হোমইসলামী অর্থনীতিব্যাসেল-৩ পরিপালনে ইসলামি ব্যাংকিং

ব্যাসেল-৩ পরিপালনে ইসলামি ব্যাংকিং

ড. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, অফিসার, ইসলামি ব্যাংকিং ডিভিশন, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড।

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবনবিধান। জীবনের যতগুলো দিক ও প্রয়োজন আছে, সব দিক ও প্রয়োজন সম্পর্কে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। অধিকার ও পাওনা যথাযথভাবে প্রকৃত প্রাপককে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুসলিমগণ! আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় আমানত তার হকদারের হাতে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। আর লোকদের মধ্যে ফায়সালা করার সময় ‘আদল’ ও ‘ন্যায়নীতি’-সহকারে ফয়সালা করো। আল্লাহ তোমাদের বড়ই উৎকৃষ্ট উপদেশ দান করেন। আর অবশ্যই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও দেখেন (৪: ৫৮)।’

ব্যাংক হলো এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাভের বিনিময়ে সঞ্চয় (আমানত) গ্রহণ করে এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে মূলধন গড়ে তোলে এবং তা ব্যবসায়ীদের মাঝে ঋণ হিসেবে প্রদান করে। ব্যাংক আমানত গ্রহণ ও ঋণ সেবার বাইরেও সার্ভিস চার্জ বা কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা প্রদান করে।

আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক একটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। অর্থনীতির বিকাশের জন্য প্রয়োজন উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করা। সেই লক্ষ্যে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে হালাল ও পবিত্র করতে এবং সুদের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইসলাম অর্থ ব্যবস্থাপনায় এমন সব নীতিমালা উপহার দিয়েছে, যেগুলো ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও আবিষ্কারের এ আধুনিক যুগেও সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা ইসলামি পন্থায় পরিচালিত করার জন্য মূলনীতি তৈরির চেষ্টা চলছে। এ প্রচেষ্টার সর্বপ্রথম সফলতা হলো ইসলামিক পদ্ধতিতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

ব্যাংকের জন্য পুঁজি বিনিয়োগ আবশ্যক। পুঁজির ওপরেই ব্যাংকের স্থায়িত্ব ও উন্নতি নির্ভরশীল। ইসলামিক ব্যাংক টাকাকে পণ্য না মনে করে বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে, কারণ টাকার কোনো নিজস্ব মূল্য নেই। কিন্তু প্রচলিত ব্যাংকগুলো টাকাকে মূল ব্যবসায়ী পণ্য মনে করে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা করে। ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ হলো আমানতকৃত অর্থ বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করা। আর বিনিয়োগের ফলে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। এই ঝুঁকির পরিমাণ নির্ভর করে কোন খাতে বিনিয়োগ করা হলো তার ওপর। সুতরাং ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগ করা ব্যাংকের প্রধান কাজ। ফলে কম ঝুঁকিসম্পন্ন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর তুলনায় ইসলামি ব্যাংকগুলো এগিয়ে রয়েছে কৌশলগত কারণে। কারণ প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সীমা অসীম, যেহেতু ব্যাংকগুলো উৎপাদনশীল, অনুৎপাদনশীল, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও অন্যান্য যে কোনো খাতে ঋণ বা বিনিয়োগ করতে পারে, কিন্তু ইসলামি ব্যাংকগুলো উৎপাদনশীল ও শরিয়াহ্সম্মত খাত ছাড়া অন্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে না। সুতরাং ইসলামি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সীমা সসীম। ব্যাংক হচ্ছে এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যার মূলধনের তুলনায় দায়ের পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ গুণ বা এর বেশি হয় থাকে। অন্য সাধারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যেখানে ঋণ ও মূলধন অনুপাত ১:১ অনুপাতকে আদর্শ অনুপাত ধরা হয়, সেখানে ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঋণ ও মূলধনের অনুপাত ১০:১ অনুপাতকে আদর্শ অনুপাত ধরা হয়।

আরও দেখুন: ব্যাংকঋণ পেতে ব্যবসায়ীদের যেসব প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন

অনিশ্চয়তা থেকে ক্ষতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাকে ঝুঁকি বলে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগ থেকে ভরিষ্যতে রিটার্নের পরিবর্তনশীলতাকে ঝুঁকি বলে। যখন কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক প্রকল্পে অর্থায়ন করে, তার ফলে যে ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, তার সমষ্টিকে পোর্টফোলিও ঝুঁকি বলে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, কারণ ব্যাংক বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ প্রদান করে। ফলস্বরূপ, পোর্টফোলিও ঝুঁকি গঠনের মাধ্যমে বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস করা ব্যাংকের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ব্যাংকিং কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য ঝুঁকি পরিমাপ করতে হয়। ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হয়। ব্যাংকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হলো প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা। প্রধানত তিনটি ঝুঁকির বিষয়ে ব্যাসেল নীতিমালায় আলোচনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো ক্রেডিট বা ঋণ ঝুঁকি, অপারেশনাল বা পরিচালনাগত ঝুঁকি ও মার্কেট বা বাজার ঝুঁকি। অপারেশনাল বা পরিচালনাগত ঝুঁকির মধ্যে আছে ১. অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক জালিয়াতি, ২. আইন ঝুঁকি, ৩. ক্ষতি, শ্রম ও স্বাস্থ্য, ৪. শারীরিক সম্পদের ক্ষতি এবং ৫. ব্যবসায়িক বাধা। মার্কেট বা বাজার ঝুঁকিগুলো হলো ১. সুদের ঝুঁকি, ২. ইক্যুইটি অবস্থানের ঝুঁকি, ৩. বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি এবং ৪. পণ্য ঝুঁকি। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৫৮ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানুষের আমানতসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের পর তা ফেরত দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাংকের আমানতকৃত অর্থ যাতে তছরুপ না হয়, সে বিষয় এবং উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা ব্যাংকগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।

ব্যাসেল কমিটি:

ব্যাসেল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ব্যাসেল-১, ব্যাসেল-২ ও ব্যাসেল-৩ নামে তিনটি চুক্তি জারি করেছে। ব্যাসেল চুক্তি হচ্ছে ব্যাংকিং তদারকি-সম্পর্কিত ব্যাসেল কমিটি কর্তৃক গৃহীত নীতিমালা ও সুপারিশসমূহ। যেগুলোর মুখ্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য কার্যকরভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ব্যাংকের পুঁজির গুণগত মান রক্ষা করা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ঝুঁকিভিত্তিক পুঁজির সুরক্ষা, স্বল্পমেয়াদি তহবিলের ওপর ব্যাংকগুলোর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা এবং ব্যাংকিং মার্কেটে মারাত্মক সংকট দেখার পর ১৯৭৪ সালের শেষের দিকে জি-১০ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের নিয়ে ব্যাসেল কমিটি গঠিত হয়। গ্রুপ অব টেন ১১টি শিল্পোন্নত দেশ নিয়ে গঠিত, তার মধ্যে সাতটি ছিল ইউরোপীয় দেশ, যথা বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। বাকি দেশগুলো হলোÑকানাডা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী ব্যাসেল শহরে একটি কমিটি গঠিত হয়, যা ‘ব্যাংকিং কমিটি অব ব্যাংকিং সুপারভিশন (বিসিবিএস) নামে পরিচিত। এটি ১৯৮৮ ব্যাসেল চুক্তি নামেও পরিচিত। এই কমিটি গঠনের মূলে ছিল ‘ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্ট’ (বিআইএস) নামক বিশ্বের প্রাচীনতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার সদর দপ্তর ব্যাসেল শহরে এবং এটি ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্যাংকের দুটি শাখা অফিস হংকং ও মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত। ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদস্যসংখ্যা ৪৫। ব্যাসেল কমিটি এখন পর্যন্ত তিনটি ব্যাংকিং পরিচালনা ও মূলধন সংরক্ষণ-সম্পর্কিত নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাসেল-২-এর আলোকে মূলধন সংরক্ষণ ও ঋণ ঝুঁকির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৪ জারি করে, যা ২০০৯ সাল থেকে বাস্তবায়ন করা শুরু হয়। এই ব্যাংকিং প্রবিধানগুলো একসঙ্গে কার্যকর করা হয়নি। এটি কয়েক বছরের একটি প্রক্রিয়া। এই ব্যাংকিং প্রবিধানগুলি ১৯৮০ থেকে ২০১১-এর মধ্যে বিকশিত হয়েছিল বিভিন্ন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে।

আমাদের জানা উচিত, কোন প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো ব্রাসেলসের ‘ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টে ব্যাংক’-এর নেতৃত্বে ‘ব্যাংকিং কমিটি অব ব্যাংকিং সুপারভিশন (বিসিবিএস)’ নামে কমিটি গঠন করে।

ব্যাসেল কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট:

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ (১৯৭৩ সালের ৬-২৪ অক্টোবর) ১৮ দিনব্যাপী চলে, যা ইতিহাসে চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধে ইসরাইলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো অর্থনৈতিক ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে ইসরাইলের বাহিনীকে সাহায্যের কারণে আরব বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করে। ফলে ১৯৭৪ সালের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার থেকে বেড়ে ১২ ডলার পর্যন্ত হয়ে যায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ও পশ্চিমা দেশগুলো রাতারাতি অস্বাভাবিকভাবে মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ে যায় দেশগুলো। অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের (বিশ্বব্যাংক) কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ শুরু করে দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। অপরদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে এই ঋণগুলোর ওপরে এতটাই বেশি সুদ চলে আসে, যেটা পরিশোধ করা ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর সাধ্যের বাইরে চলে যায়। এদিকে ওপেকভুক্ত দেশগুলো তেল বিক্রি বাবদ যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিল, তার উদ্ধৃত্ত অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে জমা রাখে, ফলে ব্যাংকগুলোয় অতিরিক্ত তারল্যের সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো সেই অতিরিক্ত তহবিল বিনিয়োগ করেছিল তখনকার সময়ের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল বিনিয়োগ অঞ্চল লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয়। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সেই ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে পারেনি।

প্রথমে ১৯৮২ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকো ঘোষণা করল তার পক্ষে আর বৈদেশিক ঋণের কিস্তি দেয়া সম্ভব নয়। ফলে ঋণদানকারী ব্যাংকগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ল এবং ঋণের অর্থ সুদে-আসলে আদায় করতে তৎপরতা শুরু করল। ফলাফল হলো আরও ভয়াবহ খারাপ, কারণ অধিকাংশ ঋণই ছিল স্বল্পমেয়াদি। যখন পশ্চিমা দেশগুলো একসঙ্গে ঋণের অর্থ ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করল, তখন সেই ঋণগুলোই আরও উচ্চসুদে শ্রেণীকরণ করে তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো। ওই ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে দেশগুলো তাদের সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত করে ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে লাগল। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে গেল, বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি আর ক্রয়ক্ষমতা হ্র্রাস পাওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ চরমে উঠে গেল। তখন জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিল, যার ফলে ঋণদানকারী ব্যাংকগুলো মূলধন সংকটে পতিত হয় এবং ক্রেডিট বা ঋণ ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবস্থা থেকে ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করার জন্য ব্যাসেল কমিটি গঠিত হয়। বিশ্বের ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপ্রবণ সম্পদের হ্রাসকরণ ও আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু নীতিমালা বা আর্দশ জারি করে, যা ব্যাসেল আদর্শ নামে পরিচিত। ১৯৭৪ সালে গঠিত ব্যাসেল কমিটি দীর্ঘ ১৩ বছর পর ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে প্রথম ব্যাসেল-১ নীতিমালা ঘোষণা করে। (ধারাবাহিকভাবে চলবে)

লেখক: ড. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, অফিসার, ইসলামি ব্যাংকিং ডিভিশন, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড।

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট