতনের চেয়ে ব্যাংকারদের বেতন বেশি, এটা সকলেই প্রায় এক বাক্যে স্বীকার করবেন। এর সাথে ইনসেনটিভ বোনাস, ফেস্টিভাল বোনাস, বছর বছর ইনক্রিমেন্ট, নিয়মিত পে-স্কেল, প্রমোশন প্রভৃতি মিলে এক জায়ান্ট ব্যাংকারদের বেতনাদি।

এরপর কাজের চাপ প্রসঙ্গে: আমাদের কাজের চাপ কি একজন ডাক্তার বা পুলিশ অফিসারের থেকে বেশি? আমাদের দ্বায়িত্ববোধ কি একজন জজ, একজন ডাক্তার বা একজন শিক্ষকের চেয়ে খুব বেশি নিতে হয়?

কথার কথা বলি কেহ মাইন্ড কইরেন না- একজন ট্রাফিক পুলিশ, একজন গাড়ির ড্রাইভার, একজন এডভোকেট যে পরিমাণ Mental এবং Physical প্রেসার এ থাকেন- আমাদের কি এসি রুমে বসে অফিস করে সেরকমভাবে প্রেসারে থাকতে হয়?

আমরা যদি রাত নয়টা পর্যন্তও অফিস করি- তবুও অফিস থেকে বের হয়ে আমরা যথেষ্ট সামাজিক জীবন পাই, সপ্তাহে দু’দিন ছুটি পাই, এছাড়াও অন্যান্য ছুটি নিতে পারি (শর্ত প্রযোজ্য)।

তারপর আসে পেশাগত সম্ভ্রমের কথা: ব্যাংকারদের পদমর্যাদা ইনহাউস বা আউটহাউস সবখানে সবসময় একটা স্বকীয়তার মধ্য থাকে। একজন উর্ধতন কর্মকর্তা ও (ধরা যাক একজন ডিএমডি) একজন জুনিয়র অফিসারকে Compliance এবং Regulation এর বাহিরে কোন অর্ডার করেন না, চাইলেও করতে পারবেন না।

এই সিস্টেম এমনই Chain of Command এবং Professionalism মেইনটেইন করে চলে। ব্যাংকারদের বাড়ির জন্য আলাদা করে চিন্তা করতে হয় না, আলাদা করে সঞ্চয় করতে হয় না। বাচ্চাদের পড়াশোনা, বিয়ে-শাদী কিছুই আটকে থাকে না আল্লাহর রহমতে।

এতো কিছুর পরও যারা ফেসবুকে এবং ঘরোয়া আড্ডায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন- “তারা দয়া করে ক্ষান্ত হোন”! প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ হোন!
ব্যাংকের চাকুরী যদি প্যারা মনে করেন তাহলে প্রতি শুক্রবারে যারা ব্যাংকে একটা চাকুরীর জন্য জিহাদে অংশ নিয়ে থাকেন তাদের কথা একটু ভাবুন।

সর্বোপরি আল্লাহর শোকর গুজার বান্দা হোন তিনি আপনার সবকিছুতে বরকত দান করবেন।

বিঃদ্র:- কেহ কষ্ট নিবেন না, ভুল বুঝবেন না। শুধুমাত্র সত্য বিষয়টা আমি ব্যক্ত করেছি।

কার্টেসি: Khalilur Rahman

Leave a Reply