আর্থিক খাতে অদৃশ্য শক্তি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়াতে হবে

দেশে এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ খাতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, লুটপাট ইত্যাদি বেড়েছে। ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও অর্থ পাচার। নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেও এসব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কী এর কারণ? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আর্থিক খাতে যত অনিয়ম-দুর্নীতি-এর সবকিছুর পেছনে কলকাঠি নাড়ে একটি অদৃশ্য শক্তি।

আরও দেখুন:
আমানত ও ঋণ দুই বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে
গণমানুষের ভাষায় পরিচালিত হোক ব্যাংক-বিমা
ব্যাংক আমানতের এত টাকা গেল কোথায়!

আর্থিক খাতে অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দৃশমান কোনো প্রমাণ নেই। ফলে তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই অদৃশ্য শক্তি বা চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আর্থিক খাতের আরও ক্ষতি হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। আমরাও মনে করি, এ ব্যাপারে সরকারের বিশেষভাবে নজর দেওয়া উচিত।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক খাতে জাল-জালিয়াতি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে তা কতটা ভোগ করতে পারছে, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। আমরা মনে করি, আর্থিক খাতে জাল-জালিয়াতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা আরও বাড়ানো উচিত এবং এ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। কারণ অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতিসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবশ্যই এর আইনি কাঠামোর আওতায় ক্ষমতা প্রয়োগে সক্ষম হতে হবে।

আমরা জানি, খেলাপি ঋণ কমাতে ইতঃপূর্বে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-জাল-জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণসাপেক্ষে একক ক্ষমতায় কোনো ব্যাংককে ‘অবসায়ন’ বা ‘লিকুইডেশন’ করা, এমডির নিচের দুই স্তরের কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে আগাম অনুমতি নেওয়াসহ এসব পদের কোনো কর্মকর্তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া অব্যাহতি, বরখাস্ত বা অপসারণ না করা ইত্যাদি। আশা করা হয়েছিল, এসব পদক্ষেপের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যাংক খাতে এখনো অব্যাহত আছে খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচারসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক পরিচালকরা ভাগাভাগির মাধ্যমে নিজেদের ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে যে ঋণ নেন, সেসবের অধিকাংশই আর ফেরত আসে না। এর ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, যা অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে।

তাই অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের যে ব্যাংকিং বিভাগ চালু আছে, তা বিলুপ্ত করা দরকার। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। মনে রাখতে হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘অভিভাবক’।

কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হলে তার দায় পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর। কাজেই ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। যুগান্তর।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button