Wednesday, October 27, 2021

শঙ্কা ঠেলে অর্থনীতিতে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

আরও পড়ুন

করোনার ধকল সামলাতে সরকার কৃষি খাত চাঙ্গা করতে ৫৫টি ব্যাংকের মাধ্যমে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে বলেছে। এরমধ্যে শুধু ইসলামী ব্যাংক দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অর্থ বিতরণ করেছে। শুধু এই আপদকালীন সময়ে কৃষি খাতই নয়, তৈরি পোশাক, নিত্য খাদ্যপণ্য, পরিবহন, আবাসন খাতে বিনিয়োগেও শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মতো সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, আবুল খায়ের, বিআরবি, বসুন্ধরা, যমুনার মতো দেশের নাম করা শিল্পগ্রুপে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ শীর্ষস্থানে। আমদানি-রপ্তানি ও রেমিটেন্সে সবার উপরে।

শঙ্কার মধ্যে ১৯৮৩ সালে যাত্রা করে বর্তমানে প্রায় উপজেলার সমতল, পাহাড়, হাওড়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবার হাত বাড়িয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছরে সুবর্ণজয়ন্তীতে অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে। বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণেও স্থান করে নিয়েছে। কারণ বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ ইসলামী ব্যাংকের। গ্রাহক এক কোটি ৬০ লাখ। সরকারের সার্বিক সহযোহিতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ ব্যাংকের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার হাত বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতার ৫০ বছরে সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলের খ্যাতি অর্জন করেছে। ভঙ্গুর দেশের জায়গায় বর্তমানে সারা বিশ্বে মডেল। ২৬ মার্চ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক শুভেচ্ছা বার্তায় বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল দেশ বলে মন্তব্য করেছেন। শুধু বরিস জনশনই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন, আমদানি-রপ্তানি ও রেমিটেন্স আয়ে দেশের ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ও পাঁচটি নন-তফসিলভুক্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এইসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি কনভেনশনাল ব্যাংকের সাথে ১০টি শরিয়াভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকও রয়েছে। এরমধ্যে চার দশকের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ পর্যায়ে স্থান করে নিয়েছে। ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করে এ ব্যাংকটির শুরু করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার। তার অংশবিশেষ আইডিবি সনদে সই করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের ১৩ মার্চ বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের পথচলা শুরু হয়েছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ইসলামী ধারার ব্যাংক হিসেবে। প্রথমে অনেক শঙ্কার মধ্যেই এ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছিল। কিন্তু মুসলিমপ্রধান দেশ হওয়ায় প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে শরিয়াভিত্তিক এ ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন গ্রাহকরা। এটাকে অনুসরণ করে বর্তমানে গড়ে উঠেছে এক্সিম, ফাস্ট সিকিউরিটি, এসআইবিএল, আল-আরাফাসহ ইসলামী ধারার ১০টি ব্যাংক। এছাড়া দেশের প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের শাখা ও উইন্ডো খুলছে। দিন বদলের সাথে সংখ্যাও বাড়ছে। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ ইসলামী ধারায় চলছে। তাতে শীর্ষে পৌঁছার সুযোগ করে নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

বেসরকারির মধ্যে বিনিয়োগে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

চার দশকের ব্যবধানে এ ব্যাংকটি বর্তমানে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। অর্থনীতিতে অবদান রাখতে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে। কারণ সারা দেশে নিত্যপণ্য উৎপাদন, বিপণন থেকে শুরু করে আবাসন, পরিবহনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মতো দেশের নামকরা এস আলম গ্রুপ, আবুল খায়ের, বিআরবি, বসুন্ধরা, যমুনার মতো দেশের বৃহৎ শিল্পগ্রুপে বিনিয়োগ করে সুনামের সাথে এ পর্যায়ে এসেছে ইসলামী ব্যাংক। শুধু তাই নয়, বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে পৌঁছে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নাসা গ্রুপ, নোমান গ্রুপের মতো বৃহৎ কর্পোরেট গ্রুপেও বিনিয়োগে এগিয়ে। এভাবে প্রায় চার দশকের পথচলায় দেশের বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বেশি এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের হাত ধরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৪ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের ৩৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের হাত ধরে গড়ে উঠেছে। টেক্সটাইল খাতের ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ব্যাংকটির বিনিয়োগে। বিশ্বের বৃহৎ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে তহবিল এনে বিনিয়োগ করছে ইসলামী ব্যাংক। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল উজ্জ্বল ভাবমূর্তির কারণেই এটি সম্ভব হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

আমানতেও শীর্ষে

হাঁটিহাঁটি পা পা করে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশার ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ। অনেক ব্যাংকে ধস নামলেও সবার আন্তরিকতায় ডিপোজিটে অনেক এগিয়ে গেছে। ২০১৭ সালে ডিপোজিট ৭৫ হাজার কোটি টাকা ছিলো। বর্তমানে গ্রাহকরা ব্যাংকটিতে জমা করেছেন এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার আমানত। তিন বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে শুধু এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ডিপোজিট হয়েছে। এর সাথে দুই হাজার ২০০টি এজেন্টও যুক্ত। এরাও এক প্রকারের ব্যাংকিংয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত। কারণ গ্রামাঞ্চলের যেখানে শাখা নেই সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হিসাব খুলে টাকা জমা ও তোলারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি ও কর্মমুখী জীবনের সুযোগ করায় সম্পদের দিক থেকে এ মুহূর্তে দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

আমদানি- রপ্তানি ও রেমিটেন্সেও শীর্ষে

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। শুধু ২০২০ সালেই ব্যাংকটির মাধ্যমে আমদানি হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকার পণ্য। প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক আমদানি বাণিজ্য করেছে চার লাখ ৭০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। গত বছর সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে ব্যাংকটির মাধ্যমে। আর প্রতিষ্ঠার পর থেকে রপ্তানি করেছে দুই লাখ ৯২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। গত বছর প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ৪৯ হাজার কোটি টাকা। আর শুরু থেকে আহরণ করেছে তিন লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। বিশ্বের ৬১১টি করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া ১৪৭ প্রতিষ্ঠানের সাথে ইসলামী ব্যাংকের রেমিটেন্স অ্যারেঞ্জমেন্ট রয়েছে। বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আনতে ইসলামী ব্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরে ২১ জন প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজ করছে। এভাবে বিভিন্ন উদ্যোগে এ ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি আসছে রেমিটেন্স। দেশের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রেমিটেন্স আহরণের মাধ্যমে রেকর্ড বিজার্ভেও ভূমিকা রাখছে ইসলামী ব্যাংক।

আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স মিলিয়ে গত বছর ইসলামী ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া অন্যান্য বৈদেশিক ব্যাংকের রেফারেন্স ব্যাংক হিসেবেও কাজ করছে।

আবাসন ও পরিবহন বিনিয়োগেও শীর্ষে

শুরুতে শঙ্কার মধ্যে থাকলেও গ্রাহকের আস্থা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগ্য নেতৃত্বে সব ব্যাংককে ছাপিয়ে শীষে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করায় দেশে ছয় হাজারের বেশি শিল্প-কারখানা ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। আবাসন খাতের বিনিয়োগে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার ১০ শতাংশের বেশি। প্রায় ১১ লাখ মানুষের আবাসন নিশ্চিত হয়েছে এর বিনিয়োগে। দেশের পরিবহন খাতের মোট বিনিয়োগের প্রায় ১৮ শতাংশ মার্কেট শেয়ার ইসলামী ব্যাংকের। এ ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত রেজিস্টার্ড যানবাহনের সংখ্যা বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি। মুসলিমদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের অনুসারীরাও ইসলামী ব্যাংকে ঝুঁকছে। কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অন্তত ১০ শতাংশ অমুসলিম। ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণ করেই অন্য ধর্মাবলম্বীরা এ ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। শ্যামলী পরিবহনের মালিকও এই ব্যাংকের বিনিয়োগে বাড়িয়েছেন পরিবহন ব্যবসা। শুধু সড়কে নয়, ৪২১টি নৌ-পরিবহনে রয়েছে বিনিয়োগ। এছাড়া পাঁচটি উড়োজাহাজেও বিনিয়োগ রয়েছে।

শহরের মতো গ্রামের উন্নয়নেও ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে গড়ে উঠেছে দুই হাজারের বেশি কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ২৬টি পাটকল পরিচালিত হচ্ছে এ ব্যাংকের অর্থায়নে। ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্যের ১৭ শতাংশ উৎপাদিত হয়। বেসরকারি পর্যায়ে সার আমদানিতেও ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়ন সর্বোচ্চ। পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য অর্ধশতাধিক কোল্ড স্টোরেজে অর্থায়ন করেছে ব্যাংকটি। ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে স্থাপিত হয়েছে ৮৫২টি অটো রাইস মিল। দেশের প্রথম অটো রাইস মিল ও রাইস ব্র্যান অয়েল মিল (ধানের তুষ থেকে ভোজ্য তেল তৈরির কারখানা) স্থাপনে প্রথম অর্থায়ন করেছে ব্যাংকটি।

শুধু শহরে নয়, ১৯৯৫ সাল থেকে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসলামী ব্যাংক। এ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির বিস্তৃতি হয়েছে দেশের ২৫ হাজার ৭৭৪ গ্রামে। প্রকল্পটির ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন ১৩ লাখের বেশি গ্রাহক। এ প্রকল্পের অধীনে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণগ্রহীতাদের ৯২ শতাংশই নারী। এছাড়া গরিব, দুস্থ, অসহায় মানুষের কল্যাণে ১৯৮৪ সালে ‘সাদাকাহ ফান্ড’ গঠন করে ইসলামী ব্যাংক। পরে কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রম শুরু হলে ব্যাপকভিত্তিক কাজের জন্য ‘ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর অধীনে ১৯টি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্নমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

প্রণোদনা প্যাজেকেও ইসলামী ব্যাংক

করোনা-১৯ মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ঘোষণা করা প্রণোদনা প্যাকেজের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এর মাধ্যমে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, পোশাক খাতসহ অন্যান্য শ্রমঘন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা পেয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী সব প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

ইসলামী ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছর পরই ১৯৮৬ সালে মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুনিরুল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা, জোনপ্রধান, প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন উইং ও ডিভিশনপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে এএমডি থেকে গত ১ জানুয়ারি থেকে শীর্ষ পদে অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একান্ত প্রচেষ্টায় সাফল্যে পৌঁছা সম্ভব হয়েছে। এরমধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলারও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কারণ প্রায় শুরু থেকে অভিজ্ঞদের সাথে কাজ করতে করতে এমডির দায়িত্ব পেয়ে নিজেকে যোগ্য কর্মকর্তার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানান। দেশ-বিদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সম্প্রতি তিনি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ফ্যাক্টরস চেইন ইন্টারন্যাশনালের (এফসিআই) ‘ডমেস্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরিং’ শীর্ষক সম্মানজনক সার্টিফিকেটও অর্জন করেছেন।

এই ব্যাংকের মতো দেশে অন্যান্য ১০টি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক চালু হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন ও সরকারের নিয়ম মেনে দেশ-বিদেশে প্রথম থেকেই বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে ব্যতিক্রম ধারায় স্থান করে নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এমনকি ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনে অনেকেই শঙ্কায় ছিলেন। বিভিন্ন মহলে ব্যাংকটি পতনের দিকে যেতে পারে বলেও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছিল। সুশাসন ও বিনিয়োগের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি থেকে গ্রাহকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু সরকারের সার্বিক সহযোগিতায়, ব্যবস্থাপনার যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় পাল্টে গেছে শঙ্কিত মানুষের ধারণা। সুদক্ষ, অভিজ্ঞ, নিষ্ঠাবান পরিচালনা পর্ষদ, শরিয়াহ্ সুপারভাইজারি কমিটি ও ১৮ হাজার লোকবলের প্রচেষ্টায় গতকাল ৩০ মার্চ ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply

সাম্প্রতিক পোস্ট

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন