ফাইভ জি সুবিধা, চার্জারবিহীন ফোনের অভিনব মডেল আইফোন ১২

0

নতুন বছর মানেই নতুন আইফোন। করোনা মহামারির কারণে এবার কিছুটা দেরি হলেও আইফোনের নতুন সংস্করণ নিয়ে হাজির হয়েছে অ্যাপল। এই প্রথম ফাইভ জি নেটওয়ার্কের উপযোগী ফোন তৈরি করল অ্যাপল। আইফোন ১২ নামে সর্বশেষ এই সংস্করণের চারটি মডেল বাজারে নিয়ে এসেছে মার্কিন এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মডেলগুলো হলো- আইফোন ১২, আইফোন ১২ মিনি, আইফোন ১২ প্রো এবং আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স ।

বিবিসি জানায়, নতুন এই ফোনটির পাঁচ দশমিক চার ইঞ্চি স্ক্রিনের একটি ‘মিনি’ মডেল থাকবে।

গত মঙ্গলবার অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক হোমপড মিনি ডিভাইস উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনলাইন ইভেন্ট শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘ডাউনলোড ও আপলোডের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে ফাইভ জি।’

আইফোন ১২ এ নতুন পাঁচ ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি এ১৪ বায়োনিক চিপ ব্যবহার করেছে অ্যাপল। এর ফলে আইফোন ১১ সিরিজের চেয়ে বেশি গতি ও গ্রাফিক্স পাওয়া যাবে আইফোন ১২ এ। এছাড়াও আইফোন ১২ সিরিজের সঙ্গে নতুন ‘ম্যাগসেইফ’ ফিচারও এনেছে অ্যাপল। ডিভাইসটির পেছনে চুম্বক পাত যোগ করা হয়েছে, যার ফলে গ্রাহক ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাডে ডিভাইসটি সহজে সঠিক স্থানে বসাতে পারবেন।

আইফোনের নতুন মডেলের প্রান্তগুলো আগের মডেলগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত তীক্ষ্ণ হবে বলে জানানো হয়েছে।

চার্জারবিহীন ফোন:
প্রথমবারের মতো আইফোনের সঙ্গে কোনো চার্জার কিংবা হেডফোন দেওয়া হচ্ছে না। অ্যাপল জানিয়েছে, পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, আইফোন ১২ প্রো মডেলের স্ক্রিন তুলনামূলকভাবে বড় হবে ও কম আলোয় ছবি তোলার জন্য নতুন সেন্সর ব্যবহার করা হবে।

সিরামিক শিল্ড:
আইফোন ১২ এ আগের মডেলগুলোর মতো ছয় দশমিক এক ইঞ্চি স্ক্রিন থাকছে। তবে সেটগুলোর জন্য এলসিডির বদলে ওএলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে অ্যাপল। এ কারণে নতুন আইফোন আগেরগুলোর তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি সরু।

নতুন সেটের স্ক্রিনে বেশি রেজুলেশন ও ডিসপ্লের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘সিরামিক শিল্ড’ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে হাত থেকে পড়ে গেলে আগের চেয়ে ‘চার গুণ কম’ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ডেপথ সেন্সর:
আইফোন ১২ এর দামী মডেলগুলোতে বড় আকারের ডিসপ্লে রাখার জন্য সেগুলোকে নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে। আইফোন প্রোয়ের স্ক্রিন পাঁচ দশমিক আট ইঞ্চি থেকে ছয় দশমিক এক ইঞ্চি এবং প্রো ম্যাক্সের স্ক্রিন ছয় দশমিক পাঁচ ইঞ্চি থেকে ছয় দশমিক সাত ইঞ্চি।

এছাড়াও সেটগুলোতে ‘লিডার’ (লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং) স্ক্যানার সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি ব্যবহারে ফোনের আশেপাশের পরিবেশের জন্য একটি ডেপথ ম্যাপ তৈরি হয়, এতে কম আলোতে অটো ফোকাস ‘ছয় গুণ দ্রুত’ করা সম্ভব হয়।

ফাইভ জি:
২০১৯ সালে স্যামসাং ফাইভ জি নেটওয়ার্কের সুবিধাসহ গ্যালাক্সি এস ১০ বাজারে আনে। এছাড়াও হুয়াওয়ে, ওয়ান প্লাস এবং গুগলও ফাইভ জি ফোন বাজারে ছাড়ে।

এর প্রায় এক বছর পর ফাইভ জি নেটওয়ার্কের ফোন বাজারে আনলেও অ্যাপেলের আইফোন ১২ নিয়ে গ্রাহকের আগ্রহের যেন শেষ নেই।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের টমাস হাসন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অ্যাপল সাধারণত নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনে না। তারা একটি প্রযুক্তিতে পরিপক্ব হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে সেই প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করে। ফলে তাদের আইফোনে সুবিধাগুলোকে ঘিরে গ্রাহকের অন্য ধরনের আকর্ষণ কাজ করে।’

স্মার্ট স্পিকার:
নিজেদের স্মার্ট স্পিকার ‘হোমপড মিনি’র একটি নতুন ভার্সনও বাজারে ছেড়েছে অ্যাপল। এটি আরও ব্যাপক পরিসরের ভয়েস কমান্ড সমর্থন করে। পাশাপাশি এটিতে একটি হোম ইন্টারকম সিস্টেমও রয়েছে। অ্যাপলের প্রথম হোমপড ২০১৮ সালে বাজারে ছাড়া হলেও এখন পর্যন্ত অ্যামাজন ও গুগলের স্পিকারের তুলনায় এটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সেরা বিক্রয়কৃত স্মার্টফোন ব্র্যান্ড আইফোন। মার্কেট শেয়ারের দিক থেকে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।

Leave a Reply