ছাত্রজীবন থেকেই চাকরির প্রস্তুতি

লেখক: ডা. জিদান রহমান, সুইডেন থেকে

ছাত্রজীবনে প্রত্যেকেই স্বপ্টম্ন দেখে থাকে একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে সেটি হয়ে ওঠে না। যে কেউ চাইলে শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তুুলতে পারে। প্রস্তুত করতে পারে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারের জন্য।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

ক্যারিয়ার বাছাই করা বেশ কঠিন কাজ। নিজের পছন্দ-অপছন্দ, দক্ষতা আর সামর্থ্য বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ কারণে সময় নিয়ে ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। না হলে পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

আরও দেখুন: নতুন বছরে চাকরির প্রস্তুতি

ক্যারিয়ার প্রস্তুতি

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই নিজের পছন্দের বিষয় বা আগ্রহের পেশা নিয়ে ভাবনা শুরু হওয়া উচিত। যেমন- ভবিষ্যতে আইন, দর্শন, ভাষা বা সাহিত্যের মতো বিষয়ে পড়ে ক্যারিয়ার গঠন করতে চাইলে এ পর্যায়ে মানবিক বিষয় নিয়ে পড়া ভালো। তেমনি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে মাধ্যমিকে বিজ্ঞান নেওয়া দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে যদি একটু সচেতন থাকা যায়, তাহলে ভর্তি পরীক্ষাও অনেকাংশে সহজ হয়ে যেতে পারে। কী হতে চান আর কোথায় পড়লে কাঙ্ক্ষিত পেশায় যেতে পারবেন- এ প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে পড়াশোনা করলে পরীক্ষা প্রস্তুতিতে ভালোমতো মনোযোগ দিতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেও ক্যারিয়ার নিয়ে নতুনভাবে ভাবা যেতে পারে। আমরা অনেকেই হয়তো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ বা শিক্ষকের বাইরে অন্যান্য পেশা সম্পর্কে জানি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এ ধারণা বদলে দিতে পারে।

ছাত্রজীবনে প্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা শেষ করে আদর্শ ক্যারিয়ার গঠনের। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতির অভাবে অনেকেরই সে স্বপ্ন পূরণ হয় না। তাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলার জন্য ছাত্রজীবন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

নিজেকে জানতে হবে

ছাত্রজীবন থেকেই নিজের সামর্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে এগোতে হবে। আপনি কী হতে চান? কী ধরনের কাজ করতে চান? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তরগুলো ক্যারিয়ার গঠনের শুরুতেই খুঁজতে হবে এবং সে অনুসারে পরিকল্পনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সফল মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া

পৃথিবীতে অনেক সফল মানুষ রয়েছেন। যারা বিভিন্ন বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন। তাঁদের জীবনের কার্যক্রম ও গুণাবলি সম্পর্কে জানতে পারলে অনেক কিছুই শেখা সম্ভব। তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্যারিয়ার গঠনের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারলে আপনি একধাপ এগিয়ে থাকবেন।

অভিজ্ঞদের পরামর্শ

সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচন করতে সংশ্নিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। একজন অভিজ্ঞ মানুষ আপনার ক্যারিয়ার ভাবনাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।

স্ট্রং রাখুন আপনার বেসিক

সিলেবাসে থাকা বিষয়গুলোর বেসিকে জোর দিন। যদি আপনি ইংরেজি গ্রামারে দুর্বল হয়ে থাকেন তাহলে ইংরেজির বেসিক সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রাখুন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় গ্রামার রুল শেখার সময় রুলের অন্তর্গত বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন অনুশীলন করা। আবার যদি গণিতে কাঁচা হয়ে থাকেন তবে অনুশীলন করে সে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠুন।

আপনার যদি তেমন কোনো দুর্বলতা না থাকে তবে ঝালিয়ে নিন বিষয়গুলোর মৌলিক বিষয়। এ জন্য এসএসসি লেভেলের বোর্ডের বই ফলো করতে পারেন। চাইলে টিউশনিও করাতে পারেন। কারণ অন্যকে বুঝালে নিজের দুর্বলতা কেটে যায়।

ক্যারিয়ার বিবেচনায় পড়াশোনা

ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে পড়াশোনার বিষয় নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে ভেবে যারা ক্যারিয়ার গঠনের পথে হেঁটেছেন, তাদের সফলতার হার অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।

মানসিক প্রস্তুতি

নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে মানসিক প্রস্তুতির বিকল্প নেই। তাই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রেখেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।

আরও দেখুন:
বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক নিয়োগ: প্রস্তুতি ও পড়াশোনা
বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে করণীয়

তৈরি করে ফেলুন জীবনবৃত্তান্ত

একজন চাকরিপ্রার্থীর প্রতিচ্ছবি হলো তাঁর জীবনবৃত্তান্ত। যেখানে আপনি নিজেকে তুলে ধরতে পারেন উজ্জ্বলভাবে। ছাত্রজীবনেই আপনি কী কী দক্ষতা অর্জন করেছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ থাকতে পারে জীবনবৃত্তান্তে। আপনার এই জীবনবৃত্তান্ত কর্তৃপক্ষকে আপনার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলবে। জীবনবৃত্তান্ত বাংলা কিংবা ইংরেজি, যে ভাষাতেই হোক না কেন শব্দের ব্যতিক্রমী ব্যবহার আপনাকে আলাদা করে তুলবে বাকিদের চেয়ে।

কৌশলী হতে হবে

ক্যারিয়ার গঠনে সফল হতে কৌশলী হওয়ার বিকল্প নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৌশলী হওয়ার উপায়গুলো আয়ত্ত করতে হবে। অজানা বিষয়গুলো বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনে নিতে হবে।

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠুন

শিক্ষাজীবন থেকে অনেকের মনে নানা ভয় কাজ করে। তাছাড়া আর্থিক অসচ্ছলতা, সামাজিক পরিচয় ইত্যাদির চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। দৃঢ়প্রত্যয়ী হতে হবে, ভয়কে জয় করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া

এক্সট্রা কারিকুলার বা সহশিক্ষা গ্রহণ এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে যুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। এতে আপনি এগিয়ে থাকবেন একধাপ। প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকা পড়ূন প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকের আন্তর্জাতিক, মতামত, সম্পাদকীয় পড়ে ফেলা জরুরি। এগুলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কাজে দেবে।

আরও দেখুন: ছাত্রজীবন থেকেই চাকরির প্রস্তুতি 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button